খাদ্যে ভেজাল বিচারে দীর্ঘসূত্রিতা

আমানুর রহমান::
বিভিন্ন কোম্পানির বিরুদ্ধে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) দায়ের করা খাদ্যে ভেজাল বিষয়ক অর্ধশতাধিক মামলা আদালতে ঝুলে আছে। কর্পোরেশনের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজসে প্রভাবশালী কোম্পানিগুলো স্থবির করে রেখেছে মামলার কার্যক্রম। আইনের ফাঁকফোকরকে কাজে লাগাচ্ছেন তারা।

ডিএসসিসি সূত্রে জানায়, দেশের প্রতিষ্ঠিত ও নামকরা প্রথমসারীর খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো উচ্চ আদালতে স্থগিত রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ডিএসসিসি’র স্বাস্থ্য বিভাগ ও ফুড কোর্টের কিছু কর্মকর্তা নিয়মিত মাসোহারা পান বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে তারা মামলাগুলোর তদারকি করেন না। এছাড়া মামলা স্থগিত আদেশের বিরুদ্ধেও আপিল করছে না কর্পোরেশন।

বর্তমানে বিভিন্ন কোম্পানির ৪৫ টি মামলা উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত রয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে রয়েছে, দি একমি এগ্রোভেট অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড, সিটি গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, গ্রামীণ-ডানোন, ব্র্যাক, আগোরা, স্কয়ার, প্রাণ গ্রুপ, মীনাবাজার, স্বপ্ন’র মতো নামিদামি প্রতিষ্ঠান।

ডিএসসিসি’র প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হারুন অর রশিদ পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, “শুধু ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৮৬ দিন খাদ্যে ভেজাল বিরোধী কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। এতে ৩৭৬ টি প্রতিষ্ঠান অভিযুক্ত হয়েছে। যাদের নিকট হতে ৫০ লাখ ৯ হাজার ১শ’ ৫০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “চলতি অর্থ বছরে (জুলাই ১২- মে ১৩) ফুড অ্যান্ড স্যানিটেশন কার্যক্রমের আওতায় জনস্বাস্থ্য খাদ্য পরীক্ষাগারে মোট ৯শ’ ২টি খাবারের নমুনা রাসায়নিক পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৩৫৩টি খাবারে ভেজাল পাওয়া যায়। অভিযুক্ত সব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেই বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে মামলা হয়েছে। এখন বিষয়টি আদালতের দেখার বিষয়। আমাদের করার কিছু নেই। আমাদের আইন কর্মকর্তা এবং ডিএসসিসি’র নিযুক্ত আইনজীবীরা মামলায় লড়ছেন।”

মামলা নিষ্পত্তির বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত থেকে নিষ্পত্তি মামলা সংক্রান্ত কোন তথ্য আমাদের কাছে আসে না। নিম্ন আদালত (সিএমএম কোর্ট) থেকে এ তথ্য নিতে হবে।”

তবে সিএমএম কোর্টে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিষ্পত্তি হওয়া মামলায় ডিএসসিসি কখনো জিতে না।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ সব মামলার ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশন বা সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কোনো নজরদারি নেই। ফলে মামলাগুলোও ঝুলে থাকে বছরের পর বছর। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীরা একই পণ্য বাজারে সরবরাহ অব্যাহত রাখে।

ডিএসসিসি’র আইন কর্মকর্তা মফিজুল ইসলামকে উচ্চ আদালতের স্থগিত মামলার বিষয় জিজ্ঞাস করলে তিনি বলেন, “উচ্চ আদালতে বেশ কিছু মামলা স্থগিত আছে।”

কোন স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করছেন কি না এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আপিল করা হয়নি। তবে আপিলের প্রক্রিয়াধীন আছে। এ জন্য দেশের নামকরা আইনজীবীও নিয়োগ দেবে কর্পোরেশন।”

পরিবেশববাদী সংগঠন পবা’র চেয়ারম্যান আবু নাসের খান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, “ভেজাল খাদ্যে দেশ সয়লাব। ১৯৫৯ সালের অধ্যাদেশটি সময়োপযোগী করা দরকার। তা না হলে জনস্বাস্থ্য হুমকির মধ্যে পড়বে।”

খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. খুরশীদ জাহান বলেন, “খাদ্যে যেকোনো রাসায়নিক দ্রব্য স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ভেজাল খাদ্য নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে দেশের জনস্বাস্থ্য ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।”