ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রিপোর্ট- মনির হোসেনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

0
1

গার্মেন্ট শিল্পের বিকল্প খোঁজার চেষ্টা করছেন বাংলাদেশের কেউ কেউ। তাদের একজন কাজী মনির হোসেন। তিনি রানা প্লাজা ধস থেকে উদ্ধার করা শ্রমিকদের নিয়ে গড়ে তুলেছেন পাটের ব্যাগ তৈরির উদ্যোগ। এতে ব্যাপক সাড়াও পেয়েছেন তিনি। গার্মেন্টে এসব শ্রমিক যে বেতন পেতেন তার চেয়ে অনেক বেশি বেতন দেয়া হচ্ছে তাদের। এ উদ্যোগের নাম দেয়া হয়েছে ‘অপরাজেয়’। তাদের কাহিনী এখন সাভার বা বাংলাদেশের ভিতরেই সীমাবদ্ধ নয়, ছড়িয়ে পড়েছে সারাবিশ্বে। ১৯শে নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। ক্রিস্টিনা প্যাসারিয়েলো’র লেখা প্রতিবেদনে বলা হয়, এপ্রিলে রানা প্লাজা ধসে পড়ার পর সেখানে স্বেচ্ছায় উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছিলেন কাজী মনির হোসেন। ওই দুর্ঘটনা থেকে যারা বেঁচে এসেছেন তারা বলছেন, তারা আর গার্মেন্টে চাকরি করবেন না। তাই মনির হোসেন দাতাদের অর্থ নিয়ে পাট ও কটনের ব্যাগ তৈরির ব্যবসা শুরু করেন। নাম দেন অপরাজেয়। এ কাজ চলছে চার মাস ধরে। এখানে কাজ করেন রানা প্লাজা থেকে বেঁচে যাওয়া ২১ শ্রমিক। যেখানে রানা প্লাজা ছিল তার পাশেই একটি ছোট্ট কারখানায় তারা কাজ করেন। তারা পাট দিয়ে জিনিসপত্র বহন করা যায় এমন ব্যাগ তৈরি করেন। তৈরি করেন নারীদের পার্স। তার ওপর এঁকে দেন ফুল। তৈরি করেন ওয়াইন ক্যারিয়ার। মনির হোসেন বলেন, এক সময় বাংলাদেশে পাট ছিল বিখ্যাত। আমরা তা আবার বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিতে পারি। ওই রিপোর্টে বলা হয়, মনির হোসেন এরই মধ্যে অনেক কাজের অর্ডার পেয়েছেন। তার কর্মীরা দিন-রাত ব্যস্ত। কিন্তু বিশাল গার্মেন্ট শিল্পের যে বাণিজ্য তার সঙ্গে তার হাতে তৈরী এ ব্যাগ নিয়ে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছেন। বিশ্বের বড় বড় ক্রেতারা বাংলাদেশে আসেন সস্তায় তাদের নিজস্ব ডিজাইনের পোশাক তৈরি করাতে। মনির হোসেন তার কর্মীদের বেশি বেতন দেয়ার পক্ষে। এরই মধ্যে এসব শ্রমিক গার্মেন্টে সর্বনিম্ন মাসে যে ৩৮ ডলার বেতন পেতেন তার চেয়ে বেশি বেতন দেন। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার গার্মেন্টে সর্বনিম্ন মাসিক বেতন নির্ধারণ করেছে ৬৭ ডলার। কিন্তু মনির হোসেন তার শ্রমিকদের প্রাথমিক বেতন ১০০ ডলারে উন্নীত করতে চান। বাংলাদেশে রয়েছে ২০০০ কোটি ডলারের গার্মেন্ট বাণিজ্য। পাটের ব্যাগ ও ছালা রপ্তানি করে গত বছর আয় হয়েছে ২৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার। পাটের তৈরি ব্যাগের অর্ডার আসে ডিলারদের মাধ্যমে। এক্ষেত্রে পোশাক তৈরির ক্ষেত্রে ক্রেতারা সরাসরি যোগাযোগ করে গার্মেন্ট কারখানার সঙ্গে। ফলে যারা বাংলাদেশে গার্মেন্ট সামগ্রী কিনতে আসেন তারা মনির হোসেনকে এড়িয়ে চলেন। তিনি বলেছেন, ইউরোপিয়ান ক্রেতাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তিনি। কিন্তু তারা তাকে বলেছেন, তারা তৈরী পোশাকের প্রতি আগ্রহী, ব্যাগের প্রতি নয়। মনির হোসেন আশা করছেন এ মাসে তিনি ১২ হাজার ডলার বিক্রি করতে পারবেন। তার এ শিল্পে পাট ও কটনের যে সব ব্যাগ তৈরি করা হয় তার জন্য দরকার পোশাক কারখানার মতো এই রকম অভিজ্ঞতা। এখানে যে সেলাই মেশিন ব্যবহার করা হয় তা-ও প্রায় একই মডেলের। তা দিয়ে শ্রমিকরা ব্যাগ প্রস্তুত করেন। লাভলি নামের ২০ বছরের এক শ্রমিক বলেন, এখানে কাজ একই রকম। তিনি রানা প্লাজা ধস থেকে বেঁচে গেছেন। বলেছেন, আমি আর কখনও গার্মেন্টে কাজ নেবো না।