সবুজ ব্যাংকিং : এশিয়ায় বাংলাদেশ প্রথম

20131130-115923.jpg

বাংলাদেশ ব্যাংক সবুজ ব্যাংকিংকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গ্রিন ব্যাংকিং কার্যক্রম দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এই ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বাংলাদেশ আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে এশিয়াতে প্রথম হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরী। শুক্রবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এসআর (সামাজিক দায়বদ্ধতা) এশিয়া দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ব্যবসা ক্ষেত্রে সামাজিক দায়বদ্ধতা শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। গ্রিন ব্যাংকিং হলো এমন এক ধরনের ব্যাংকিং সিস্টেম যার কার্যাবলির মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব পরিস্থিতি তৈরি হয়। অর্থনীতির চাকা পরিবেশের উন্নয়নের জন্য সহায়ক হয় এবং এর মাধ্যমে কার্বন ফুটপ্রিন্ট গ্রাস করা যায়। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে পরিবেশকে রক্ষা করার জন্য একদল উদ্যোক্তা শ্রেণী কর্তৃক গৃহীত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপই হলো গ্রিন ব্যাংকিং। এটি এক ধরনের নীতিগত ব্যাংক যা সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ এবং টেকসই। বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য গ্রিন ব্যাংকিংকে একটি প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে এরই মধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ব্যবস্থায় পরিবেশের জন্য বিপজ্জনক নয় এমন পরিবেশবান্ধব পণ্য উদ্ভাবন এবংকার্যক্রমকে সহযোগিতা করা হয়। পরিবেশ ঝুঁকি মোকাবিলা (ইআরএম) নীতিমালার আওতায় গ্রিন ফাইন্যান্সিংয়ের মাধ্যমে বিনিয়োগ সঙ্কুচিত নয় বরং ব্যাংকের সম্পদের গুণগত উন্নয়নের মাধ্যমে টেকসই আর্থিক ব্যবহার করা সম্ভব হবে। রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সম্মেলনে আলোচনা সভায় ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর বলেন, সব ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে মোট মুনাফার ৫ শতাংশ সিএসআর খাতে খরচের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনে এশিয়াতে শ্রীলঙ্কাকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ জয়ী হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে উৎসাহিত করছে সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এসআর এশিয়া বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমাইয়া রশিদ, আন্তর্জাতিক পরিচালক ভিরেন্দ্রা রাতুরী, ঢাকা চেম্বারের সভাপতি মোঃ সবুর খান, শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব খন্দকার মুস্তান হুসাইন প্রমুখ। এসময় ঢাকা চেম্বারের সভাপতি সবুর খান বলেন, ব্যবসায়ীরা পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কোনো ব্যবসায়িক উদ্যোগ নিচ্ছে না। আবাসিক খাতের ব্যবসায়ীরা সবুজ দালানকোটা নির্মাণে আগ্রহী হচ্ছে। খন্দকার মুস্তান হুসাইন বলেন, সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তিগত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সামাজিক দায়বদ্ধতায় এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কাজের পরিবেশকে উন্নত এবং নিরাপদ করে তুলতে হবে। উৎসঃ আলোকিত বাংলাদেশ