সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন সাংস্কৃতিক কর্মীরা

সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন সাংস্কৃতিক কর্মীরা
আসছে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আর এ নির্বাচনকে ঘিরে শুরু হয়েছে নির্বাচনী ক্যাম্পেইন। প্রার্থীরা শুরু করেছেন তাদের নির্বাচনী প্রচারণা।
যদিও আসন্ন নির্বাচন নিয়ে রয়েছে নানা সংশয়। তবুও নির্বাচনকে ঘিরে দলীয় প্রার্থীদের লবিংয়ের কোনো কমতি নেই। সেই সঙ্গে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি পিছিয়ে নেই সাংস্কৃতিক কর্মীরাও। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে শিল্পীরাও শুরু করেছেন লবিং গ্রুপিং। দলীয় মতাদর্শে বিশ্বাসী যার যার দল থেকে দলীয় নমিনেশন পেতে ইতোমধ্যেই শুরু করেছেন দৌড়ঝাঁপ।
দলীয় মনোনয়ন পেতে আশাবাদী সাংস্কৃতিক কর্মীদের মধ্যে রয়েছেন অনেকেই। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে নারায়ণগঞ্জ চার আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ঢাকাই চলচ্চিত্রের স্বনামধন্য নায়িকা কবরী সরওয়ার। তিনি দ্বিতীয় বারের মতো নির্বাচনের প্রত্যাশা করলেও দলীয় সভানেত্রী তার ওপর নাখোশ থাকায় তিনি এবার মনোনয়ন পাননি। এ আসন থেকে নির্বাচন করবেন কবরী। যদিও নানা কারণে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী তার ওপর নাখোশ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
তবুও এ অভিনেত্রী দলীয় সমর্থন পেতে আশা ছাড়েননি। একই দলের হয়ে নীলফামারী দুই আসন থেকে টানা তৃতীয় বারের মতো লড়বেন নাট্যব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর। অবশ্য নূরের প্রতি জনগণের আস্থা থাকায় এবারো তাকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এমনটিই জানা গেছে।
একই দল থেকে কণ্ঠশিল্পী মমতাজও এবারো মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি এর আগে সংরক্ষিত মহিলা আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার তিনি মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। এছাড়া এবারই প্রথম আওয়ামী লীগ থেকে বরিশাল চার আসনের দলীয় মনোনয়ন কিনলেন চিত্র নায়ক রুবেল। তবে দলীয় বিবেচনায় তিনি মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছেন। নাট্যাভিনেত্রী তারানা হালিম গতবার সংরক্ষিত আসন থেকে নির্বাচিত হলেও এবার তিনি দলের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছেন, ফলে তিনিও দলীয় মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবার।
অন্যদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি থেকেও দলীয় সমর্থন পেতে মাঠে নেমেছেন বেশ কয়েকজন সাংস্কৃতিক কর্মী। এদের মধ্যে রয়েছেন কুমিল্লা-১ আসন থেকে গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার, মুন্সিগঞ্জ-১ আসন থেকে চিত্র পরিচালক শফি বিক্রমপুরী, কুমিল্লা-৬ আসন থেকে কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর, সংরক্ষিত মহিলা আসন থেকে কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা।
ঝিনাইদহ-৩ আসন থেকে জাসাস সম্পাদক কণ্ঠশিল্পী মনির খান, নীলফামারী-৪ আসন থেকে কণ্ঠশিল্পী বেবি নাজনীন। এছাড়াও চিত্রনায়ক হেলাল এবং কণ্ঠশিল্পী ন্যান্সি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন বলে  বিভিন্ন মহলে কথা শোনা যাচ্ছে।
জাতীয় পার্টি থেকে চিত্রনায়ক সোহেল রানা দলীয় নমিনেশন প্রার্থী। তবে কোন আসন থেকে তিনি নির্বাচন করবেন সেটা নিশ্চিত বলতে পারছেন না। দলীয় মনোনয়নের বিষয়টি তিনি জাপা চেয়ারম্যানের ওপরেই ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানান।
অন্যদিকে নির্বাচনে দাঁড়াচ্ছেন অভিনেতা নাদের চৌধুরী। আসন্ন নির্বাচনে জাসদের পক্ষ থেকে ঢাকা-১৩ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি রাজনীতিতেও সক্রিয়। জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির কালচারাল সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি জাসদের হয়ে ঢাকা-১৩ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। নির্বাচিত হলে আমার মূল লক্ষ্য হবে ঢাকা-১৩ আসনকে একটি নিরাপদ শান্তিপূর্ণ এলাকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা; মাদকমুক্ত, মাস্তানমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি এলাকা তৈরি করা।’সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে কী ধরনের ভূমিকা রাখবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। আমার এলাকার থিয়েটার দলটির প্রতিষ্ঠাতাও আমি। আমি মনে করি, সমাজ থেকে নৈরাজ্য, সন্ত্রাস ও অপসংস্কৃতি দূর করতে সুস্থ সংস্কৃতিচর্চার বিকল্প নেই। সমাজে যদি সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা অব্যাহত রাখা যায়, সামাজিক কর্মকাণ্ড বাড়ানো যায়, তবে এর প্রভাবেই অন্য অপশক্তিগুলো কোণঠাসা হয়ে পড়বে। তাই নির্বাচিত হলে আমি অবশ্যই সুস্থ সংস্কৃতির চর্চাটা আরো বাড়িয়ে দেব। এই এলাকার সমাজকল্যাণমূলক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে আরো বেশি পৃষ্ঠপোষকতা করব।’

চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং এ থেকে উত্তরণের উপায় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে নির্বাচন হওয়া উচিত। তবে বিষয়টা সর্বমহলের সমঝোতার মাধ্যমে হলেই ভালো হয়। একটি দেশের সুস্থ স্বাভাবিক নাগরিক হিসেবে চলমান এ পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য নয়। এর থেকে উত্তরণের জন্য সব দলকেই নমনীয় হতে হবে। কিন্তু আক্ষেপের বিষয় হলো, বিরোধী দল কী চাইছে, কিভাবে চাইছে, কী বলছে কোনো কিছুই পরিষ্কার করে জানাচ্ছে না। এটা হওয়া উচিত নয়। সাধারণ মানুষের কথা ভেবেই সবাইকে সুষ্ঠু আলোচনার মাধ্যমে সুন্দর আগামীর দিকে এগিয়ে যেতে হবে।’

তবে ভোটের আগে দুই জোটের নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে কে কোন আসন থেকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন।

সূত্রঃ কালের কন্ঠ । শীর্ষ নিউজ