বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে

তারিখ: ১৪-০৮-২০১৩

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে

বিগত পাঁচ বছরে দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশ-ভারত অনেক কাছাকাছি। হয়তো স্বাধীনতার পর দুই দেশের মধ্যে এমন অনুকূল পরিবেশ আগে আর হয়নি। পণ্য চলাচল ও বিনিয়োগ বেড়েছে, চালু হয়েছে সীমান্ত হাট। উভয় দেশের অবকাঠামো পারস্পরিক উন্নয়নে ব্যবহার করতে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার পথে রয়েছে।
কিন্তু অনুকূল পরিবেশে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ভারতের পাল্লাই আগের চেয়ে তুলনামূলক বেশি ভারী হয়েছে। গত অর্থবছরে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য ঘাটতি আগের বছরের চেয়ে ৪০ শতাংশ বেড়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এ ঘাটতি সামনের দিনে আরো বাড়বে।
india-BD-economics
এদিকে ভারতের সরকারি ও বেসরকারি কেন্দ্র থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী সেপ্টেম্বরে এ বিদ্যুত্প্রবাহ শুরু হওয়ার কথা। ২৫ বছর ধরে এ বিদ্যুৎ আমদানি ব্যয় বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।

ভারত সরকারের সূত্র মোতাবেক, ২০১১-১২ অর্থবছরের (এপ্রিল-মার্চ) তুলনায় গত অর্থবছরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ৪০ দশমিক ৪১ শতাংশ। ২০১২-১৩ অর্থবছরে ঘাটতি হয় ৪৪৯ কোটি ৮২ লাখ ৭০ হাজার, আগের অর্থ বছর তা ছিল ৩২০ কোটি ৩৪ লাখ ৭০ হাজার ডলার।

বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত সুবিধা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকায় রফতানির পরিমাণ বাড়ছে। কিন্তু এর বিপরীতে ভারত থেকে আমদানিও বাড়ছে অনেক বেশি হারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভারতে বাংলাদেশের বাজার ছোট বলে এ রকম হচ্ছে। তাদের মতে, শুল্কমুক্ত সুবিধা সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে বাজার সম্প্রসারণ করে ঘাটতি কমানো সম্ভব। কিন্তু ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতে রফতানি পণ্যের মধ্যে তৈরি পোশাক অন্যতম। এক্ষেত্রে ভারত নিজেই এখন এ পণ্য রফতানির আন্তর্জাতিক বাজার ধরার চেষ্টা করছে। কাজেই শুধু তৈরি পোশাকের রফতানি বাড়িয়ে ঘাটতি কমানোর চেষ্টা সফল নাও হতে পারে।

তবে বাণিজ্য ঘাটতি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক ড. জায়েদ বখ্ত বণিক বার্তাকে বলেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থেই বাণিজ্য ঘাটতি এখন তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। গত দু-তিন বছরে বাণিজ্য অনেক বেড়েছে। এতে ঘাটতি আরো বাড়তে পারে, তবে তা ক্রমান্বয়ে কমে আসবে।
ভারত সরকারের সূত্রানুযায়ী, গত অর্থবছরে (২০১২-১৩) বাংলাদেশে ৫১৩ কোটি ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলারের পণ্য রফতানি করে ভারত। একই সময়ে দেশটি বাংলাদেশ থেকে আমদানি করে ৬৩ কোটি ২১ লাখ ২০ হাজার ডলারের পণ্য। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ৪৪৯ কোটি ৮২ লাখ ৭০ হাজার ডলার; বাংলাদেশী মুদ্রায় যা ৩৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর আগের অর্থবছরে (২০১১-১২) ঘাটতি ছিল প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা। ২০০৯-১০ অর্থবছরের তুলনায় ২০১০-১১ অর্থবছরে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছিল ২৮ শতাংশ। ২০১১-১২ অর্থবছরে ২০১০-১১-এর তুলনায় ঘাটতি বাড়ে ১৪ শতাংশ।

এদিকে ২০০৯-১০ থেকে ২০১২-১৩ অর্থবছর পর্যন্ত ভারতে বাংলাদেশের রফতানির পরিমাণ যথাক্রমে ২৫ কোটি ৪৬ লাখ ৬০ হাজার, ৪৪ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার, ৫৮ কোটি ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ও ৬৩ কোটি ২১ লাখ ২০ হাজার ডলার। একই সময়ে দেশটি থেকে বাংলাদেশ আমদানি করেছে যথাক্রমে ২৪৩ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজার, ৩২৪ কোটি ২৯ লাখ, ৩৭৮ কোটি ৯২ লাখ ও ৫১৩ কোটি ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলারের পণ্য।
সূত্রঃ বনিকবার্তাঃ বদরুল আলম