নতুন পাকিস্তানি তালেবান প্রধান খান সাঈদ

খান সাঈদকে পাকিস্তানি তালেবানের নতুন প্রধান নিয়োগ করা হয়েছে। তালেবান নেতা হাকিমুল্লাহ মেহসুদ ড্রোন হামলায় নিহত হওয়ার পর তাকে গতকাল নিয়োগ দেয়া হয়। এদিকে মেহসুদ হত্যার বদলা দেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে ক্ষুব্ধ পাকিস্তানি তালেবান। হাকিমুল্লাহ মেহসুদকে লক্ষ্য করে চালানো ড্রোন হামলায় আরও ৪ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে মেহসুদের দুই দেহরক্ষীও রয়েছেন। উপজাতি অধ্যুষিত উত্তর ওয়াজিরিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে মেহসুদকে বহনকারী গাড়ি ওই হামলা চালানো হয়। ওই অঞ্চলের মূল শহরতলি মিরানশাহ থেকে ৩ মাইল দূরে অবস্থিত দান্দে দার্পাখেল এলাকায় শুক্রবার মেহসুদকে বহনকারী গাড়ি লক্ষ্য করে এ ড্রোন অভিযানটি পরিচালিত হয়। গতকালই মিরানশাহতে মেহসুদের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে মেহসুদের নিহত হওয়ার বিষয়টি বেশ কয়েকবার দাবি করা হলেও, পরে সেগুলো অসত্য প্রমাণিত হয়েছিল। মার্কিন এক সিনিয়র গোয়েন্দা কর্মকর্তা মেহসুদের নিহত হওয়ার খবরটি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। মেহসুদের মৃত্যুর কারণে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিপিপি) এর শুরা কাউন্সিলে গতকাল খান সাঈদকে সংগঠনের প্রধান নিয়োগ করা হয়। তিনি সাজনা নামেও পরিচিত। এর আগে তিনি দক্ষিণ ওয়াজিরস্থানে টিটিপি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। তার সম্পর্কে বেশি তথ্য না জানা গেলেও তিনি মেহসুদের অত্যন্ত বিশ্বাসী সহযোগী ছিলেন। মেহসুদের মৃত্যুর পর পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ আফগান সীমান্তবর্তী উত্তর ওয়াজিরস্তানের নিরাপত্তা জোরদার করেছে। এদিকে মেহসুদ হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করার পাশাপাশি পাকিস্তানের তালেবান এ হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার জন্য পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ এনেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস এক রিপোর্টে জানিয়েছে, উত্তর ওয়াজিরস্তানের তালেবান কমান্ডার আবু ওমর বলেছেন, আমাদের এ প্রতিশোধ হামলা হবে একেবারেই অভাবনীয়। তিনি বলেছেন, এ হামলার জন্য পাকিস্তান সরকারও সমভাবে দায়ী। ওমর বলেন, আমরা আমাদের শত্রুকে খুব ভালভাবেই চিনি। সব মিলিয়ে পাকিস্তান পরিস্থিতিতে দেশের প্রায় স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ওদিকে পাকিস্তান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের এমন হামলার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তারা বলেছে, ড্রোন হামলায় তালেবান প্রধান নিহত হওয়ার প্রেক্ষিতে তালেবানদের সঙ্গে যে শান্তি চুক্তি নিয়ে কথা হচ্ছিল তা বিঘ্নিত হবে।