‘সমঝোতা হইলে আমরাও বাঁচি’

‘সমঝোতা হইলে আমরাও বাঁচি’

25 Oct, 2013

দুই নেত্রীর সমঝোতা হইলে আমরাও বাঁচি। আমরাতো জনগণের শান্তিই চাই। মারামারি, গোলাগুলি হইলে তো আমাদের দেশের মানুষই মরে। মানুষ হইয়া এমনডা হোক, তা তো চিন্তাও করতে পারি না- এমন কথা বলছিলেন নয়া পল্টনে দায়িত্বরত অবস্থায় থাকা পুলিশের এক পরিদর্শক।

শুক্রবার বিকেলে এই পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হলে তিনি এমন মন্তব্য করেন। সময় তার সঙ্গে ছিলেন পল্টন থানার দু’জন উপ-পরিদর্শক। তারাও ব্যক্ত করেন একই মত। তবে এরা সবাই চাকরির সুবাদে নিজেদের নাম প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন।

পুলিশ পরিদর্শক বলেন, ‘এই যে আমরা সারাদিন দাঁড়াইয়া আছি, কেবল মানুষের নিরাপত্তার জন্য। অথচ এই নিরাপত্তা ঠিক রাখতে গিয়া আবার মানুষের ওপরই আমরা লাঠিচার্জ করি। তাদেরকেই গ্রেপ্তার করি, থানায় নিয়া যায়।’

তার কথার সঙ্গে সুর মেলাতে যোগ দেন পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকদ। তিনি বলেন, ‘আমরাও তো রিস্ক (ঝুঁকি) নিয়া ডিউটি করি। বাড়িতে মা আছে। চিন্তায় অস্থির থাকে। ঘণ্টায় ঘণ্টায় ফোন করে। তবুও মানুষের জন্য সব রিস্ক নিয়েই চাকরি করি।’

সন্ধ্যায় দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশ শেষ হলে তাদের তৎপরতা বেড়ে যায় পুলিশের। মুহূর্তেই লাইনে দাঁড়িয়ে পড়লো সব পুলিশ। বিএনপি অফিসকে বিপরিতে রেখেই দাঁড়িয়ে গেছে তারা। পুলিশ সদস্যদের লাইন ঠিক করে আবারও কথায় যোগ দিলেন পুলিশ পরিদর্শক।

বললেন, ‘রাজনীতিবিদরা জনগণের কথা মাথায় রাইখ্যা রাজনীতি করে না। তাদের চিন্তা খালি ক্ষমতা। এই যে সমাবেশ হইলো, এখানে যদি একটা গণ্ডগোল লাগতো, তাহইলে কোনো নেতা কিন্তু মরতো না। সাধারণ কর্মীরাই মাইর খাইতো।’

সরকার ও বিরোধী দলের সমালোচনা করলেন তিনি। এই দুই ‘নারীর’ জন্য দেশের এমন অবস্থা বলেও দাবি তার। তার কথায় হতাশা ও ক্ষোভ স্পষ্ট। দেশটাকে নিজের মতো করে না পাওয়ার বেদনায় তিনি ক্ষুব্ধও।

বললেন, ‘মনে হচ্ছে, চাকরিটা ছাইড়া দেই। কিন্তু ছাড়লে তো বউ বাচ্চারে নিয়া বাঁচার কোনো উপায় নাই। এই জন্য কষ্ট কইরাও চাকরিটা করতেছি। তবে রাজনীতিবিদদের জন্য আমরাও দেশের জন্য কিছু করতে পারি না। এই হুকুম, সেই হুকুম করতে করতেই আমাদের দিয়া দেশের বারোটা বাজাইতেছে।’

কাজে লাগতে হবে। সময় হয়ে গেছে। সমাবেশ শেষে মানুষের কোলাহল বাড়তে শুরু করেছে পল্টন এলাকায়। যাওয়ার আগে বলে গেলেন, ‘সমঝোতা না হইলে শান্তি আসবো না। দেশের জন্য সমঝোতাই দরকার।’

উৎসঃ   বাংলামেইল২৪