রাশিয়ায় রেল স্টেশনে আবারো আত্মঘাতী বোমা হামলা : নিহত ১৮

রাশিয়ায় রেল স্টেশনে আবারো আত্মঘাতী বোমা হামলা : নিহত ১৮যাযাদি ডেস্ক রাশিয়ার রেলস্টেশনে আবারো আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় ভলগোগ্রাদ শহরে ট্রেন স্টেশনে চালানো এই বোমা হামলায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১৮ জনের প্রাণহানির সংবাদ পাওয়া গেছে। বিস্ফেরণে আহত হয়েছেন ৭০ জনের বেশি। প্রাথমিকভাবে একজন ‘নারী আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী’ এই ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো উগ্রপন্থী গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তথ্যসূত্র : বিবিসি, আল-জাজিরা
ভলগোগ্রাদের আঞ্চলিক পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বোমা হামলার ঘটনাস্থল রেলস্টেশনটির প্রবেশপথের কাছে এক মহিলা বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন। টিভি ফুটেজে দেখা গেছে, বিস্ফোরণে সেখানকার একটি ভবনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং অ্যাম্বুলেন্সের সাহায্যে হতাহতদের সরানো হচ্ছে। রুশ তদন্ত কমিটির মুখপাত্র ভস্নাদিমির মারকিন বলেছেন, এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। ভলগোগ্রাদ শহরটি সোভিয়েত আমলে ‘স্তালিনগ্রাদ’ নামে পরিচিত ছিল। শহরটি রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর ৯০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত।

বোমা বিস্ফোরণটি এমন এক সময় ঘটলো, যখন খ্রিস্টীয় নতুন বছরের উৎসবকে সামনে রেখে রাশিয়ার জনগণ বিভিন্ন অঞ্চলে বেরিয়ে পড়তে ব্যস্ত। বছরের এই সময় রেলস্টেশনগুলোতেও সাধারণত উপচেপড়া ভিড় লেগে থাকে।

ক্রেমলিনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভস্নাদিমির পুতিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এই ঘটনার পরবর্তী বিষয়গুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা এবং গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।’

রাশিয়ার ন্যাশনাল অ্যান্টি-টেরোরিজম কমিটির পক্ষ থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে এটাই মনে হচ্ছে, কোনো একজন নারী আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। রেলস্টেশনের সিসি ক্যামেরায় বিস্ফোরণের পূর্ব মুহূর্তে স্টেশনের প্রবেশদ্বারে উজ্জ্বল কমলা রঙের আলো ধরা পড়েছে। ফুটেজে দেখা গেছে, স্টেশনের প্রবেশদ্বারে মেটাল ডিটেক্টরের একেবারে কাছেই এই বিস্ফোরণটি ঘটে।

এর আগে গত ২১ অক্টোবরেও এক মহিলা ওই শহরে বোমা হামলা চালিয়েছিল। ওই হামলায় ছয় জন নিহত হয়। রাশিয়ার সোচিতে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে শীতকালীন অলিম্পিক গেমস অনুষ্ঠিত হবে। অলিম্পিক গেমসের মাত্র দুই মাস আগে ভলগোগ্রাদে এ ধরনের হামলার কারণে সোচির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে সোচির নিরাপত্তা ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, চেচনিয়ার স্বাধীনতাকামী কট্টর ইসলামপন্থীরা সোচিতে নাশকতা চালানো ব্যাপক চেষ্টা করতে পারে।

এর আগে চলতি বছরের মাঝামাঝি সময় সৌদি রাজপুত্র বন্দর প্রিন্সও এমন একটি সম্ভাবনা ইঙ্গিত করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভস্নাদিমির পুতিনকে বলেছিলেন, সিরিয়া ইস্যুতে আসাদ-সমর্থন ছাড়লে সৌদি আরব তাদের প্রভাবাধীন থাকা চেচনিয়ার কট্টরপন্থীদের কোনো রকমের নাশকতা থেকে দূরে রাখার পদক্ষেপ নেবে। তবে পুতিন সৌদি রাজপুত্রের আহ্বানে সাড়া দেননি। এছাড়া চলতি বছরেরই জুনে রাশিয়ার ককেশাস অঞ্চলের আরেক উগ্রপন্থী নেতা ডকু উমারভ তার অনুসারীদের প্রতি আহ্বান করে বলেন, ‘শয়তানি কার্যকলাপে পূর্ণ সোচি অলিম্পিক বন্ধে সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে এগিয়ে আসুন।’

এছাড়া রোববারের এই বোমা হামলার মাত্র একদিন আগে শনিবার রাশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী উত্তর ককেশাসে ইসলাম আহিয়েভ নামে ডকু উমারভের ঘনিষ্ঠ এক সহচরকে হত্যা করে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদ সংস্থা রিয়া নভোস্তি। তাই রোববারের এই ঘটনাকে তার প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবেও দেখা যায়। কিন্তু এই ঘটনার পেছনে কে বা কারা সক্রিয়, এখনই তা আন্দাজ করা অত্যন্ত কঠিন। তবে বিবিসির রাশিয়া সংবাদদাতা ড্যানিয়েল স্যান্ডফোর্ডের মতে, রোববারের এই ঘটনা থেকে দুটি বিষয় পরিষ্কার। একটি হলো রেলস্টেশন, শপিংমল ইত্যাদি জায়গার মেটাল ডিটেক্টরগুলো হামলাকারী শনাক্ত করার জন্য যথেষ্ট নয়। এছাড়া এটা বোঝা গেল যে, সোচি অলিম্পিকের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক সৃষ্টি করতে নাশকতাকারীরা যে কেবল সোচিকেই বেছে নেবে_ এমন কোনো কথা নেই।