শীতে ত্বকের যত্ন

শীতে ত্বকের যত্ন
শীতে ত্বকের যত্ন নিয়ে অনেকেরই নানা প্রশ্ন রয়েছে। কোন ধরনের প্রসাধনী ব্যবহার করবেন? কোনটি বেশি কার্যকর? আবার প্রসাধনী ব্যবহারের ক্ষেত্রেও রয়েছে কৌশল। কম দামেও হতে পারে শীতের প্রসাধনীর ব্যবস্থা। এসব অজানা তথ্যের উত্তর জানিয়েছেন দেশের এই প্রখ্যাত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ
৪    হ্যালো! অধ্যাপক ডা. এম ইউ কবীর চৌধুরী বলছেন?
=    জ্বি, বলছি…
৪    আমি সকালের খবর থেকে বলছি, আপনার সঙ্গে শীতের প্রসাধনী নিয়ে একটু কথা বলতে চাই।
=    আচ্ছা, বলুন, কী জানতে চান?
৪    অধিকাংশ লোকেরই ধারণা, শীতে ত্বকের যত্নে নামিদামি প্রসাধনী খুবই দরকার। এ ধারণা কতটুকু সত্যি?
=    আসলে সাধারণের এই ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়। ত্বকের আর্দ্রতা রক্ষায় অনেক ধরনের প্রসাধনী রয়েছে। সবারই কাজ একটা, তা হল ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখা। এই কাজটির পাশাপাশি কিছু কিছু প্রসাধনী ত্বকের বাড়তি যত্ন নিয়ে থাকে। যেমন কোনো কোনো প্রসাধনীতে থাকে সানস্ক্রিন, কোনোটায় থাকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান। এগুলো ত্বকের বাড়তি যত্ন নেয়। কিন্তু আর্দ্রতা রক্ষায় তেমন কোনো ভূমিকা রাখে না। তবে প্রায় সব প্রসাধনীরই মূল ভিত্তি বা বেস হচ্ছে অয়েল ইনগ্রেডিয়েন্ট বা তেলজাতীয় উপাদান। কাজেই সেগুলোও ত্বকের আর্দ্রতা রক্ষায় কিছুটা হলেও কাজ করে থাকে। আবার যেকোনো ক্রিম বা লোশন ব্যবহারে ত্বকের ওপর একটি আবরণের সৃষ্টি হয়, যা ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে সামান্য সানস্ক্রিনেরও কাজটি করে থাকে। কিন্তু শীতের কথা আলাদা। এখানে লক্ষ্য হচ্ছে, ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখা। ত্বকের এই আর্দ্রতা রক্ষায় দামি প্রসাধনীর চেয়ে অপেক্ষাকৃত কম দামি প্রসাধনীই অধিক কার্যকর।
৪    অপেক্ষাকৃত কম দামি প্রসাধনীর মধ্যে শীতে ত্বকের আর্দ্রতা রক্ষায় কোনটি বেশি কার্যকর বলে আপনি মনে করেন?
=    চিকিত্সাবিজ্ঞানের মতে, ত্বকের আর্দ্রতা রক্ষায় সবচেয়ে কার্যকর উপাদান হচ্ছে গ্লিসারিন ও ভেসিলিন (যা পেট্রোলিয়াম জেলি নামেও পরিচিত)।
৪    এগুলো ব্যবহারের কোনো নিয়ম আছে কি?
=    শীতে আর্দ্রতারোধক যেকোনো প্রসাধনী থেকে অধিক সুফল লাভের জন্য ব্যবহারগত কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হয়। কৌশলটি হল এগুলো ব্যবহার করতে হয় গোসলের পর কিংবা হাত-মুখ ধোয়ার পরপরই ত্বক সামান্য ভেজা থাকা অবস্থায়। এতে ভেজা ত্বকের আর্দ্রতা অনেকক্ষণ বজায় থাকে।
৪    কারও কারও ভেসিলিন মাখলে মুখে চাকার মতো র্যাশ ওঠে। তাদের ক্ষেত্রে করণীয় কী?
=    এক্ষেত্রে সুগন্ধিবিহীন ভেসিলিন/গ্লিসারিন ব্যবহারে উপকার পাওয়া যেতে পারে। অথবা ডাভ ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে।
৪    শীতে শরীরের যেসব অংশ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে তা হল ঠোঁট। এই ঠোঁটের যত্নে কী করা যায়?
=    শীতে ঠোঁট সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় থাকে। এ কারণে ঠোঁটের প্রতি একটু বেশি যত্নশীল হতে হয়। ঠোঁটের জন্য সবচেয়ে কার্যকর আর্দ্রতারোধক প্রসাধনী হল গ্লিসারিন কিংবা ভেসিলিন। প্রতিবার খাবার গ্রহণের পর, গোসলের পর কিংবা মুখ ধোয়ার পরপরই ঠোঁটে গ্লিসারিন কিংবা ভেসিলিন মেখে নিতে হবে।
৪    ব্রণের সমস্যার কারণে অনেকের ক্ষেত্রে শীতের প্রসাধনী ব্যবহারে সমস্যা দেখা দেয় অর্থাত্ ব্রণ বেড়ে যায়। এদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?
=    যাদের ব্রণ রয়েছে কিংবা যাদের মুখমণ্ডল এমনিতেই তৈলাক্ত, শীতে তাদের জন্য উপযুক্ত প্রসাধনীটি হতে হবে অপেক্ষাকৃত কম তৈলাক্ত উপাদানসমৃদ্ধ। এ ধরনের প্রসাধনীর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন-ই ক্রিম এবং ময়েশ্চারাইজার।
৪    সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
=    আপনাকেও ধন্যবাদ।অধ্যাপক ডা. এম ইউ কবীর চৌধুরী
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ

সাক্ষাত্কার গ্রহণ : ডা. সজল আশফাক
স্বাস্থ্য ও ফিটনেস, লাইফষ্টাইল , খাবারদাবার,