রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বাংলাদেশি প্রথম কার্ডিনালের সাক্ষাৎ

November 27, 2016 4:19 pmComments Off on রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বাংলাদেশি প্রথম কার্ডিনালের সাক্ষাৎViews: 11
Print Friendly and PDF
FaceBook YouTube

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বাংলাদেশি প্রথম ের সাক্ষাৎ


প্রকাশঃ 27-11-2016

hamidকাগজ অনলাইন ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেছেন, ‘বাংলাদেশ থেকে প্রথমবারের মতো কার্ডিনাল হিসেবে নিয়োগ প্রদান এদেশের ঐতিহ্যবাহী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির স্বীকৃতি।’ 

রবিবার অপরাহ্ণে বাংলাদেশে নবনিযুক্ত কার্ডিনাল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি একথা বলেন।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদিন বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। বৈঠকে রাষ্ট্রপতি কার্ডিনাল হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় প্যাট্রিক ডি রোজারিওকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘এটি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় অর্জন।’

ঢাকার আর্চবিশপ প্যাট্রিক ডি রোজারিও গত ৯ অক্টোবর বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কার্ডিনাল পদে নিয়োগ পান।

বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভ্যাটিকান সিটির রাষ্ট্রদূত জর্জ কোচেরি ঢাকার অক্সিলারি বিশপ শরত ফ্রান্সিস গোমেজ ও রাষ্ট্রপতির সংশ্লিষ্ট সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন। -বাসস।

বাংলাদেশ থেকে প্রথম কার্ডিনাল হলেন প্যাট্রিক ডি রোজারিও
বাংলাদেশ থেকে প্রথম কার্ডিনাল হলেন প্যাট্রিক ডি রোজারিও

পোপ ফ্রান্সিস নতুন ১৭ ধর্মযাজককে কার্ডিনাল হিসেবে মনোনীত করেছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশের আর্চবিশপ প্যাট্রিক ডি রোজারিওর নাম রয়েছে। ৭৩ বছর বয়সী ডি রোজারিওই প্রথম বাংলাদেশী, যিনি কার্ডিনাল হওয়ার সম্মান অর্জন করলেন। গতকাল ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের শীর্ষ এ পদের জন্য মনোনীত ব্যক্তিদের তালিকা ঘোষণা করেন পোপ। খবর রয়টার্স।

গতকাল ঘোষিত কার্ডিনালদের তালিকায় ১৩ জনের বয়স ৮০-এর নিচে। বাকি চারজনের বয়স ৮০ বছরের বেশি। সাধারণত কার্ডিনাল বাছাইয়ের সময় বয়স বিবেচনায় নেয়া হয়। কারণ পরবর্তী পোপ নির্বাচনের সময় কার্ডিনালদের মধ্য থেকেই একজনকে বেছে নেয়া হয়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু প্যাট্রিক ডি রোজারিওরও সম্ভাবনা রয়েছে। আর পোপ নির্বাচনে ভোটও দিয়ে থাকেন এ কার্ডিনালরাই।

Archbishop Patrick D'Rozarioগতকাল ঘোষিত তালিকায় ডি রোজারিও ছাড়া অন্যরা ইতালি, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, স্পেন, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, ভেনিজুয়েলা, বেলজিয়াম, মরিশাস, মেক্সিকো, মালয়েশিয়া, লেসোথো, আলবেনিয়া ও পাপুয়া নিউগিনির নাগরিক। এর মধ্যে ইতালি থেকে দুজন ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে তিনজন কার্ডিনাল মনোনীত হয়েছেন। নির্বাচিত এসব কার্ডিনালের মধ্যে ১৩ জন ভ্যাটিকানে যোগ দেবেন। বাকিরা নিজ দেশের কর্মক্ষেত্রেই থাকবেন। কার্ডিনালের তালিকা ঘোষণার সময় পোপ ফ্রান্সিস বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে কার্ডিনালদের এ নিযুক্তি বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে ঈশ্বরের কৃপার এক চমত্কার নিদর্শন।

জানা গেছে, বরিশালের পাদ্রিশিবপুরের এক ক্যাথলিক পরিবারে প্যাট্রিক ডি রোজারিওর জন্ম ১৯৪৩ সালের ১ অক্টোবর। মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি ধর্মসভার সভ্য হন। ১৯৭২ সালে তিনি যাজক হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৯০ ও ১৯৯৫ সালে তিনি যথাক্রমে রাজশাহী ও চট্টগ্রামে বিশপ হিসেবে নিযুক্ত হন। পরে ২০১০ সালে তিনি ঢাকার আর্চবিশপের সহকারী হিসেবে নিযুক্ত হন। পরের বছরই তিনি পূর্ণাঙ্গ আর্চবিশপের দায়িত্ব পান।

ক্যাথলিক যাজকতন্ত্র অনুযায়ী, পোপের পরই কার্ডিনালদের অবস্থান। ‘প্রিন্স’স অব দ্য চার্চ’ হিসেবে পরিচিত লাল মুকুটশোভিত কার্ডিনালরা রোমান ক্যাথলিক যাজকতন্ত্রে পোপের পরামর্শদাতা হিসেবে বিবেচিত হন। ভ্যাটিকানসহ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা কার্ডিনালরা বিভিন্ন বিষয়ে পোপকে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। পাশাপাশি কোনো কারণে পোপ পদত্যাগ করলে কিংবা তিনি মারা গেলে এ কার্ডিনালদের মধ্য থেকেই একজনকে পরবর্তী পোপ হিসেবে নির্বাচন করা হয়। আর সে নির্বাচনও করেন এ কার্ডিনালরাই। এ কারণে বিশ্বের ১২০ কোটি ক্যাথলিক মতানুসারীদের জন্য কার্ডিনাল নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

গতকাল নির্বাচিত কার্ডিনালদের মধ্যে রয়েছেন সিরিয়ায় কর্মরত ইতালির নাগরিক আর্চবিশপ মারিও জেনারি। পোপ তার ঘোষণায় বলেন, ‘মারিও কার্ডিনাল হিসেবে নির্বাচিত হলেও তিনি সিরিয়াতেই থাকবেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির মানুষের কাছে তিনি ঈশ্বরের বাণী পৌঁছে দেবেন।’ এছাড়া ৮০ বছরের বেশি বয়সী চার কার্ডিনাল সম্পর্কে জানানো হয়, দীর্ঘ সময়জুড়ে চার্চকে সেবা করার স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের এ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। এ চারজনসহ গতকাল ঘোষিত ১৭ কার্ডিনালের অভিষেক অনুষ্ঠান (কনসিস্টোরি) আগামী ১৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। ২০১৩ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর বর্তমান পোপের অধীনে এটি হবে তৃতীয় কনসিস্টোরি। এ অভিষেক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, পাপুয়া নিউগিনি, মালয়েশিয়া ও লেসোথোর প্রতিনিধিত্ব থাকবে।

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে মহামান্য প্যাট্রিক ডি’রোজারিও
 
মহামান্য
প্যাট্রিক ডি’রোজারিও
সি.এস.সি.
ঢাকার আর্চবিশপ
গির্জা রোমান ক্যাথলিক
প্রধান ধর্মযাজক ঢাকা
স্থাপিত ২২শে অক্টোবর, ২০১১[১]
পূর্ববর্তী পৌলিনুস কস্তা
আদেশ
বিন্যাস ৮ই অক্টোবর, ১৯৭২
পবিত্রকরণ ১২ই সেপ্টেম্বর, ১৯৯০
থেটোনিয়াস গমেজ দ্বারা
মর্যাদাক্রম আর্চবিশপ
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম অক্টোবর ১, ১৯৪৩ (বয়স ৭৩)
পাদরিশিবপুর, বরিশাল বাংলাদেশ
জাতীয়তা বাংলাদেশী
গোষ্ঠীনাম খ্রিস্টান
পূর্ববর্তী পোস্ট রাজশাহীর বিশপ (১৯৯০-১৯৯৫)
চট্টগ্রামের বিশপ (১৯৯৫-২০১০)
ঢাকার সহকারী আর্চবিশপ(২০১০-২০১১)

আর্চবিশপ প্যাট্রিক ডি’রোজারিও (ইংরেজি: Archbishop Patrick D’Rozario) বাংলাদেশের খ্রীস্টান ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু।[২] তিনি ঢাকার রমনাস্থ আর্চবিশপ হাউজে থাকেন। তিনি বাংলাদেশ কাথলিক বিশপ সম্মিলনি এবং বিশপীয় খ্রীস্টীয় শিক্ষা বিষয়ক কমিশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।[৩] তিনি ঢাকা মহা ধর্মপ্রদেশের বিশপ। তার অধীনে ৭৮,৮১৩ জন ক্যাথলিক খ্রিস্টভক্ত রয়েছেন।

ব্যক্তিজীবন

তিনি ১লা অক্টোবর, ১৯৪৩ সালে বরিশালের পাদ্রিশীবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ব্যক্তি আর্চবিশপ প্যাট্রিক ডি’রোজারিও দেখতে সুশ্রী, লম্বা, চওড়া এবং মিশুক স্বভাবের ও বাকপটু।[২]

শিক্ষাজীবন

প্যাট্রিক ডি’রোজারিও একটি ধমীয় পরিবেশে বেড়ে উঠেন। প্রতিদিন উপাসনা করতে ভোরে গীজায় যেতেন। তিনি বাল্যকালেই পুরোহিত বা ফাদার হওয়ার ইচ্ছে পোষণ করেন। সেই লক্ষে তিনি কিশোর বয়সে সেমিনারীতে প্রবেশ করেন, যেখানে পুরোহিত বা ফাদার প্রাথীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বিভিন্ন সেমিনারীতে দীঘ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার পর তিনি হলি ক্রশ সংঘের আওতায় ১৯৭২ সালে ফাদার বা পুরোহিত হন।

কর্মজীবন

ফাদার প্যাট্রিক ডি’রোজারিও সহকারী ও পাল-পুরোহিত হিসেবে দীঘ দিন বিভিন্ন ধর্ম-পল্লীতে পালকীয় সেবা কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি সেমিনারীতে যেখানে ফাদার প্রাথীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় সেখানেও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২য় ভ্যাটিকান মহা সভার দলিল বাংলায় অনুবাদ ও সম্পাদনার কাজ করেন। ফাদার পদ থেকে তার পদন্নোতি হয়ে তিনি রাজশাহীর বিশপ হিসেবে নিযুক্ত হন ১৯৯০ সালে। সেই দায়িত্ব পালন করেন ১৯৯৫ সাল পযন্ত। এরপর ১৯৯৫ সাল থেকে তিনি চট্টগ্রাম ক্যাথলিক ধর্মপ্রদেশের বিশপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ২০১১ সাল পর্যন্ত।[৪]তৎকালিন ক্যথলিক সম্প্রদায়ের প্রধান পোপ ষোড়শ বেনেডিক্ট তাকে বাংলাদেশের আর্চবিশপ হিসেবে মনোনিত করেন।

পুরস্কার/সম্মাননা

পোপ ষোড়শ বেনেডিক্টের কাছ থেকে পলিউম সম্মানা লাভ করেন ২০১১ সালে।[৫] এটি কাথলিক যাজকদের একটি সর্বোচ্চ সম্মাননা। এছাড়া বাংলাদেশের খ্রীস্টানদের প্রধান ধর্ম গুরু হিসেবে তিনি জাতি-ধর্ম-বর্ণ সকলের নিকট থেকে তিনি সম্মান ও ভালোবাসা পেয়ে থাকেন।

তথ্যসুত্র[সম্পাদনা]

  1. ঝাঁপ দাও ঢাকার নতুন আর্চবিশপ প্যাট্রিক ডি রোজারিও
  2. ঝাঁপ দাও:২.০ ২.১ Cheney, David। “Archbishop Patrick D’Rozario, C.S.C.”। Catholic-Hierarchy। সংগৃহীত ৫ নভেম্বর ২০১১ উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ অবৈধ; আলাদা বিষয়বস্তুর সঙ্গে “bio” নাম একাধিক বার সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে
  3. ঝাঁপ দাও Coadjutor Archbishop Patrick D’Rozario, CSC, Becomes the Archbishop of Dhaka, প্রকাশিত হয়েছে ২৫শে অক্টোবর, ২০১১।
  4. ঝাঁপ দাও নতুন আর্চবিশপ প্যাট্রিক ডি রোজারিও, প্রথম আলো, তারিখ: ২৭-১১-২০১০।
  5. ঝাঁপ দাও – Resignation of Archbishop of Dhaka and succession, প্রকাশিত হয়েছে ২২শে অক্টোবর, ২০১১।

সর্বশেষ সংবাদ

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.