উষ্ণতায় শাল

উষ্ণতায় শাল

পৌষ মাসের আর অল্প ক’দিন বাকি। শীতের পুরোপুরি ঠান্ডা হাওয়া গায়ে লাগতে শুরু করেছে। বিশেষ করে সকালে শীতের আমেজটা একটু বেশিই টের পাওয়া যায়। তাই সকালের দিকে বাড়তি গরম কাপড়ও বেশি প্রয়োজন হয়। আর যারা সকালে অফিস, পড়াশোনা কিংবা অন্য কাজে বাড়ির বাইরে বের হন, তাদের তো গরম কাপড় পরেই বের হতে হয়। শীতের প্রয়োজনে অনেকে জ্যাকেট, সোয়েটার কিংবা অন্য গরম কাপড় ব্যবহার করছেন। আবার অনেকে শীতের পাশাপাশি ফ্যাশনের কথাও মাথায় রাখছেন। শাল তেমনি একটি শীতের ফ্যাশনেবল অনুষঙ্গ। লিখেছেন -তানিয়া আক্তার

সকালের রোদে পিঠ ঠেকিয়ে ধোঁয়া ওঠা গরম চা অথবা খবরের কাগজে চোখ বুলানো কিঞ্চিৎ ব্যস্ততা আর কিঞ্চিৎ অলসতার মধ্যে কাটে দিনের শুরুটা। তারপর বেরিয়ে পড়তে হয় ব্যস্ততার সমুদ্রে। আর বাইরে বেরুলেই প্রয়োজন হয় গরম কাপড়। সহজে বহনযোগ্য, পাশাপাশি ফ্যাশনেবল হওয়ার কারণে শালের জনপ্রিয়তা অনেক আগে থেকেই। ঢাকার ফ্যাশন হাউসগুলোও বিভিন্ন রঙ ও নকশার শাল এনেছে। কমবেশি সব বয়সীদের ব্যবহার উপযোগী এসব শাল।

নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইরিন বলেন, ‘শাল এখন শুধু চাদর নামেই সীমাবদ্ধ নেই। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন মানের শাল এখন শীতের অন্যতম ফ্যাশনেবল অনুষঙ্গ।’ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুজনা বলেন, ‘অতিরিক্ত শীত না পড়ায় হঠাৎ কড়া রোদে গরমও লাগে আজকাল। আঁটসাঁট গরমের পোশাক নিয়ে তখন পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। না পারা যায় খুলতে, না পরা যায় পরে থাকতে। তাই এখন প্রয়োজন শালের। এটি শীতে যেমন গায়ে জড়ানো যায়, গরমে ব্যাগেও ঢুকিয়ে রাখা যায়।’ ইউল্যাবের শিক্ষার্থী অনিন্দ বলেন ‘মাফলারের বিকল্প হিসেবে শাল অনেক পছন্দের, তাছাড়া এটি সত্যিই ঝামেলাহীন পোশাক।’ বেসরকারি কর্মসংস্থানের দায়িত্বপ্রাপ্ত রেবেকা আজমী বলেন, ‘কর্মব্যস্ততায় এবং শাড়ির সঙ্গে মানানসই হিসেবে শালের জুড়ি নেই।’

ফ্যাশন হাউস নিত্য উপহারের কর্ণধার বাহার রহমান বলেন, ‘এক সময় শালের প্রচলন ছিল ব্যাপক। তখন বিশেষ করে একটু বয়স্করাই শাল বেশি পরত। কিন্তু হালের ফ্যাশনে সেই শাল আবার ফিরে এসেছে। তবে এখন আর শুধু বয়স্করাই শাল পরে না। তরুণীরাও পরছে। এ ছাড়া আগে যেখানে সাদামাটা রঙের শালই বেশি দেখা যেত, এখন যেখানে শালের রঙে ও নকশায়ও এসেছে অনেক পরিবর্তন। এখন শালের নকশায় ডিজাইনাররা ফুটিয়ে তোলেন ভাষা অন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, শিল্প-সাহিত্যসহ দেশের বিভিন্ন লোকজ ঐতিহ্য। এখনকার শালগুলো বেশির ভাগই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তাঁতের বোনা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কুমিল্লার খাদি শাল। অন্যান্য অঞ্চলের তাঁতের শালও রয়েছে বাজারজুড়ে। তবে রাজত্ব খাদির। অন্যদিকে এসব শালের দামটাও হাতের নাগালে।’

অন্যদিকে খাদি ও অন্যান্য তাঁতের শালের পাশাপাশি বাজারে রয়েছে আদিবাসী-মণিপুরি, রাখাইন, চাকমাসহ বিভিন্ন আদিবাসীদের তাঁতের শাল। রঙে ও নকশায় এসব শালেও রয়েছে ভিন্নধর্মী লোকজ আমেজ। এ ছাড়া শীতের শালের বড় একটি সংগ্রহ আছে আড়ংয়ে।

ফ্যাশন হাউস সাদাকালোয় রয়েছেÑ শাড়ি, পাঞ্জাবি কিংবা অন্যান্য পোশাকের সঙ্গে মানানসই সুতি, খাদি, লিলেন ও উলের শাল। এসব শালের দাম-৪৫০ থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকা। ফ্যাশন হাউস নগরদোলায় উলের ওপর প্রিন্টের ডিজাইন করা শাল পাবেন ৫৯০-৭৫০ টাকায়। কে-ক্র্যাফটে পাবেন লিলেন ও উলের ওপর বাটিকের কাজ করা শাল। দাম ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকা। নিপুণের শালের দাম ৯৫৫ টাকার মধ্যে। অঞ্জন’সের শাল ৫৯০ থেকে ৭৫০ টাকা। দেশালে খাদির শাল ৬১৯ থেকে ৭০০ টাকা। রঙের শাল ৪৫০ থেকে ১ হাজার ৯৬০ টাকা। দেশি-দশসহ ঢাকা ও ঢাকার বাইরে এসব ফ্যাশন হাউসের বিক্রয় কেন্দ্রের শাখা আছে।

শাহবাগের আজিজ মার্কেটের নিত্য উপহারে আছে খাদি ও শাল। বাংলা বর্ণমালা, বিভিন্ন কবিতার পঙ্ক্তি, মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন নমুনা দিয়ে নকশা করা এসব শালের দাম ৭০০ থেকে ৮৫০ টাকা। এই মার্কেটের কাপড়-ই-বাংলা ফ্যাশন হাউসের খাদির শালগুলো নকশা করা হয়েছে লাল-সবুজ রঙে বিভিন্ন প্রিন্টের মাধ্যমে। ৭০০ থেকে ৭২০ টাকা। বিজয়ের মাসকে সামনে রেখে অনায়াসে কিনতে পারেন এসব শাল। ফ্যাশন হাউস বিসর্গতে আছে মণিপুরি, উল ও লিলেনের শাল। দাম ৫০০ থেকে ৭৫০ টাকা। ফ্যাশন হাউস ধানশালিক, সমীকরণসহ অন্যান্য হাউসেও শীতের শাল রয়েছে। দাম ৫৫০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা। এ ছাড়া বায়তুল মোকাররমের সামনে, নিউমার্কেট, গাউছিয়া, এলিফ্যান্ট রোডসহ বিভিন্ন মার্কেটেও শীতের শাল পাওয়া যাবে। এ ছাড়া চাইলে আড়ং থেকেও কিনতে পারেন পছন্দের শালটি। এখানে নানা রঙ ও নকশার বিভিন্ন কাপড়ের শাল রয়েছে। আড়ংয়ের ডিজাইনার ফয়েজ হাসান বলেন, ‘বরাবরের মতো এবারও আড়ং বিভিন্ন নকশার বাহারি শাল এনেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তাঁতের বোনা এসব শালের নকশা করা হয়েছে বিভিন্ন প্রিন্ট ও হাতের কাজের মাধ্যমে।’
#লাইফ ষ্টাইল, #খাবার দাবার, #স্বাস্থ্য, #স্বাস্থ্য ও ফিটনেস, স্বাস্থ্য ও ফিটনেস, স্বাস্থ্য, খাবার দাবার, লাইফ ষ্টাইল
সূত্রঃ আলোকিত বাংলাদেশ