দুই বাংলাদেশির সততার স্বীকৃতি

দুই বাংলাদেশির সততার স্বীকৃতি

কামরুল হাসান জনি, দুবাই থেকে : প্রবাসের মাটিতে ছোটখাটো কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য প্রায় সময় দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। একই সময় নিজেকে সত্ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে আত্মসম্মানের সঙ্গে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেন কেউ কেউ। যেমন করেছেন প্রবাসী দুই বাংলাদেশি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ঘটে যাওয়া কাল্পনিক গল্পের মতো দুটি ঘটনায় বাংলাদেশকে যেন অন্য চোখেই দেখেছে বিশ্ব। নিজেদের সততার জন্য সবার হূদয়ে স্থান করে নিয়েছেন এই দুই প্রবাসী।

এদের একজন টাঙ্গাইলের নূরে আলম। অন্যজন কুমিল্লার আবদুল হালিম। এ বছরের জুন মাসে আবদুল হালিমের সততার খবর প্রচার হয়। চলতি মাসে প্রকাশ হলো নূরে আলমের সততার খবর।

নূরে আলম

নূরে আলম পেশায় ট্যাক্সিচালক। পাঁচ বছর ধরে দুবাইতে ট্যাক্সি চালাচ্ছেন তিনি। যাত্রীদের ফেলে যাওয়া মোবাইল থেকে শুরু করে ব্যাগসহ কত কিছুই না ফেরত দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি এক বিকালে ঘটে যাওয়া ঘটনা অবাক করেছে সবাইকে। একজন মানুষ যে চারিত্রিক দিক দিয়ে কতটা সত্ হতে পারে তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নূরে আলম।

সেদিন বিকালে সরকারি কোম্পানিতে চাকরিরত এক যাত্রী আবুধাবির সোফিটেল হোটেল থেকে খলিফা স্ট্রিটের মিলেনিয়াম হোটেলে যাওয়ার জন্য নূরে আলমের ট্যাক্সিতে ওঠেন। যাতায়াত ভাড়া ৪.৫০ দিরহাম হলেও যাত্রীটি পাঁচ দিরহাম দেন চালক আলমকে। এরপর যাত্রীটি তাড়াহুড়া করে হোটেলে চলে যান। ঠিক এক ঘণ্টা পরে নূরে আলম যাত্রীসিটের নিচে একটি সাদা খাম লক্ষ্য করেন। সেই খামের ভিতর আরও দুটি খাম ছিল। একটি খাম ৫০০ দিরহামের নোট দিয়ে ভরা। অপর খামটি ১০০০ দিরহামের নোটে ভরা ছিল। দুটি খামে মোট ৮৮ হাজার ৫০০ দিরহাম, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৯ লাখ টাকা।

নূরে আলম তাত্ক্ষণিক আল শারিয়া পুলিশ স্টেশনকে বিষয়টি খুলে বলেন। এরপর পুলিশ নূরে আলমের কাছ থেকে ওই অর্থ পৌঁছে দেন ওই যাত্রীর কাছে।

নূরে আলম টাঙ্গাইলের ছেলে। তার সততায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের পুলিশ ভূয়সী প্রশংসা করেছে।

অবশ্য নূরে আলম এ বিষয়ে বলেছেন, ‘আমার যা পাওয়া তাই পাব, কেন আমি অন্যেরটা গ্রহণ করব? আমার বাবা একজন সত্ মানুষ, আমিও তার মতোই থাকতে চাই।’

আবদুল হালিম

একই ধরনের আর একটি ঘটনা ঘটেছিল চলতি বছরের ১২ জুন। দুবাইয়ের ক্যাবচালক আবদুল হালিম। সেদিন দুবাই শহরের

আল-মাস টাওয়ার থেকে মিসরীয় এক ব্যবসায়ীসহ দুই যাত্রী তার ট্যাক্সিতে উঠেছিল। যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে হালিম গাড়ি পরিষ্কার করতে গেলে চোখে পড়ে যাত্রীদের ফেলে যাওয়া ব্যাগ। খুলে দেখেন তাতে ৫০০ দিরহামের নোটের বান্ডিল। সঙ্গে কিছু সোনার গহনা। লোভ না করে সেসব তিনি ফেরত দিয়েছিলেন দুবাই পুলিশের কাছে।

হালিমের এই সততায় মুগ্ধ হন মিসরীয় সেই ব্যবসায়ী আর দুবাই পুলিশ। হালিমকে দেয়া হয় সততার সনদ ও আর্থিক পুরস্কার।

হালিমের ভাষায়, ‘সত্ হোন, তাহলে জীবনের সবকিছুই ভালো হবে। আমার দিকে দেখুন, আমি ব্যাগটি ফেরত দিয়েছি। এ জন্য আমি যা পেয়েছি তা ওই ব্যাগের সম্পদের চেয়েও মূল্যবান। সততার স্বীকৃতি।’

এই দুই প্রবাসী বাংলাদেশির সততায় মুগ্ধ হয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পুলিশ প্রশংসা ও সম্মাননা প্রদান করেন। তাদের সম্মানিত করেছে বাংলাদেশ দূতাবাসসহ আরব আমিরাতের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন।