কমছে দারিদ্র্য, কমেনি ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা

20131014-111356.jpg

14 Oct, 2013 স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ’উন্নয়ন অন্বেষণ’র সমীক্ষা অনুযায়ী বাংলাদেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা যে হারে কমছে, ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা সে হারে কমছে না এবং এই হ্রাসের হারে মন্থরগতি লক্ষ্যণীয়।

‘বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০১৩’ উপলক্ষ্যে প্রকাশিত ’বাংলাদেশের দারিদ্র্য, ক্ষুধা, পুষ্টি ও খাদ্য উৎপাদন’ শীর্ষক এক গবেষণায় এ তথ্য দেয়া হয়েছে।

১৯৯১-৯২ সালে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৩৭.৯ শতাংশ থেকে কমে ২০১২ সালে ২৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ বার্ষিক কমার হার ১.৭৯ শতাংশ। অপরদিকে, ১৯৯১-৯২ সালে চরম দারিদ্রসীমার নিচে ৫৬.৭ শতাংশ লোক বাস করত, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ খানা জরিপ (২০১০ সাল) এর তথ্য ভিত্তি করলে ২০১২ সালে দারিদ্র্য কমে ২৯.৯৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

যদিও অপুষ্টি প্রতিবছর কমছে, প্রতিষ্ঠানটি পর্যবেক্ষণে, নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে এই কমার হারের ক্ষেত্রে শ্লথ গতি লক্ষ্য করা গেছে। সবচেয়ে কম আয়ের মহিলাদের মধ্যে অপুষ্টি ২০০৪ সালে ৪৭.১ শতাংশ থেকে বার্ষিক ২.৬২ শতাংশ হারে কমে ২০০৭ সালে ৪৩.৪ শতাংশ দাঁড়িয়েছে।

নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে কম ওজন সম্পন্ন শিশুর সংখ্যা ২০০৪ সালে ৫৯.৩ শতাংশ থেকে বার্ষিক ২.১৭ শতাংশ হারে কমে ২০০৭ সালে ৫০.৩ শতাংশ হয়েছে। যেখানে উচ্চ আয়ের মানুষের মধ্যে কম ওজন সম্পন্ন শিশুর সংখ্যা ২০০৪ সালে ৩০.২ শতাংশ ২০০৭ সালে ২০.৯ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ বার্ষিক হ্রাসের হার ছিল ৪.৪ শতাংশ।

গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ এবং শরীয়তপুর- এই তিন অঞ্চলের মানুষের উপর উন্নয়ন অন্বেষণ মাসভিত্তিক জরিপ করে বলছে যে, গ্রামীণ অঞ্চলসমুহে মানুষের খাদ্য গ্রহণ প্রবণতা বাড়লেও তা কেবল বেড়েছে শর্করা জাতীয় খাদ্যে। ২০১২ সালে তিনটি জড়িপ অঞ্চলে প্রতিদিন শর্করা জাতীয় খাদ্য গ্রহণের মাত্রা ছিল ৪৮১.৯৫ এবং ৪৪১.৩৩ গ্রাম যথাক্রমে প্রকল্প সুবিধাভোগী ও সাধারন জনগোষ্ঠির মধ্যে। যেখানে জাতীয় ও গ্রামীন পর্যায়ে প্রতিদিন শর্করা জাতীয় খাদ্য গ্রহণের মাত্রা যথাক্রমে ৪৬৩.৯ এবং ৪৮৫.৬ গ্রাম।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি স্বল্প আয়ের মানুষের অবস্থায়ে অধিকতর প্রান্তিকীকরণ করে। অর্থাৎ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে দারিদ্রসীমার নিচে নিয়ে আসে। উন্নয়ন অন্বেষণ সতর্ক করে বলছে যে, ১ শতাংশ খাদ্য মুল্যস্ফীতি বাড়ার কারণে চার লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্রসীমার নিচে চলে যেতে পারে।

স্বল্প আয়তনের জমি থেকে অধিক ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে অধিক জনসংখ্যার চাহিদা মেটানো এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাংলাদেশের কৃষি খাতের জন্য চ্যালেঞ্জ। গবেষনা প্রতিষ্ঠানটি এক প্রাক্কলনে বলেছে যে, ২০২০ সালে ১৭.২৫ কোটি জনসংখ্যার বিপরীতে চালের চাহিদা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ২৪৫.৬ লক্ষ টন। ২০৩০, ২০৪০ এবং ২০৫০ সাল নাগাত ১৯.৬৭, ২২.৪৯ এবং ২৫.৭২ কোটি জনসংখ্যার বিপরীতে চালের চাহিদা বেড়ে দাঁড়াতে পারে যথাক্রমে ২৮০.১, ৩২০.২ এবং ৩৬৬.১ লাখ টন।

একদিকে যেমন অধিক মুনাফার কারণে ব্যবসায়ীদের সুবিধামত দাম নির্ধারণ করার জন্য বাজার অকার্যকর হয়ে পড়ছে, অপরদিকে বাজারে সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপের অভাবে পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের আওতার বাইরে চলে যাচ্ছে। দ্রব্যমুল্যের ঊর্ধ্বগতি, অস্থিরতা এবং বাজার ব্যর্থতা দূরীকরণের লক্ষ্যে প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণ ও রাষ্ট্রের অধিকতর ভূমিকা জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরাউৎসঃ নতুন বার্তা