বিয়েপূর্ব যৌন সম্পর্ক অনৈতিক, ধর্ম অনুমোদিত নয়: আদালত

দুজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ ভবিষ্যতে বিয়ে করবেন এমন প্রতিশ্রুতিতে যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলার পর যদি তারা বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ নাও হন তাহলে সেটিকে ধর্ষণ বলা যাবে না। তবে বিয়ের আগে যৌন সম্পর্ক কোনো ধর্মই অনুমোদন দেয় না এবং এটি ‘অনৈতিক’ বলেও স্মরণ করিয়ে দিলেন দিল্লি আদালত।

দিল্লি আদালতের অতিরিক্ত বিচারপতি বিরেন্দ্র ভাট বলেন, ‘একজন নারী বিশেষ করে প্রাপ্ত বয়স্ক, শিক্ষিত এবং কর্মজীবী নারীরা ভবিষ্যতে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে যদি ইচ্ছাকৃতভাবে শারীরিক সম্পর্ক গড়েন তাহলে, সেটি তার জন্যেই হুমকী।

কেননা দুজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে আবদ্ধ হয়ে শারীরিক সম্পর্ক গড়ার পর ভবিষ্যতে যদি তার পুরুষ সঙ্গী বিয়ের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করেন তাহলে সেটিকে ধর্ষণ বলা যাবে না।’

বিচারক আরও বলেন, ‘যদি কোনো শিক্ষিত, প্রাপ্ত বয়স্ক এবং কর্মজীবি নারী ভবিষ্যতে তার বন্ধু বা সহকর্মীর দেয়া বিয়ের প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে শারীরিক সম্পর্ক গড়েন তাহলে এটির তার দায়ভার।

এক্ষেত্রে অবশ্যই নারীকে তার ভবিষ্যত পরিণতি চিন্তা করতে হবে। কারণ ওই বন্ধুটি তাকে বিয়ে করবে এমন কোনো গ্যারান্টি নেই। ভবিষ্যতে বন্ধুটি তাকে বিয়ে করতে পারে, আবার নাও করতে পারে। কিন্তু নারীকে বুঝতে হবে এটি ‘অনৈতিক’ এবং ‘ধর্মবিরোধী’। বিশ্বের কোনো ধর্মই বিয়ের আগে নারী-পুরুষের শারীরিক সম্পর্কের বৈধতা দেয় না।’

বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের এক কর্মজীবী নারীর ধর্ষণ মামলা দায়েরের প্রেক্ষিতে আদালত এ অভিমত ব্যক্ত করেন।

ওই নারীর আবেদনের প্রেক্ষিতে ২৯ বছর বয়সী পাঞ্জাবের এক বাসিন্দাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০১১ সালের মে মাসে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন ওই নারী।

২০০৬ সালের জুলাইয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই দুজনের পরিচয় হয়। ভবিষ্যতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে একাধিকবার ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
উৎসঃ ঢাকাটাইমস২৪