মিথ্যা বলার প্রবণতা…

আমরা সবাই কোনো না কোনো কারণে মিথ্যা বলি। নিজের স্বার্থে অথবা অন্যকে খুশি করতেও মিথ্যা বলি। আবার মানুষের জীবনে এমন অনেক সময় আসে যখন মিথ্যা না বলে উপায় থাকে না। অর্থাৎ মানুষ নিরুপায় হয়েও মিথ্যা কথা বলে।

তবে মানুষ  মিথ্যা বলে সাধারণত সাতটি কারণে-

১. কাউকে পরীক্ষার  জন্য- কাউকে পরীক্ষা করার জন্য অনেক সময় অনেকে নিজের অতীত বানিয়ে বলে। যেমন- সে তার অতীত সম্পর্ক নিয়ে রসালো গল্প তৈরি করে  কারো সামনে পরিবেশন করে। এ ব্যাপারে তার প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য।  এতে করে সে জানার চেষ্টা করে ভবিষ্যতে তার সামনে কী বলা যাবে আর কী বলা থেকে দূরে থাকতে হবে।

২. অন্যকে প্রভাবিত করতে- অনেক সময় অন্যকে প্রভাবিত করতে নারী-পুরুষ উভয়েই মিথ্যা বলে। নিজের প্রতি প্রভাবিত করার জন্য অনেকে নিপুণভাবে মিথ্যে বলে। চেষ্টা করে অন্যের চিন্তা ও ভাবনার স্টিয়ারিংটা নিজের হাতে নিতে। এতে সফল হতে উপযুক্ত সময় ও উপায় বুঝে সে ছলনার আশ্রয় নেয়।

৩. অতীত লুকাতে- অনেক সময় অতীতে খারাপ কিছু করে থাকলে তা লুকানোর জন্য মিথ্যার আশ্রয় নেয়। অবশ্য এটা বিভিন্ন কারণে হতে পারে।

৪. উদ্বেগ থেকে দূরে রাখতে- বন্ধু বা ভালোবাসার মানুষকে অনেক সময় উদ্বেগ থেকে দূরে রাখতে মানুষ মিথ্যে বলে। সঙ্গী,বন্ধু বা সহকর্মী কোনো ব্যাপারে উদ্বিগ্ন থাকলে তার মানসিক শান্তির জন্য অনেক সময় অনেকে নানা কথা বাড়িয়ে বলে।

৫. নিজেকে রক্ষা করতে – মানুষ সবচেয়ে বেশি মিথ্যা বলে বিভিন্ন অপরাধ ঢাকার জন্য। সব মানুষই কমবেশি অপরাধ করে। আর এই অপরাধের দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতে অনেকে মিথ্যা বলে।

৬. পরিতৃপ্তির জন্য- অনেক সময় আত্মপরিতৃপ্তির জন্যও অনেকে মিথ্যা বলে। তবে বিষয়টি পুরোপুরি মানসিক। যেমন সে তার সাফল্য বা অর্জন সম্পর্কে বলার সময় একটু রঙ ঢেলে দিয়ে বাড়িয়ে বলবে। এটা অবশ্য ভাবা হয় কেউ নিজেকে অন্যেরে সামনে আলোচিত করে তুলতে আবার কেউ নিজের অনিরাপত্তা থেকেও বলে থাকতে পারে।

৭. কষ্ট লাঘব করত- মানুষের মধ্যে অনেক ধরনের দুঃখ লুকিয়ে থাকে। যা কেউ অন্যকে বলতে চায় না। সেই সময় কেউ ঐ কষ্টের কথা জিজ্ঞেস করলে অনেকে মিথ্যে বলে থাকে।

সূত্র: অনলাইন