ফোবানা নিয়ে প্রবাসীদের ভাবনাঃউত্তর আমেরিকা অভিবাসী বাঙালিদের প্রাণের প্রতিধ্বনি

ফোবানা নিয়ে প্রবাসীদের ভাবনা

Fobana 2013 - Ekush.info
Fobana 2013 – Ekush.info
সত্তর দশকে অর্থনৈতিক কারণে বাঙালিদের যে বিদেশ যাত্রা শুরু হয়েছিল, বর্তমানে এখন আর সেই গন্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। গত শতকের সত্তর-আশির দশকে অর্থনৈতিক কারণে বাঙালিদের যে বিদেশযাত্রা শুরু হয়েছিল, সেটি এখন আর তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বর্তমানে সামাজিক নিরাপত্তা, উন্নত জীবনযাপন আর উচ্চতর শিক্ষালাভের জন্য প্রতিনিয়ত বিদেশ পাড়ি জমাচ্ছেন বাঙালিরা। আর এর মধ্যে দিয়র সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের আর মেধাবী ও অভিজ্ঞ নতুন প্রজন্মের তারুণ্যে ভরপুর একটি প্রবাসী কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বাঙালিদের সংখ্যা এখন ৫০ লাখের ওপরে।

আর আমেরিকা-কানাডা তথা উত্তর আমেরিকাতে বাঙালিদের সংখ্যা পাঁচ লাখের ওপরে। ইতিহাস বলে, বাঙালিরা যেখানেই বসতি স্থাপন করেছেন, সেখানেই বিভিন্ন সসাংগঠনিক এবং সামাজিক বলয়ে তাঁরা স্বকীয় সংস্কৃতিকে লালন করার আপ্রাণ চেষ্টা করেন।

United Fobana 2013 -Ekush.info
United Fobana 2013 -Ekush.info

এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৭ সালের ৩১ অক্টোবর আমেরিকা ও কানাডায় বাংলাদেশি সংগঠনগুলোর আমব্রেলা সংগঠন হিসাবে ফেডারেশন অব বাংলাদেশী এসোশিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (ফোবানা)র ব্যানারে ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ সম্মেলন আয়োজন করে। এর মূল লক্ষ্য ছিল, উত্তর আমেরিকায় বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি পরিচর্যা, প্রচার, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে যোগাযোগ এবং মূলধারার জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন।

শুরুর দিকে ফোবানার এই বাংলাদেশ সম্মেলন বাঙালিদের মিলনমেলা হিসাবে প্রবাসী বাংগালীদের অন্তরে ঠাই করে নেয়।
কিছুদিনের মধ্যে মুষ্টিমেয় কিছু প্রবাসীর নেতৃত্বের উচ্চাকাঙ্ক্ষা আর ব্যবসায়িক মানসিকতার কাছে ফোবানা বিভক্ত হয়ে পরে ১৯৯৯ সালে বিভক্ত ফোবানা ২০১১ সালে তিন ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। তবে আশার কথা হলো এ বছর মুল ফোবানা হিসাবে পরিচিত রেহান রেজার নেতৃত্ত্বাধীন ফোবানার সাথে এটর্ণী আলমগীরের নেতৃত্ত্বাধীন অংশের ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে অপর অংশটি তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে।

তাই ফোবানার এ বছরের ২৭তম সম্মেলনটিও গত ১৪ বছরের ধারাবাহিকতায় দুটি সম্মেলনই অনুষ্ঠিত হবে। মুল সম্মেলনটি হচ্ছে আমেরিকার আটলান্টাতে। তবে একটি কানাডার মন্ট্রিয়েলে। যদিও আটলান্টা সম্মেলনটিই আমেরিকাতে আইনী বৈধ্যতার মধ্যে প্রতিষ্ঠিত এবং এই সম্মেলনটির সাথেই উত্তর আমেরিকার প্রতিষ্ঠিত এসোশিয়েশনগুলি যুক্ত। এ ছাড়া আটলান্টা সম্মেলনই ফোবানার জন্ম লগ্নের সাংগঠনিক এবং আদর্শিক দিক নির্দেশনাতে পরিচালিত হচ্ছে। তবে মুল চেতনার প্রকৃত ফোবানার ২৭তম বাংলাদেশ সম্মেলনের পাশাপাশি মন্ট্রিওলে আরেকটি ফোবানা সম্মেলন হওয়াতে দ্বিধাদন্ড থেকেই যাচ্ছে।

আগামী ৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর ফোবানার ২৭তম সম্মেলনের মুল অংশটি হচ্ছে আমেরিকার জর্জিয়া রাজ্যের আটলান্টার কোব গ্যালেরিয়া সেন্টারে এবং অপরটি হচ্ছে মন্ট্রিওলে পিয়ার সারবনো সেন্টারে । ইতিমধ্যে এই সম্মেলনদ্বয়কে কেন্দ্র করে ১০০ দিনের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে গত ১৯ মে। তবে একটাই প্রশ্ন আর কত দিন এভাবে আমরা বিভক্ত থাকব।

আমরা কোথায় যাব, জর্জিয়া না মন্ট্রিয়েলে? কোনো সম্মেলনেই মনের আনন্দ নিয়ে অংশগ্রহণ করতে পারি না। প্রতিবছর ফোবানার এই দ্বিধাবিভক্তির কারণে আমরা অভিবাসীরা আমাদের আকাঙ্ক্ষার স্থানটিতে পৌঁছাতে পারছি না। অথচ এই সংগঠনটি উত্তর আমেরিকায় মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর প্রতীক হতে পারত।

এই সম্ভাবনা এখনো আছে। এই আশার বাণী উত্তর আমেরিকা অভিবাসী বাঙালিদের প্রাণের প্রতিধ্বনি।
নিউজ-বাংলা ডেস্ক