আল আকসার প্রতিষ্ঠা, গুরুত্ব ও দখলের ইতিহাস

| মাওলানা আবদুল জাব্বার |

বায়তুল মোকাদ্দাসকে মসজিদুল আকসা ও বায়তুল কুদস বলা হয়। এটা একক কোনো স্থাপনা নয়। এটি অনেকগুলো স্থাপনার সমন্বয়ে গঠিত বিশাল চত্বর। এটিকে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়। মুসলমানরা বলে আল আকসা, বায়তুল মোকাদ্দাস বা হারাম শরিফ, ইহুদিরা বলে টেম্পল অব মাউন্ট। আল আকসার প্রতিষ্ঠা, গুরুত্ব ও দখলের ইতিহাস নিয়ে লিখেছেন মাওলানা আবদুল জাব্বার

হজরত সোলায়মান আলাইহিস সালাম খ্রিস্টপূর্ব ১০০৪ সালে বায়তুল মোকাদ্দাস প্রতিষ্ঠা ও নির্মাণ করেন। তিন ধর্মের (মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদি) মানুষের কাছে পবিত্র স্থান হিসেবে পরিচিত এ নগর। এ নগরের বক্ষে শায়িত আছে অজস্র নবী-রাসুল (সা.)।

আল্লাহতায়ালার নির্দেশে পবিত্র কাবাঘর নির্মাণের ৪০ বছর পর খ্রিস্টপূর্ব ২১৭০ সালে প্রথম মসজিদুল আকসা হজরত ইবরাহিম (আ.) কর্র্তৃক নির্মিত হয়। আকসা অর্থ দূরবর্তী, মক্কা থেকে দূরে হওয়ায় এ নাম দেওয়া হয়েছে। এটি মুসলমানদের প্রথম কিবলা। বায়তুল মোকাদ্দাস জেরুজালেম নগরে অবস্থিত। জেরুজালেম ফিলিস্তিন প্রদেশের অন্তর্গত। বায়তুল মোকাদ্দাসে রয়েছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ১. আল-আকসা মসজিদ, ২. ডোম অব দ্য রক ও ৩. ওয়েস্টার্ন ওয়াল।

অবস্থান

জেরুজালেম ভূমধ্যসাগরের ৪৮ কিলোমিটার পূর্বদিকে এবং সাগরপৃষ্ঠ থেকে ২৫৩ ফুট ঊর্ধ্বে অবস্থিত। এ নগরের পূর্বদিকে ২৭ কিলোমিটার প্রায় দূরে জর্দান, জেরুজালেম-দামেস্ক থেকে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তর কোণে এবং বাগদাদ নগর থেকে ১২৬২ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত।

বসতি বিস্তার

খ্রিস্টপূর্ব ৪৫১০-৩৫০০-এর মাঝামাঝি জেরুজালেমে সর্বপ্রথম বসতি স্থাপিত হয়। ১৫০০-১৪০০ খ্রিস্টপূর্ব তৎকালীন মিসরের রাজা জেরুজালেমকে মিসরের সঙ্গে একীভূত করে এবং সাম্রাজ্যকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত করে। পরে তা লোপ পায়, কারণ বিভিন্ন এলাকা থেকে স্বাধীনতার দাবি উঠেছিল। বাইবেলের মতে, জেরুজালেম তখন জেবুস নামে খ্যাত ছিল। এর অধিবাসীরা জেবুসিয়ান নামে পরিচিতি লাভ করে। অন্য এক বর্ণনায় পাওয়া যায় খ্রিস্টপূর্ব ১১০০ শতকে হজরত দাউদ (আ.) কর্র্তৃক জেরুজালেম জয়ের পূর্বে জেবুসিয়ানদের বাসস্থান ছিল।

মসজিদ তৈরির কথা

বায়তুল মোকাদ্দাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে হজরত আদম (আ.), হজরত ইবরাহিম (আ.), হজরত ইয়াকুব (আ.), হজরত সোলায়মান (আ.) ও অর্ধজাহানের খলিফা হজরত ওমর (রা.)-সহ অনেক নবী-রাসুলের নাম ও স্মৃতি। সঠিক স্থান কোনটি নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারে না। কারণ নবী হজরত ইবরাহিম (আ.) আরও একটি ইবাদতখানা নির্মাণ করেছিলেন জেরুজালেমে, ধারণা করা হয় বায়তুল মোকাদ্দাসের কোনো এক জায়গায় মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন, যা মসজিদুল আকসা। এটির নির্মাণ খ্রিস্টপূর্ব ৯৫৭ সাল। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বোরাকে চড়ে মক্কা থেকে এখানে এসেছিলেন। তখন মসজিদটিকে আল-জামে আল-আকসা বলা হতো। খ্রিস্টপূর্ব ৯৫৭ সালে হজরত সোলায়মান (আ.) প্রথম এটি নির্মাণ করেন এবং হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর ছেলে হজরত ইসহাক (আ.) এখানে ইবাদত-বন্দেগি করতেন। পরে হজরত ইসহাক (আ.)-এর দ্বিতীয় পুত্র ছেলে হজরত ইয়াকুব (আ.) ইহুদিদের প্রথম নবী এই মসজিদের সৌন্দর্য আরও বর্ধিত করেন। দুটি বড় এবং ১০টি ছোট গম্বুজবিশিষ্ট কারুকার্য-সমেত তৈরি করেন, যা ইহুদিদের মতে পবিত্র স্থান।

খ্রিস্টপূর্ব ৫৮৬ ব্যাবিলনের রাজা দ্বিতীয় নেবুচাঁদ নেজার এটি ধ্বংস করেন। পারস্য অঞ্চলের গভর্নর জেরুবাবেলের চেষ্টায় খ্রিস্টপূর্ব ৫১৬ সালে দ্বিতীয়বার নির্মিত হয় আগের জায়গায়। ৩১৫ খ্রিস্টপূর্ব সালে রোমানরা এটিকে ময়লা ফেলার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করে। ইহুদিরাও পবিত্র স্থান মনে করত না। ২০৮ খ্রিস্টপূর্ব সালে রাজা হেরোড দ্য গ্রেটের সময় ‘ওয়েস্টার্ন ওয়াল’ নির্মাণ করেন। ৭০ খ্রিস্টাব্দে রোমান খ্রিস্টানরা এটি আবার ধ্বংস করেন এবং তাদের দেবতা জুফিটারের উপাসনার স্থান হিসেবে নির্ণয় করেন। পরে মুসলমানরা জেরুজালেম বিজয় করলে খলিফা হজরত ওমর (রা.) নিজে এ ময়লার স্থানটি পরিষ্কার করে কাঠের একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। পুরো এলাকাটিকে বলা হতো আল-আকসা মসজিদ। বায়তুল মোকাদ্দাসের বিশাল চত্বরে এর অবস্থান।

নবী কারিম (সা.) মেরাজের সময় সব নবীকে নিয়ে যেখানে নামাজ পড়েছিলেন, সেখানে একটি মসজিদ তৈরি করা হয়। নাম কিবলি মসজিদ। ১৬০ ফুট লম্বা ও ৬০ ফুট উচ্চতার বোরাক ওয়াল বা পশ্চিম দেয়াল, যেটি ইহুদিদের গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এটি তাদের প্রথম কিবলা, এদিকে মুখ করে দিনে তিনবার প্রার্থনা করে তারা। এই পশ্চিম ওয়ালের কোনো একস্থানে বোরাক বেঁধে রেখে নামাজ পড়েছিলেন নবী করিম (সা.)। ওই প্রাচীরের উল্টো দিকেই বোরাক মসজিদ। বোরাক বেঁধে রাখার কড়াটি এখনো সেখানে দেখা যায়। অন্য আরেকটি মসজিদ হচ্ছে মারওয়ানি মসজিদ। এ তিনটি মসজিদ মিলে বায়তুল মোকাদ্দাসের আল-আকসা মসজিদ।

নিদর্শনগুলো

বর্তমানে বায়তুল মোকাদ্দাস চত্বরের সোনালি গম্বুজের সবচেয়ে সুন্দর স্থাপনাটির নাম ‘ডোম অব দ্য রক’ বা কুব্বাতুস সাখরা। অনেকে ভুলে আল-আকসা মসজিদ ভেবে থাকেন। আসলে সোনালি গম্বুজ মসজিদের স্থানে পাথরের ওপর দাঁড়িয়ে শেষ নবী (সা.) মেরাজে গমন করেন। ৬৯১ সালে খলিফা আবদুল মালেক ইবনে মারওয়ান এটি নির্মাণ করেন। এটি ইসলামের সবচেয়ে পুরাতন স্থাপনা। এ মসজিদের দেয়ালের পাথরগুলো এত উজ্জ্বল প্রায় ১৫০০ বছর পরও মনে হয় যেন কিছুক্ষণ আগে রঙ করা হয়েছে। এটির গায়ে আরবিতে পুরো সুরা ইয়াসিন লেখা রয়েছে, এটির ভেতরের পাথরটি কেটে নির্মাণ করা হয়েছে ছোট নামাজের স্থান, যেখানে কয়েকজন নামাজ পড়তে পারে। এই সোনালি রঙের গম্বুজটাই গোটা বায়তুল মোকাদ্দাস বা আল-আকসা মসজিদের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু ইহুদিরা মনে করে এই স্থানে ছিল তাদের ফাস্ট ও সেকেন্ড টেম্পল, যা ৭০ সালে রোমানরা ধ্বংস করেছিল। তা ছিল তাদের ফাউন্ডেশন স্টোন। ধর্মগ্রন্থ তওরাত অনুযায়ী হজরত ইয়াকুব (আ.) ওই বেদি তৈরি করেছিলেন। এটি সেই পাথর, যেটিতে বিভিন্ন সময় তারা অতর্কিত হামলা করত আর বলত এর নিচে দুটি প্রাচীন মন্দির রয়েছে। অন্যদিকে আকসা মসজিদের স্থানকে তাদের পবিত্র স্থান বলে দাবি করে আসছে। তাদের মতে, নবী হজরত ইবরাহিম (আ.) তার সন্তানকে এই পাথরের ওপর কোরবানি দিতে চেয়েছিলেন, তাই সব ধর্মের কাছে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ১০৯৯ সালে ক্রুসেডাররা দখল করে খ্রিস্টান গির্জা বানিয়েছিল। ১১৮৭ সালে সুলতান সালাউদ্দীন আইয়ুবী জেরুজালেম বিজয় করে এর চূড়ায় ক্রশ চিহ্নকে সরিয়ে সেখানে চাঁদের চিহ্ন বসিয়ে দিয়েছেন।

আল-আকসার গুরুত্ব

হজরত মুহাম্মদ (সা.) যখন চাচা আবু তালিব ও প্রিয়তমা স্ত্রী হজরত খাদিজা (রা.)-এর ইন্তেকালে শোকে জর্জরিত, ঠিক এমনই মুহূর্তে আল্লাহতায়ালা নবী করিম (সা.)-কে একান্ত সান্নিধ্যে ডেকে নেন। সৃষ্টিজগতের এই শ্রেষ্ঠ আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনাটি হলো মেরাজ। এ ঘটনার শুরুতে ওই রাতে নবী করিম (সা.) মক্কা থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত নৈশভ্রমণ করেন। সেখানে সব নবী-রাসুলদের নিয়ে দুই রাকাত নামাজ শেষে ঊর্ধ্বাকাশে গমন করেন।

দ্বিতীয়ত, দ্বিতীয় হিজরি সনের শাবান মাসের মাঝামাঝি সময়ে নবী করিম (সা.) সাহাবিদের নিয়ে মদিনার অদূরে মসজিদে বনু সালামায় জোহর মতান্তরে আসরের নামাজ আদায় করেন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় রাকাতের মাঝামাঝি সময়ে আল্লাহর নির্দেশে বাকি দুই রাকাত কাবার দিকে ফিরে আদায় করেন। ওই মসজিদটি মসজিদে কিবলাতাইন বা দুই কিবলার মসজিদ হিসেবে পরিচিত। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) মক্কায় থাকাবস্থায় বায়তুল মোকাদ্দাসের দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করেন। মদিনায় হিজরতের পর ১৬ মাস একইভাবে নামাজ পড়েন। অতঃপর কাবার দিকে মুসলমানদের কিবলা পরিবর্তিত করেন। মুসনাদে আহমাদ।

তৃতীয়ত, ফিলিস্তিনে নবী-রাসুলের বাসস্থান ও কবরস্থান হওয়ার কারণে পৃথক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আর এসব গুণ বৈশিষ্ট্যের প্রতি লক্ষ রেখে নবী করিম (সা.)-এর মুখ থেকে উচ্চারিত হয়, তার দিকে সফরের বিশেষ গুরুত্বের কথা। নবী করিম (সা.) তিনটি মসজিদের কথা বলেছেন, যথা মসজিদুল হারাম, মসজিদে নববি ও মসজিদুল আকসার উদ্দেশে সফরকে বিশেষ পুণ্যময় কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

চতুর্থত, উম্মুল মুমিনিন উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি মসজিদুল আকসা থেকে মসজিদে হারামে হজ কিংবা ওমরাহ পালনে গমন করবে, তার আগেকার সব গোনাহ মাফ করে দেওয়া হবে কিংবা তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে। সুনানে আবু দাউদ।

পঞ্চমত, হজরত মায়মুনা (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের বায়তুল মোকাদ্দাস সম্পর্কে কিছু বলুন! রাসুল (সা.) বললেন, বায়তুল মোকাদ্দাস হলো হাশরের ময়দান, পুনরুত্থানের জায়গা। তোমরা তাতে গিয়ে নামাজ আদায় করো। কেননা, তাতে এক ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা অন্যান্য মসজিদে এক হাজার নামাজ আদায়ের সওয়াব পাওয়া যায়। তিনি বললেন, যে ব্যক্তি মসজিদুল আকসায় গমনের শক্তি-সামর্থ্য রাখেন না, তার ব্যাপারে আপনার কী অভিমত? তিনি বললেন, সে যেন তার জন্য জ্বালানি তেল হাদিয়া হিসেবে পাঠায়। কেননা যে বায়তুল মাকদিসের জন্য হাদিয়া পাঠায়, সে তাতে নামাজ আদায়কারী ব্যক্তির মতো সওয়ার লাভ করবে।’ মুসনাদে আহমাদ।

ষষ্ঠত, ইবনে হাওয়ালা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, শিগগিরই অবস্থা এমন হবে যে, তোমরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়বে। একদল সিরিয়ায়, আরেক দল ইয়েমেন এবং অন্যদল হবে ইরাকে। ইবনে হাওয়ালা বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি যদি সে যুগ পাই, তখন আমি কোন দলের সঙ্গে থাকব তা আপনি মনোনীত করে দিন। তিনি বলেন, তুমি সিরিয়াকে গ্রহণ করবে। কারণ সিরিয়া হলো আল্লাহর পছন্দনীয় জমিন। শেষকালে আল্লাহতায়ালা তার নেক ও পুণ্যবান ব্যক্তিদের সেখানে সমবেত করবেন। যদি তোমরা সেখানে যেতে না চাও, তাহলে ইয়েমেনে চলে যাবে। তোমাদের গবাদি পশুকে নিজেদের হাউজ থেকে পানি পান করাবে। কেননা আল্লাহতায়ালা আমার অসিলায় সিরিয়া ও সিরিয়াবাসীর জন্য জিম্মাদার হয়ে গেছেন। এর ফলে তার বাসিন্দারা কুফরের অনিষ্টতা এবং ফিতনা-ফাসাদ থেকে নিরাপদ থাকবে। সুনানে আবু দাউদ।

সপ্তমত, নবী করিম (সা.) জীবনের ত্রয়োদশতম বছরে সংঘটিত হলো মক্কা থেকে মদিনার হিজরত। এরপর পৃথিবীতে সংঘটিত হবে মহাহিজরত। আর সে হিজরত হবে হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর হিজরতভূমির দিকে। এই মহাহিজরতের আলোচনা করেছেন হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.)। তিনি বলেন, আমি হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, অদূর ভবিষ্যতে এক হিজরতের পর আরেকটি হিজরত সংঘটিত হবে। তখন উত্তম মানুষ তারাই হবে, যারা ওই জায়গায় হিজরত করবে, যে জায়গায় হজরত ইবরাহিম (আ.) হিজরত করেছিলেন।

মসজিদুল আকসা দখল ও অধিকার গ্রহণ

তিন ধর্মের তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত এ নগরীর স্থাপনাগুলো দুবার সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছিল। ৫২ বার আক্রমণ করা হয় এবং বিভিন্নভাবে ৪৪ বার উদ্ধার করা হয় ও ২৩ বার অধিকৃত হয়। খ্রিস্টপূর্ব থেকে আজ পর্যন্ত নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এ নগরবাসীর জীবন। তবে মুসলমানদের জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিনতম সময় ছিল ১৫ জুলাই ১০৯৯ সাল। সেদিন কোনো কোনো মুসলিম শাসকের বেইমানির ফলে ক্রুসেডার বাহিনী সমগ্র ফিলিস্তিন ও সিরিয়া দখল করেছিল। এরপর ঘটতে থাকে হৃদয়ছেঁড়া বেদনাদায়ক ঘটনাপ্রবাহ। এই করুণ বেদনার পরিসমাপ্তি ঘটে সেনাপতি ও সুলতান সালাউদ্দীন আয়ুবীর বিজয়ের মাধ্যমে।

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আল-আকসাকে কেন্দ্র করে যত ক্রুসেড হয়েছে অন্য কোনো দেশ ও নগর নিয়ে এত বেশি ক্রুসেড ও যুদ্ধবিদ্রোহ হয়নি। কথায় বলে নদীর এপার ভাঙে ওপার গড়ে এই তো নদীর খেলা। কিন্তু এ কথাও জেরুজালেম ও আল-আকসার ক্ষেত্রে পরাজিত। আজও যে নগর নিয়ে নিত্যদিন চলছে দখলের দ্বন্দ্ব, যুদ্ধ। দখলদার ইসরায়েল কর্র্তৃক পাখির মতো মনুষ্য শিকারের একটি পরিচিত স্থান এ আল-আকসা মসজিদ চত্বর। এ চত্বরে বহু তাজা প্রাণ ইসরায়েলের বুলেটের আঘাতে নিভে যাচ্ছে।