মারকেলের ফোনে আড়ি ক্ষোভে ফুঁসছে জার্মানি

যুক্তরাষ্ট্র ২০০২ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত টানা ১১ বছর জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের ফোনে আড়ি পেতেছিল। জার্মানির দের স্পাইজেল পত্রিকার প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এর দাবি, তারা এনএসএ’র একটি গোপন দলিলের মধ্যে থাকা তালিকায় মার্কেলের নম্বর দেখেছে এবং ২০০২ সাল থেকে শুরু করে জার্মান চ্যান্সেলরের ফোন নম্বর তালিকাটিতে স্থান পেয়েছে। যখন কিনা তিনি চ্যান্সেলরও হননি। মার্কেলের নম্বরে আড়িপাতার ধরন ঠিক কেমন ছিল দলিলের কাগজপত্র থেকে তা বোধগম্য হয়নি। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে চ্যান্সেলরের কথোপকথন রেকর্ড করা হয়ে থাকতে পারে বা শুধুমাত্র তার সঙ্গে অন্য যাদের যোগাযোগ রয়েছে তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হতে পারে। অপর একটি প্রতিবেদনে বলা হয় ২০১০ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে এ নজরদারির ব্যাপারে অবগত করা হয়। এরই মধ্যে এনএসএ’র নজরদারি কার্যক্রমের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচি মোকাবিলা করতে হচ্ছে ওয়াশিংটনকে। নজরদারি কার্যক্রমের মাত্রা কমানোর দাবিতে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী মিছিল করে ইউএস ক্যাপিটলে হাজির হন। কয়েক জনের হাতে এডওয়ার্ড স্নোডেনের সমর্থনে ব্যানার শোভা পায় যার তথ্য ফাঁসের বদৌলতে এনএসএ’র গোপন নজরদারির মাত্রা সম্পর্কে বিশ্ববাসী ধারণা পেয়েছে। নজরদারি অভিযোগ তদন্ত করার জন্য জোর তাগিদ দেয়ার লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহে জার্মানি উচ্চপদস্থ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ওয়াশিংটন পাঠাচ্ছে। আড়িপাতার অভিযোগে রীতিমত ফুঁসছে পুরো জার্মানি। ফোনে আড়িপাতার সংবাদ জানামাত্র বুধবার মার্কেল মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে ফোন করেন। ওবামা জার্মান চ্যান্সেলরের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, তার ফোনে আড়িপাতার ব্যাপারে তিনি কোনকিছুই জানতেন না। জানলে এমন কার্যক্রম বন্ধ করতেন। কিন্তু এদিকে  রোববার মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রের বরাত দিয়ে বিল্ড সংবাদপত্র প্রকাশ করেছে, ২০১০ সালে মার্কেলকে টার্গেট করে চালানো গোপন অভিযানের ব্যাপারে এনএসএ প্রধান কিথ আলেক্সান্ডার স্বয়ং প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছেন। অপর এক এনএসএ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে পত্রিকায় বলা হয় ওবামা অভিযানটি বাতিল করেননি বরং চলতে দিয়েছেন। শুক্রবার জার্মানি ও ফ্রান্স জানিয়েছে তারা চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুপ্তচরবৃত্তি বাতিলের চুক্তি স্বাক্ষর করতে চায়। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রে শনিবারের বিক্ষোভে প্রতিবাদকারীরা ‘স্টপ ম্যাস স্পাইয়িং, ‘থ্যাঙ্ক ইউ, অ্যাডওয়ার্ড স্নোডেন’ এবং ‘আনপ্লাগ বিগ ব্রাদার’ লেখা প্ল্যাকার্ড ব্যানার নিয়ে ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল হিলে সমবেত হয়। আয়োজকরা বলেন, ২০০০-এর বেশি বিক্ষোভকারী এ সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন। ক্যাপিটল হিল পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিতির সংখ্যার ব্যাপারে তাদের কাছে সঠিক কোন তথ্য নেই। এ সমাবেশে রাজনৈতিক দলের সদস্য থেকে শুরু করে উদারমনা মানবাধিকার কর্মী এবং রক্ষণশীল টিপাটি আন্দোলনের সদস্যরাও যোগ দিয়েছিলেন। তারা সবাই মার্কিন জনগণের ওপর সরকারের এ নজরদারির কর্মসূচিকে বেআইনি বলে উল্লেখ করেছেন। মাইকেল গিন নামের একজন বিক্ষোভকারী বলেছেন, আমি নিজেরকে রক্ষণশীল বলে মনে করি। রক্ষণশীল কোন ব্যক্তিই চান না সরকার তাদের ওপর নজরদারি করুক এবং সে তথ্য সংরক্ষণ করে পরে ব্যবহার করুক। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন, প্রাইভেসি গ্রুপ ইলেক্ট্রনিক ফ্যান্টিয়ার ফাউন্ডেশন, অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট এনওয়াই সি এবং লিবার্টেরিয়ান পার্টির মতো প্রায় ১০০ সংগঠন এবং কোম্পানির সমন্বয়ে গঠিত ‘স্টপ ওয়াচিং আস’ নামের একটি জোট এ প্রতিবাদ বিক্ষোভের আয়োজন করেছিল।