দলীয় কোন্দলের কথা অস্বীকার কেজরিওয়ালের: এএপি সরকারের শপথ শনিবার

20131225-180303.jpg

দলের মধ্যে কোনো বিভেদ সৃষ্টির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ভারতের দিল্লির ভাবী মুখ্যমন্ত্রী আম আদমি পার্টির (এএপি) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল।টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, আজ বুধবার সাংবাদিকদের কাছে এ দাবি করেন কেজরিওয়াল

মন্ত্রিসভায় স্থান না পাওয়া নিয়ে এএপি নবনির্বাচিত সাংসদ বিনোদ কুমার বিনয় দলের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়। এ প্রসঙ্গে কেজরিওয়াল বলেন, ‘আসলে বিনয় আমার কাছে এসে বলেছেন, তিনি কোনো পদ নিতে চান না।’

এদিকে দলে অসন্তোষের বিষয়টি বিনয়ও অস্বীকার করেছেন। তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, ‘কে বলল, আমি দলের প্রতি ক্ষুব্ধ?’ বিনয় বলেন, ‘আমি মন্ত্রী হতে চাই না। জনগণের সেবা করতে চাই।’

সরকার গঠনে সমর্থন দেওয়া নিয়ে কংগ্রেসের ভেতরে মতভেদ প্রসঙ্গে কেজরিওয়াল বলেন, ‘ইস্যুর ভিত্তিতে আমরা সরকার গঠন করতে যাচ্ছি। কারও সঙ্গে আমাদের কোনো জোট নেই। কংগ্রেসই প্রথম এএপিকে শর্তহীন সমর্থন দেওয়ার কথা বলেছে।’

চিড় দেখা দিয়েছিল দুই দলেই। আপাতত তা মেরামত করে দিল্লিতে সরকার গঠনের দিনক্ষণ ঘোষিত হলো। আগামী শনিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে প্রাদেশিক সরকার গঠন করতে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেবেন আম আদমি পার্টির (এএপি) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তাঁর সঙ্গে শপথ নেবেন মন্ত্রিসভার বাকি ছয় সদস্য।

দুর্নীতিমুক্ত ভারত গড়তে জন লোকপালের দাবিতে দু-বছর আগে রামলীলা ময়দানেই অনশন আন্দোলন শুরু করেছিলেন প্রবীণ গান্ধীবাদী আন্না হাজারে। কেজরিওয়াল ছিলেন সেই আন্দোলনের অন্যতম সৈনিক। ‘টিম আন্না’ থেকে বেরিয়ে এসে আম আদমি পার্টি গড়েন কেজরিওয়াল। এই অল্প সময়েই নির্বাচনে দাঁড়িয়ে সফল হয়ে তিনিই হতে চলেছেন দিল্লির পঞ্চম মুখ্যমন্ত্রী।
সরকার গঠন ও শপথ গ্রহণের প্রাক্কালে দুই প্রধান দল অবশ্য বিতর্কমুক্ত থাকতে পারল না। মন্ত্রিত্বের প্রশ্নে এএপিতে যেমন অসন্তোষ দেখা দিল, তেমনই দ্বিমত দেখা দিল সমর্থনকারী দল কংগ্রেসে। মন্ত্রী হিসেবে যে ছয় বিধায়কের তালিকা কেজরিওয়াল উপরাজ্যপাল নাজীব জংয়ের কাছে মঙ্গলবার পাঠান, তাতে বিনোদ কুমার বিনির নাম ছিল না। সাবেক কংগ্রেসি এই নেতা বহু দিনের রাজনীতিক। কংগ্রেস ছাড়ার পরও তিনি দুবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন। মহল্লা সভা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে তৃণমূল পর্যন্ত ছড়িয়ে দেওয়ার ভাবনা তাঁরই। মন্ত্রীর তলিকায় নাম না থাকায় ক্ষুব্ধ বিনোদকে শান্ত করতে মঙ্গলবারই এএপি নেতৃত্ব তাঁর সঙ্গে দেখা করেন।
কংগ্রেসের মধ্যে সমর্থন ঘিরে মতপার্থক্য থাকার বিষয়টি প্রকাশ্য হয় শীর্ষ নেতা জনার্দন দ্বিবেদীর কথায়। মঙ্গলবার তিনি স্বীকার করেন, সমর্থন দেওয়া নিয়ে দলীয় নেতৃত্বের কেউ কেউ বিরূপ মনোভাব প্রকাশ করেছেন। এই মহলের বক্তব্য, যে দল কংগ্রেসীদের জেলখানায় পাঠানোর কথা বলছে, তাদের আগ বাড়িয়ে সমর্থন দেওয়াটা হারাকিরির শামিল। একই সুর ছিল সোনিয়া গান্ধীর রাজনৈতিক সচিব আহমেদ প্যাটেলের গলাতেও। কিন্তু গতকাল দিল্লি কংগ্রেসের সভাপতি অরবিন্দ সিং লাভলি ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিতের সাংসদপুত্র সন্দ্বীপ জানান, সমর্থনের সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিতই আছে।

এএপি নেতারা দলীয় কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের নির্দেশ দিয়েছেন, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারি অফিসে ঘুষের কারবার অব্যাহত আছে কি না, সে বিষয়ে নজর রেখে দলকে তা জানাতে। সরকার পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রশাসনের মনোভাব ও আচরণের সত্যিই পরিবর্তন ঘটে কি না, তা দেখতে এখন উদগ্রীব রাজধানীর আম আদমি।