২০১৪ হবে ঘুরে দাঁড়ানোর বছর : ওবামা

0
8

20131222-090504.jpg

২০১৪ হবে ঘুরে দাঁড়ানোর বছর : ওবামা
ঢাকা: গত শুক্রবার হোয়াইট হাউজে অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে বছরের প্রেস কনফারেন্স। অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ২০১৩ সালকে শাসনকালের সবচেয়ে কঠিন, অস্বস্তিকর সময় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। শুরু থেকেই তাকে সাংবাদিকদের ব্যাপক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে তার ‘হেলথ কেয়ার প্লান’- এর বিশৃঙ্খলাবস্থা ও ব্যাপক জনসমর্থন হারানোর বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হয়। প্রথম প্রশ্নটিই ছিলো, ‘২০১৩ সাল আপনার প্রেসিডেন্সির সবচেয়ে খারাপ সময় ছিলো কি?’ উত্তরটি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ওবামা সম্মতিজ্ঞাপকই দিয়েছেন।

বর্তমানে ওবামা সরকারের জনপ্রিয়তা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এরই প্রেক্ষিতে আগামী ২০১৪ সালে তার প্রশাসনকে নিয়ে পুনরায় জনগণের আস্থা প্রতিষ্ঠা করার জন্য ব্যাপকভাবে কাজ করে যাবার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অর্থনৈতিক উন্নতি সহ তার শাসনের অনেক ইতিবাচক দিককে তুলে ধরার পর, তিনি দুঃখের সাথে স্বীকার করেন ‘স্বাস্থ্যসেবা আইন’-এর চরম ব্যর্থতার কথা। তাঁর স্বাক্ষরের পরও আইন কার্যকর হতে দেরী হওয়া, সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটটি যথেষ্ট সেবাপ্রদ না হওয়া এবং আরও কিছু আইনে পরিবর্তন আনা সুফল বয়ে না আনা তাকে ঘিরে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, পুরো ব্যাপারটি নিয়ে আমরা বিব্রত। মাসের অর্ধেক নষ্ট হয়েছে ওয়েবসাইটঘটিত সমস্যার কারণে, আর প্রচার কার্যক্রমেও ঘাটতি ছিল। কিন্তু আইনজীবি ওবামা তার প্রণীত আইনটির পক্ষে কথা বলেন। জানান, আইনটিতে কোন সমস্যা নেই। সমস্যা হচ্ছে তার প্রশাসনিক দল আইনটিকে কিভাবে ব্যবহার করেছে। আইনে সমস্যা না থাকার কারণেই, এত সমস্যা থাকা সত্তেও প্রথম তিন মাসে বিশ লাখের বেশি মানুষ হেলথ ইনস্যুরেন্স নিতে যাচ্ছেন।

অনেক বেশি মানুষ সম্পর্কিত বড় কোন উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন খুব কঠিন কাজ বলে উল্লেখ করেন ওবামা।

আসছে ২০১৪ সালকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দারুণ চ্যালেঞ্জিং বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি ২০১৪ সাল হবে যুক্তরাষ্ট্রের ঘুরে দাঁড়ানোর বছর, আমি আবারো বলছি, ২০১৪ সাল তা-ই হবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য।’
আসছে বাজেট নিয়ে উচ্চাভিলাষ ব্যক্ত করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে চলতি বছরে ব্যর্থতাগুলোর জন্য তিনি কংগ্রেসকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, যেসব বিষয়ে তিনি গুরুত্বারোপ করেন, কংগ্রেসের তাতে অনীহা দেখা যায়। উদাহরণস্বরূপ, তিনি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনের কথা বলেন। তার গুরুত্ব আরোপ সত্তেও গণতন্ত্র-নিয়ন্ত্রিত সিনেট আইনটি পাস করেনি। কংগ্রেস ভবিষ্যতে আরো উদ্যমী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জানা গেছে, জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসএ) ব্যাপারে কিছু সমালোচনা উত্থাপিত হবার প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানসংক্রান্ত টেলিফোন রেকর্ড-সংক্রান্ত ক্ষমতা হ্রাস করার পরামর্শ পেয়েছেন ওবামা। অভিযোগ এসেছে, এনএসএ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার ধুয়া তুলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় হাত দিচ্ছে। তিনি এমন অভিযোগের মূল অংশের সাথে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, ‘আমি নিশ্চিত যে এনএসএ ঘরে ঘরে নজরদারি করছে এমন নয়। এমনও নয় এটা কারো ব্যাক্তিগত বিষয়ে নাক গলাচ্ছে।’ তবে ‘ইন্টেলিজেন্সের ব্যবহার যদি সুবিধা এনে দেবার বদলে অভিযোগের শিকার বেশি হতে থাকে’, তাহলে এতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন তিনি আনবেন বলে মত ব্যক্ত করেন।

সাথে তিনি এও মনে করেন, এনএসএ-র সূত্র ধরে কিছু বন্ধুরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের কিছুটা অবনতি ঘটেছে। যে কারণে সামনের দিনগুলোতে সুসম্পর্ক পুনরূদ্ধারের জন্য যুক্তরাষ্ট্র আরও উদ্যোগী হবে।

ইরানের প্রসঙ্গে উঠলে তিনি কংগ্রেসের কাছে ইরানকে নতুন কোন সুবিধা দানে সুপারিশ না করার অনুরোধ জানান। এটা স্থিতিশীলতা রক্ষায় জন কেরি প্রাথমিকভাবে যা করেছেন তাকে রেলচ্যুত করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমার লক্ষ্য ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে না দেয়া। এবং এ লক্ষ্য কূটনৈতিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়েই অর্জন করতে চাই।’

গত শুক্রবার অপরাহ্নে হোয়াই হাউসে অনুষ্ঠিত বছরের সর্বশেষ সাংবাদিক সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাম ওবামা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ সকল কথা বলেন।

বাংলামেইল২৪