রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২শ’ কোটি টাকা পিছিয়ে এনবিআর

রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২শ’ কোটি টাকা পিছিয়ে এনবিআর
NBR eKUSH Info
নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১ হাজার ১৭৩ কোটি টাকা পিছিয়ে রয়েছে। এই সময়ে রাজস্ব আদায়ের কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। উল্লিখিত সময়ে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ২৪ হাজার ৬২৭ কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১ হাজার ১৭৩ কোটি টাকা কম আদায় হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, রাজস্ব আদায়ের তিনটি খাতই (আয়কর, আমদানি শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর-ভ্যাট) এই সময়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সমর্থ হয়নি। চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট ও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ আমদানি না হওয়াকে এ জন্য দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় সার্বিক রাজস্ব আদায় বেড়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ। গত অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে ২১ হাজার ৩২ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছিল।
রাজস্ব আদায় সংক্রান্ত এনবিআরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আলোচ্য সময়ে আয়কর আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে তুলনামূলক সবচেয়ে বেশি। এই সময়ে আয়কর আদায় হয়েছে ৭ হাজার ৩১৬ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২৮ শতাংশ বেশি। ২০১২-১৩ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে আয়কর আদায় হয়েছিল ৫ হাজার ৭০২ কোটি টাকা। এ ছাড়া একই সময়ে ভ্যাট ও শুল্ক আদায় বেড়েছে যথাক্রমে ২২ শতাংশ ও সাড়ে ৪ শতাংশ। টাকার অঙ্কে এটি যথাক্রমে ৯ হাজার ৫৯ কোটি ও ৮ হাজার ১০৮ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরে রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯০ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের আদায়ের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি। চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও কাঙ্ক্ষিত আমদানি না হওয়ায় এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন খোদ এনবিআরের কর্মকর্তারা। গত অর্থবছরেও রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যায়নি। ওই সময়ে ১ লাখ ১২ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছিল ১ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকা। চলতি বছর আমদানি শুল্ক খাতে ৩৫ হাজার ৭৯০ কোটি, ভ্যাট বাবদ ৫১ হাজার কোটি, আয়কর খাতে ৪৮ হাজার ৩০০ কোটি এবং অন্যান্য কর খাতে আরও ১ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এই সময়ে আয়কর আদায়ের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে সবচেয়ে বেশি ৩৬ শতাংশ।