গ্যাঁড়াকলে দীপু মনি : মন্ত্রিত্ব চলে যাওয়ার খবর টিভি ও অনলাইনে : রক্ষায় সক্রিয় প্রতিবেশী দেশ

20 Nov, 2013

বাকপটু হিসেবে পরিচিত পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনিকে নিয়ে শেষ মুহূর্তে রশি টানাটানি শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিরাগভাজন এই মন্ত্রীকে সরিয়ে দিতে সরকারের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের প্রধান মিত্র প্রতিবেশী একটি দেশের খুবই আস্থাভাজন এই মন্ত্রীকে স্বপদে বহাল রাখার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ মহলে তদবির চলছে বলে জানা গেছে।
একাধিক সূত্র জানায়, এরই মধ্যে দীপু মনিকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে মহাজোটের কথিত নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভায় তার স্থান হবে না। এ খবর ফাঁস হওয়ার পর থেকেই তিনি মনোকষ্টে ভুগছেন। এটা তার কাছে বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতোই মনে হয়েছে। তার মনোকষ্ট আরও বেড়েছে যখন তিনি জানতে পারছেন যে তাকে সরিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে চাঁদপুরের স্থানীয় রাজনীতিতে তার প্রতিপক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মখা আলমগীরও ভূমিকা রাখছেন।
গতকাল দিনভরই দীপু মনির বাদ পড়ার খবর চাউর হয়েছে। আওয়ামীপন্থী টিভি চ্যানেলগুলোতেও স্ক্রলে তাকে বাদ দেয়ার খবর দেখানো হয়েছে।
সূত্র জানায়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন সাবেক দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী এ এইচ এম মাহমুদ আলী। তিনি পররাষ্ট্র সচিব ছিলেন। অথবা সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতীয় পার্টির নেতা আনিসুল ইসলাম মাহমুদকেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেয়া হতে পারে।
দুটি প্রভাবশালী দেশের রশি টানাটানিতে গতরাত ১১টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দীপু মনির ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।
অন্যদিকে দীপু মনির মতোই গতকাল অন্য মন্ত্রীদের ভাগ্যও নির্ধারিত হয়নি।
আওয়ামী লীগ সরকারের খামখেয়ালিপনায় দেশের সর্বকালের বৃহত্তম মন্ত্রিসভা নিয়ে এখন চলছে দেশ। তবে কারা মন্ত্রী থাকছেন এবং কাদের বাদ দেয়া হচ্ছে তা নিয়ে গতকালও কোনো গেজেট প্রকাশ না করায় সরকারের স্বাভাবিক কাজকর্মে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
কথিত নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভার মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের দফতর গতকালও বণ্টন করা হয়নি। সোমবার মন্ত্রী পরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইয়া জানিয়েছিলেন, নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভায় কারা থাকবেন এবং কারা বাদ যাবেন, তা মঙ্গলবার (গতকাল) জানা যাবে। এদিন চমক আসতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এরপর অবশ্য ওই রাতেই তিনি সরকারি সফরে জাপান চলে যান।
কিন্তু গতরাত ১১টা পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে গভীর রাতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে জানা গেছে।
এ অবস্থায় গতকাল বেশিরভাগ মন্ত্রীই অফিস করেনি। কোনো কোনো মন্ত্রী গতকাল, এমনকি তার আগের দিনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়েছেন।
আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না থাকলে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তাদেরকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে তারা আর মন্ত্রী থাকছেন না। তাই তাদের এ বিদায়।
সূত্র জানায়, বেশ কয়েকজন মন্ত্রীকে বাদ দেয়ার কথা উচ্চপর্যায় থেকে জানিয়ে দেয়া হলেও ‘দেখি কী হয়’ মনোভাব থেকে তারা আনুষ্ঠানিক বিদায় নেননি। তাদের অনেকের আশা, শেষ মুহূর্তে তারা হয়তো টিকেও যেতে পারেন।
উল্লেখ্য, নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের কথা বলে সোমবার মন্ত্রিসভার কলেবর আরও বাড়ানো হয়। এদিন নতুন করে ৮ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং ১ জন উপদেষ্টা নিয়োগ দেয়া হয়।
এর ফলে এখন দেশের মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীর সংখ্যা দাঁড়াল ৭৪-এ। এর মধ্যে ৬৬ জনই মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। বাকিরা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় সরকারের উপদেষ্টা।
মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের পদত্যাগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে সুরাহা না হলেও গতকালও কয়েকজন মন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রণালয়ে বিদায় অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছেন।
খাদ্যমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক গতকাল নিজ মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়েছেন। সংস্কৃতিমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ তার মন্ত্রণালয়ে বিদায়ী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এর আগে সোমবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদার আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেন।
তবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মখা আলমগীর, যোগাযোগমন্ত্রী গতকাল যথারীতি অফিস করেছেন।
উৎসঃ   amardesh