টিআইএনধারীদের আয়কর রিটার্ন সহজ করতে উদ্যোগে নেয়া হয়েছে। আয়কর আইন-২০২৩ অনুযায়ী এখন সহজেই এক পাতার ফরমে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে রিটার্ন জমা দেয়া যাবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তত্ত্বাবধানে নতুন আইন বিষয়ে অবহিতকরণে অংশীজনদের সঙ্গে গণশুনানি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কর অঞ্চল-২ এর কর কমিশনারের কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। নতুন আইনে কী কী পরিবর্তন হলো এবং আয়কর রিটার্ন দাখিলে নতুন করে কী কী সংযোজন ও বিয়োজন হবে তা বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে আয়কর কর্মকর্তারা জানান, নতুন আইনে স্বনির্ধারণী রিটার্ন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যেখানে আগের নিয়মে নরমাল রিটার্ন দাখিল করা যেত। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে। তা না হলে করদাতা প্রত্যাশিত রিবেট পাবেন না এবং বিলম্ব মাশুলও গুনতে হবে।

আয়করদাতার রিটার্ন প্রস্তুত সহজলভ্য করতে ফি নির্ধারণ করে এজেন্সিকে দায়িত্ব দেয়াসহ নতুন নীতিমালা করা হচ্ছে। নতুন আইন অনুযায়ী প্রত্যেক গণকর্মচারীকে রিটার্ন দিতে হবে।

আয়কর কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, বার্ষিক করযোগ্য আয় পাঁচ লাখ টাকার কম হলেই এক পাতার আয়কর বিবরণী জমা দিলেই হবে। এছাড়া সম্পদের পরিমাণ ৪০ লাখ টাকার কম হতে হবে, এমন শর্তও রয়েছে। কম আয় ও সম্পদের এই করদাতাদের জন্য এক পাতার একটি ফরম প্রকাশ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

কম আয়ের করদাতার রিটার্ন জমা সহজ করতেই এক পাতার রিটার্ন ফরম চালু করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

নতুন আইনের আলোকে এই পাতা সাজানো হয়েছে। এক পাতার ওই ফরমে সব মিলিয়ে ১৬ ধরনের তথ্য দিতে হবে। এগুলো হলো নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন), সার্কেল, কর অঞ্চল, কর বর্ষ, আবাসিক মর্যাদা, মোবাইল নম্বরসহ যোগাযোগের ঠিকানা, আয়ের উৎস, মোট পরিসম্পদ, মোট আয়, আরোপযোগ্য কর, কর রেয়াত, প্রদেয় কর, উৎসে কাটা করের পরিমাণ (যদি থাকে), এই রিটার্নের সঙ্গে প্রদত্ত কর, জীবনযাপন ব্যয়।

এক পাতার রিটার্ন ফরমের সুবিধা হলো এখানে কোন খাত থেকে কত কর আয় হয়েছে, এর বিস্তারিত লিখতে হবে না। শুধু মোট আয়ের তথ্য দিলেই হবে। এভাবে মোট সম্পদ, জীবনযাত্রার খরচ, করের পরিমাণ-এসবের মোট পরিমাণ লিখলেই হবে।

এক পাতায় রিটার্ন জমা দিতে কিছু শর্তও দেয়া হয়েছে। যেমন: কোনো কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার হওয়া যাবে না এবং মোটরগাড়ি থাকবে না। এ ছাড়া সিটি করপোরেশন এলাকায় গৃহসম্পত্তি বা অ্যাপার্টমেন্টে বিনিয়োগ থাকলেও এক পাতার ফরম প্রযোজ্য হবে না। বিদেশে সম্পদ থাকলেও চলবে না।

কর্মকর্তারা বলেন, আয়কর রিটার্ন ফরমের জটিল হিসাব-নিকাশের কারণে অনেকে বার্ষিক রিটার্ন দিতে চান না। আগেও এক পাতার ফরম ছিল। তবে এবার নতুন আইনের আলোকে আরও সহজ করা হলো। এখন শুধু মোট আয় ও করের পরিমাণ লিখলেই হয়। এক পাতার রিটার্ন ফরমের পাশাপাশি এবার এক পাতার আয়কর বিবরণী জমার প্রাপ্তি স্বীকারপত্র বা প্রত্যয়নপত্র দেয়া হবে। সেই প্রত্যয়নপত্রের অনুলিপিও প্রকাশ করেছে এনবিআর। এর আগে স্লিপের মতো প্রাপ্তি স্বীকারপত্র ছিল। রিটার্ন ফরমের একটি অংশ কেটে দেয়া হতো।

স্বতন্ত্র করদাতারা রিটার্ন দাখিলের জন্য সময় পাচ্ছেন ১ জুলাই থেকে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থ হলে জরিমানা দ্বিগুণ ও কর অব্যাহতি সুবিধা প্রত্যাহার করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দিলে করদাতারা যোগ্য পরিমাণ বিনিয়োগের ওপর ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কর ছাড় পাবেন। যদি কোনো করদাতা জাতীয় আয়কর দিবসের (৩০ নভেম্বর) মধ্যে ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিতে ব্যর্থ হন, তবে প্রকৃত কর দায় গণনা করার আগে বিনিয়োগের ছাড়ের পরিমাণ অবশ্যই যুক্ত করতে হবে। এর আগে নির্দিষ্ট সময়ের পর আয়কর রিটার্ন জমা দিলে ব্যক্তিগত করদাতারা বিনিয়োগের যোগ্য পরিমাণের ওপর সাড়ে ৭ শতাংশ কর ছাড় পেতেন। নতুন আয়কর আইনের আওতায় আয়কর রিটার্ন বিধিমালা সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর ঐ প্রজ্ঞাপন ইস্যু করা হয়। নতুন প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সঞ্চয়পত্র, প্রভিডেন্ট ফান্ড, কল্যাণ তহবিল, জীবন বিমা, শেয়ার বাজারসহ অন্যান্য খাতে যে পরিমাণ বিনিয়োগ করা হয়, তা করদাতার জন্য অনুমোদিত বিনিয়োগ।

যদি কোনো করদাতা সময়মতো আয়কর রিটার্ন জমা দিতে ব্যর্থ হন তবে তাকে ২৪ মাস পর্যন্ত প্রতি মাসে কর দায়ের ওপর অতিরিক্ত ৪ শতাংশ সুদ দিতে হবে। টিআইএন ধারকের বার্ষিক আয় করযোগ্য আয়ের সীমার নিচে থাকলে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বরধারীরা নির্ধারিত রিটার্ন ফর্মের মাধ্যমে তাদের ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিতে বাধ্য।

সূত্র: বাসস