ব্যাংক থেকে টাকা তোলার হিড়িক

0
9

20131130-120204.jpg

অবরোধ আতঙ্কে ব্যাংক থেকে গ্রাহকদের টাকা তোলার হিড়িক পড়েছে। কলমানি মার্কেটে ২ মাসের লেনদেনের পরিসংখ্যানে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, হরতাল-অবরোধের কার্যদিবসগুলোয় কলমানি মার্কেটে বেশি পরিমাণ লেনদেন হয়েছে। তবে কলমানিতে লেনদেন বাড়লেও সুদহার ছিল স্বাভাবিক। বিনিয়োগ চাহিদা কমে যাওয়ায় ব্যাংকিং খাতে রেকর্ড পরিমাণ অলস টাকার স্তূপ জমা হওয়াই এর অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে, হরতাল-অবরোধের কারণে ব্যাংক গ্রাহকদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। এটিএম কার্ডধারীরাও এটা থেকে রেহাই পায়নি। কারণ হরতাল-অবরোধে ব্যাংকের বুথগুলোতেও সময়মতো টাকা পৌঁছানো সম্ভব হয় না। ফলে কার্ডধারীরাও বুথে চাহিদা অনুযায়ী টাকা না পেয়ে বঞ্চনায় পড়েছেন।

২৮ নভেম্বর প্রাইম ব্যাংকের পান্থপথ শাখার এটিএম বুথে প্রবেশমুখে টানানো কাগজে লেখা ছিল ‘টাকা নেই’। টাকা নেই কেন জানতে চাইলে বুথে দায়িত্বরত সিকিউরিটি গার্ড বলে উঠলেন, অবরোধ-ধর্মঘটের কারণে টাকার গাড়ি আসেনি, তাই বুথে টাকা নেই। মানুষ যাতে বুথের ভেতরে প্রবেশ করে কার্ড ঢুকিয়ে সময় নষ্ট না করে এজন্য লেখাটি টানানো হয়েছে। শুধু প্রাইম ব্যাংকের পান্থপথ শাখাই নয়, ১৮ দলীয় জোটের টানা ৫ দিনের অবরোধে রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় বিভিন্ন শহরে শত শত এটিএম বুথে টাকা পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ফলে এসব বুথে কার্ড দিয়ে টাকার নির্দিষ্ট অঙ্কের কমান্ড দিতেই স্কিনে ভেসে উঠছে দুঃখিতÑ এ মুহূর্তে আপনার লেনদেনটি করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে বিভিন্ন ব্যাংকের হাজার হাজার এটিএম কার্ডধারীকে।

ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, অবরোধের দিনগুলোয় প্রয়োজন ছাড়া গ্রাহকরা খুব একটা ব্যাংকে আসেন না। নগদ টাকার চাহিদা এখন এটিএম বুথ থেকেই মেটানো হয়। তবে এটিএম বুথ থেকে চাহিদা অনুযায়ী যেসব গ্রাহক টাকা তুলতে পারেননি, তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়েই ব্যাংকমুখী হতে দেখা যায়। তবে অবরোধে ব্যাংকগুলোয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি খুব একটা এদিক-সেদিক হয়নি বলেও জানান তারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে মানুষ ব্যাংক থেকে আগের চেয়ে বেশি টাকা তুলছে। কখন কি হয় এমন আশঙ্কায় মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করছে। দেখা গেছে, হরতাল-অবরোধের কার্যদিবসগুলোতে কলমানি মার্কেটে লেনদেন না কমে উল্টো বেড়েছে। গত সপ্তাহে অবরোধের প্রথম কার্যদিবসে আন্তঃব্যাংক কলমানি বাজারে লেনদেন হয়েছে ৮ হাজার ১৩১ কোটি টাকা। তবে লেনদেন যাই হোক, ব্যাংকিং খাতে তারল্যের স্তূপ থাকায় সুদহার বাড়েনি। ওইদিন এক ব্যাংক অপর ব্যাংকে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশে ও ব্যাংকগুলো থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ৮ শতাংশে অর্থ ধার দিয়েছে। এছাড়া মঙ্গলবার লেনদেন হয়েছে ৭ হাজার ৮৯৫ কোটি ও বুধবার ৭ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকা। অথচ অবরোধের আগের কার্যদিবস রোববার লেনদেন হয়েছিল ৭ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা। ১৯ নভেম্বর হয়েছিল ৭ হাজার ৬২৫ কোটি টাকা। এছাড়া ৩ নভেম্বর লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা। নভেম্বরজুড়েই গড়ে ৭ হাজার ৫০০ থেকে ৮ হাজার কোটি টাকার ঘরে লেনদেন হয় কলমানি বাজারে। অক্টোবরজুড়েও লেনদেনের চিত্র ছিল একই রকম।

কয়েকটি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীরা জানান, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় ব্যবসা-বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিনিয়োগ থমকে গেছে। এতে ব্যাংকের বিভিন্ন খাতে অর্থায়ন কমে গেছে। ব্যাংকগুলো যাও বিনিয়োগ করছে, তাও সঠিক সময় ফেরত আসছে না। এতে বাড়ছে খেলাপি ঋণ। অন্যদিকে কমছে মুনাফা। চলতি বছর শেষে এখাতের মুনাফা আরও কমার আশঙ্কা করছেন তারা।উৎসঃ আলোকিত বাংলাদেশ