ব্রাদারহুড খসড়া নতুন সংবিধানকে প্রত্যাখ্যান করেছে

খসড়া সংবিধান প্রত্যাখ্যান ব্রাদারহুডের

মিশরে অনুমোদিত নতুন খসড়া সংবিধান প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুড। রোববার দেশটির সেনা সমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গঠিত সংবিধানের খসড়া প্রণয়নকারী ৫০ সদস্যের একটি প্যানেল খসড়া সংবিধানের অনুমোদন দেয়।

টানা তিনদিন ধরে ওই প্যানেলে ভোট গ্রহণ শেষে রোববার অনুমোদিত হয় খসড়া সংবিধান। ব্রাদারহুড এই নতুন সংবিধানকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, “মিশরের বিদ্যমান বৈধ সংবিধানকে বিকৃত করতেই ধিকৃত অভ্যুত্থানকারীরা এই চেষ্টা চালিয়েছে।”

দেশটির সংবিধান প্রণয়নকারী পরিষদ অনুমোদিত এই খসড়া সংবিধানে সেনাবাহিনীকে ব্যাপক ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। যেটি পার্লামেন্ট নির্বাচনের আগেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অনুমোদন দেবে।

তবে জানুয়ারিতে গণভোটের মাধ্যমেই এই সংবিধান চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হবে।

জুলাইয়ে দেশটির প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসিকে সেনা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সরিয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনার পর মিশরের অন্তর্বর্তী সরকার যে নির্বাচনের ঘোষণা দেবে সেটাই হবে মুরসির পর প্রথম কোন নির্বাচন।

অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গঠিত ৫০ সদস্যের এই সাংবিধানিক পরিষদকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে সেপ্টেম্বরে। এর আগে জুলাইয়ে মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরপরই দেশটির সেনাবাহিনী মুরসির সময়ের সংবিধানকে বাতিল করে দেয়।

নতুন এই প্যানেলে কতিপয় ইসলামপন্থী এবং ৫ জন নারী সদস্য রাখা হয়েছে। প্যানেলটি জানিয়েছে, এই সংবিধানটি জরুরি ছিল। সপ্তাহ জুড়ে এর ২৪৭ টি অনুচ্ছেদের প্রতিটিই ভোটের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়েছে।

সংবিধানটিতে বিপুল সুবিধা দেয়া হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীকে। তার জন্য অবশ্য সুপ্রিম কাউন্সিল অফ দি আর্মড ফোর্সেসের অনুমোদনের দরকার হবে। এতে সংবিধানটি সংশোধনের তারিখ থেকে দুটি পরিপূর্ণ প্রেসিডেন্সিয়াল মেয়াদ পর্যন্ত একজন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেছে নেয়ার এখতেয়ার দেয়া হয়েছে সশ্রস্ত্র বাহিনীর সুপ্রিম কাউন্সিলকে।

এর একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “সশস্ত্র বাহিনী, সামরিক স্থাপনা এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যদের ওপর সরাসরি আক্রমণের মতো অপরাধ ছাড়া অন্য কোনো কারণে বেসামরিক ব্যক্তিকে সামরিক বিচারকদের দ্বারা বিচার করা যাবে না।”

এছাড়া সামরিক আদালতেও বেসামরিক লোকদের বিচারের ধারা অব্যাহত রাখতে অনুমোদন দেয়া হবে সেনাবাহিনীকে। দেশটির বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা সেনাবাহিনীকে সুবিধা দানসংক্রান্ত এসব অনুচ্ছেদের ঘোরতর বিরোধিতা করেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী অবশ্যই সেনাকর্মকর্তা হতে হবে। সামরিক বাজেট নিয়ে আলোচনা হতে হবে জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলে।

চার বছর করে দুই মেয়াদে থাকবে প্রেসিডেন্ট। প্রেসিডেন্টই নিয়োগ দেবে প্রধানমন্ত্রীকে। সেইসাথে প্রেসিডেন্ট পার্লামেন্টের অধিকাংশের ভোটে সরকারও ভেঙ্গে দিতে পারবে।

এতে জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাসের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। তবে সেটি হতে হবে রাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী। তবে ধর্মের ভিত্তিতে কোন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন নিষিদ্ধ করা হয়েছে এই সংবিধানে।

সংবিধানটির খসড়া অনুমোদনের সময় মুরসিপন্থী ও অভ্যুত্থান বিরোধী দলগুলো সংবিধান প্রত্যাখ্যানের দাবিতে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছে। শুক্রবার থেকেই তারা মিশরের রাজধানী কায়রো জুড়ে তুমুল বিক্ষোভ করেছে। তবে শনিবার থেকে দেশটির সেনাবাহিনী তাহরির স্কয়ার বন্ধ করে দিয়েছে।

সূত্র: বিবিসি