অবরুদ্ধের বিপরীতে উৎসব

20131201-072910.jpg

01 Dec, 2013 পথের ব্যবধান বড়জোর ৩০০ গজ। পাশাপাশি না হলেও কাছাকাছি বলা যায়। কিন্তু দুটি কার্যালয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। একটি দিনভর থাকে অবরুদ্ধ, অন্যটিতে চলে উৎসব।

প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় এখন এমন-ই। আওয়ামী লীগের কার্যালয় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে। আর বিএনপির কার্যালয় নয়াপল্টনে। দুই কার্যালয়ের মাঝখানে পল্টন, মুক্তাঙ্গন এবং জিরো পয়েন্ট।

সম্প্রতি শেষ সিপাহসালার হিসেবে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ গ্রেপ্তার হন। এর পরই কার্যত নেতাশূন্য হয়ে পড়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়।

ফটকে তালা দিয়ে সারাক্ষণ কার্যালয়ের সামনে পুলিশ অবস্থান করছে। গ্রেপ্তার আতঙ্কে দলের কোনো নেতা এই কার্যালয়ে আসছেন না। অন্যদিকে মনোনয়ন বিক্রির পর এখন প্রত্যেক দিনই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সারাক্ষণ জমিয়ে রাখছেন বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয়।

তফসিল বাতিল, নেতাদের মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে ডাকা দেশজুড়ে ৭২ ঘণ্টার অবরোধে রবিবার রাজধানীতে বিএনপির কোনো নেতাকেই দেখা যায়নি। শুক্রবার ভোরে রুহুল কবির রিজভী আহমেদ গ্রেপ্তার হওয়ার পর দলের নতুন মুখপাত্র করা হয় যুগ্ম-মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদকে।

অবরোধের দ্বিতীয় দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও গ্রেপ্তার আতঙ্কে সালাহউদ্দিন আহমেদ নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয়ে আসেননি। প্রথম দিনে শনিবার গুলশানের একটি বাসা থেকে ব্রিফিং করে রিজভী আহমেদের গ্রেপ্তারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

এরই মধ্যে সালাহউদ্দিনের গ্রামের বাড়ি কক্সবাজারে হানা দেয় পুলিশ। এরপর অঅর তিনি ব্রিফিং দেননি। ওইদিন বিকেলে অবরোধ পরিস্থিতি নিয়ে গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি দেন। আজ রবিবার তিনি অভিনব কৌশল নিয়েছেন। গণমাধ্যমে ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে অবরোধ পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন।

দলীয় সূত্রের দাবি, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশেই দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসেননি সালাহউদ্দিন আহমেদ। খালেদা জিয়া তাকে গ্রেপ্তার এড়িয়ে দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন।

শুধু সালাহউদ্দিন আহমেদ নন, গ্রেপ্তার এড়াতে সর্বোচ্চ সচেষ্ট আছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারাও। শুক্রবার নয়াপল্টন বাদ জুমা গায়েবানা জানাযা শেষে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজের প্রাইভেট কার ব্যবহার না করে এক কর্মীর মোটরসাইকেলে পেছনে চড়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

প্রায় অভিন্ন অবস্থা জেলের বাইরে থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের। তাদের মুঠোফোন বন্ধ, থাকছেন না নিজগৃহে। আর ১৮ দলীয় জোটের নেতাদের এখন খুঁজে পাওয়া ভার। সবাই নিজগৃহ ও মুঠোফোন দুটিই এড়িয়ে চলছেন।

নেতাকর্মীরা নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়ে না থাকায় এখন অনেকটাই নিরুত্তাপ গোটা নয়াপল্টন। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা ঢিলেঢালাভাবে কাজ করছেন। সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বেশকিছু পুলিশ। তবে রয়ে গেছে প্রিজনভ্যান, রায়ট কার ও জলকামান।

রবিবার সকাল থেকে নয়াপল্টনের ভিআইপি সড়ক দিয়ে কোনো ভারী যানবাহন চলতে দেখা না গেলেও হাইওয়েজুড়ে ছিল রিক্সা ও সিএনজির আধিপত্য।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের। এখানে বিরাজ করছে নির্বাচনী আমেজ। অবরোধবিরোধী অবস্থান ও নির্বাচনের প্রার্থীদের নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখরিত পুরো নগরী।

বিশেষ করে অবরোধের দ্বিতীয় দিনে রবিবার সকাল থেকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মুখরিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সকাল ১০টা থেকে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনগুলোর মিছিল ও স্লোগানে ছিল মুখরিত।

এখানে সকাল থেকে আওয়ামী যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনগুলো মিছিল ও সমাবেশ করেছে। এছাড়া ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আব্দুল হক সবুজের নেতৃত্বে আওয়ামী সাংস্কৃতিক জোটের ব্যানারে সমাবেশ করে সংগঠনটি।

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার নেতৃত্বে মহানগর আওয়ামী লীগ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। এ সময় মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া আরটিএনএন- কে বলেন, আগামী ৫ জানুয়ারি নির্বাচন। আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। সারা দেশে আজকে নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে।

তিনি বলেন, বিএনপিকে বলব আপনারা এই জ্বালাও-পোড়াও ও নৈরাজ্য বন্ধ করে নির্বাচনে অংশ নিন। অবরোধ কর্মসূচির নামে মানুষ মারা কর্মসূচি বন্ধ করুন।

মায়ার সঙ্গে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আওলাদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, প্রচার সম্পাদক আব্দুল হক সবুজ, দপ্তর সম্পাদক শহিদুল উসলাম মিলনসহ মহানগর আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।উৎসঃ আরটিএনএন

20131201-072924.jpg