৪৫ বছর ধরে জমি বেদখল-চট্টগ্রামে নতুন ভূমি আইনে ‘প্রথম’ মামলা

অক্টোবর ২, ২০২৩

সোমবার (২ অক্টোবর) আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ (রাউজান আমলী আদালত)। এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর আদালতের কাছে মামলাটি গ্রহণের আবেদন করা হয় বলে জানান বাদীপক্ষের আইনজীবী আবু সায়েম মোহাম্মাদ নাসিম উদ্দিন।

তিনি জানান, মামলাটি দায়ের করেছেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের উত্তর পদুয়া গ্রামের বাসিন্দা অশোক কুমার চৌধুরী প্রকাশ অশোক বড়ুয়া (৭৬)।

মামলায় বাদী ৪৫ বছরের পুরনো অবৈধ দখলদারের কাছ থেকে নিজের উত্তরাধিকারের জমি ফিরে পাওয়ার আবেদন করেছেন। একইসাথে জমিতে অবৈধ দখলদারের ভরাট করা একটি পুকুরও পূর্বের অবস্থায় ফিরে পাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন বাদী।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আসাদুজ্জামান খান বলেন, আমার জানামতে চট্টগ্রামে নতুন ভূমি আইনে এটিই প্রথম মামলা। মামলাটি গ্রহণ করতে বেশ কয়েকদিন সময় নিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত।

নতুন ভূমি আইনে দায়ের হওয়া এই মামলায় মোট ১৫ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। এরা হলেন- পদুয়া ইউনিয়নের উত্তর পদুয়া গ্রামের রমেশ কারিগরের ছেলে প্যায়ারী মোহন দাশ (৮০), প্রসাদ দাশ (৫৫), অজিত দাশ (৫৮), লালু দাশ (৫৭), ভোলা দাশ (৬০), প্রসাদ দাশের ছেলে শুভ দাশ (২২), ভোলা দাশের ছেলে অমর দাশ (৩৫), আনন্দ রক্ষিতের ছেলে শুভ রক্ষিত (৩৮), গৌরাঙ্গ রক্ষিতের ছেলে হরিপন রক্ষিত (৪২), কালিপদ রক্ষিত (৫০), বিষ্ণুপদ রক্ষিত (৪৮), গুরুপদ রক্ষিত (৪৯), মৃত মিষ্টি সুধাংসু দাশের ছেলে প্রদির দাশ (৫৬), জোৎস্না দাশের ছেলে জুয়েল দাশ (৩০) ও দিনা বন্দু দাশের মেয়ে জোৎসা দাশ তারা সবাই উত্তর পদুয়ার জমিদার টিলা গ্রামের বাসিন্দা।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, ১৯৭২ ও ১৯৭৮ সালের রাঙ্গুনিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রিকৃত কবলা দলিলমূলে ৫টি দাগে মোট ১৪২.৫০ শতক জমির মালিক ইন্দ্র প্রভা চৌধুরী। যা তার স্বামী তরুণী সেন চৌধুরী জীবিত থাকা অবস্থায় ১৯৪৫ সালে তাকে উইল করে দিয়ে যান। তরুণী সেন চৌধুরী ও ইন্দ্র প্রভা চৌধুরী তাদের প্রাপ্ত সম্পত্তিতে ভোগ দখল থাকা অবস্থায় মারা যান।

পরবর্তীতে তাদের পালক (দত্তক) পুত্র অশোক কুমার চৌধুরী প্রকাশ অশোক বড়ুয়া এই সম্পত্তি হিন্দু আইনে প্রাপ্ত হয়। ইন্দ্র প্রভা চৌধুরী চাষাবাদ করে ফসল সরবরাহ করার উদ্দেশ্য জমিগুলোর দায়িত্ব প্যায়ারী মোহন দাশকে দিলে তিনি কিছু দিন সেই পালন করেন। কিন্তু কয়েক বছর পরেই তিনি এ দায়িত্ব পালনে গড়িমসি করেন। ইন্দ্র প্রভা চৌধুরীর ওয়ারিশ অশোক কুমার চৌধুরী প্যায়ারী মোহন দাশের কাছে ফসল চাইলেও তিনি ফসল ভালো উৎপাদন হয়নি বলে জানাতেন এবং ফসল সরবরাহ থেকে বিরহ থাকতেন।

পরে অশোক কুমার চৌধুরী অসুস্থতা, বার্ধক্য ও পারিবারিক কারণে তপশীলভুক্ত সম্পত্তি দেখাশোনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারেননি। পরবর্তীতে অশোক কুমার চৌধুরী তার সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণে গেলে দেখেন যে- প্যারারী মোহন দাশ ও তার ওয়ারিশগণ অর্থাৎ ১-৭ নম্বর বিবাদী ও পার্শ্ববর্তী দাগের অবশিষ্ট সম্পত্তির দাবিদাররা তার সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছেন। এমনকি সেখানে থাকা একটি পুকুরও ভরাট করে ফেলেছেন।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইতিপূর্বে বাদী বেশ কয়েকবার বিবাদীদের অবৈধ দখল ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করলেও তারা তা কর্ণপাত করেননি। পরে বাদী বাধ্য হয়ে গত ১০ জুলাই ও ১০ সেপ্টেম্বর মামলার বাদী আমমোক্তার নিয়োগের মাধ্যমে বিবাদীদের বিরুদ্ধে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

পরে থানার হস্তক্ষেপে সার্ভেয়ারের মাধ্যমে জমি পরিমাপ করে বাদীকে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও বিবাদীরা সেই সিদ্ধান্তে সম্মত হননি।

বাদী আইনজীবী আবু সায়েম মোহাম্মদ নাসিম উদ্দিন একুশে পত্রিকাকে বলেন, মামলায় বিবাদীদের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখল ও পুকুর ভরাট করে শ্রেণি পরিবর্তনের অভিযোগ আনা হয়েছে। নতুন ভূমি আইনের ৭, ১৩ ও ১৬ ধারায় কারও বিরুদ্ধে এই অপরাধ প্রমাণিত হলে ২ বছর করে ৪ বছর দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে প্রথম মামলা, সিআইডিকে তদন্তের আদেশ

অক্টোবর ২, ২০২৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিজ্ঞ সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ২য় আখাউড়া আদালতে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন -২০২৩ এ প্রথম মামলা হয়েছে। মামলা নং-সি,আর-৪৬১/২০২৩। রবিবার দুপুরে নতুন এই আইনে মামলাটি দায়ের করেন জেলার আখাউড়া উপজেলার মসজিদ পাড়ার বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী ।

মামলার বাদী জানান একই এলাকার ইবনে মাসুদ লাকসুর নের্তৃত্বে একটি প্রভাবশালী চক্র তফসিল ভূক্ত ভূমি জোর পূর্বক দখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় তারা সীমানার টিনের প্রাচীর ভাংচুর করে । এ ছাড়া ভুমিতে অবস্থিত ৩৫ টি ফলদ ও বনজ গাছ কেটে ফেলে। বাদী পক্ষের আইনজীবী এডভেকেট গোলাম সারোয়ার ভূইয়া জানান শুনানী শেষে বিজ্ঞ সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট সিআইডিকে তদন্ত করে রিপোর্ট দেয়া আদেশ দিয়েছেন।

এ দিকে মামলার বাদি দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, আসামিরা জোরপূর্বক ভাবে ভূমি দখলের জন্য তাকে পাণনাশের হুমকি দিচ্ছে এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুদৃষ্টি কামনা করেন।

আখাউড়ায় ১ প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ প্রতিকার আইনে মামলা: 

আখাউড়ায় মো. মাসুদ লাকসু নামে এক প্রভাবশালী ব্যাক্তির বিরুদ্ধে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ প্রতিকার আইন -২০২৩ এ প্রথম মামলা হয়েছে। মামলাটি’র তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট (২য়) আখাউড়া আদালতে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন -২০২৩ এ মামলা হয়েছে।

মামলা নং-সি,আর-৪৬১/২০২৩। সোমবার, ২ অক্টোবর দুপুরে নতুন এই আইনে মামলাটি দায়ের করেন জেলার আখাউড়া উপজেলার মসজিদ পাড়ার বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী ।

মামলার বাদী দেলোয়ার হোসেন এর অভিযোগ  একই এলাকার প্রভাবশালী ব্যাক্তি মাসুদ লাকসুর নের্তৃত্বে একটি প্রভাবশালী চক্র তফসিল ভূক্ত ভূমি জোর পূর্বক দখলের চেষ্টা চালায়।

দেলোয়ার আরও বলেন,  এ সময় তারা সীমানার টিনের প্রাচীর ভাংচুর করে । এ ছাড়া ভুমিতে অবস্থিত ৩৫ টি ফলজ ও বনজ গাছ কেটে ফেলে।

বাদী পক্ষের আইনজীবী এডভেকেট গোলাম সারোয়ার ভূইয়া সাংবাদিকদের জানান, শুনানী শেষে বিজ্ঞ সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট সিআইডিকে তদন্ত করে রিপোর্ট দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন।

আইন-আদালত

ভূমি অপরাধ প্রতিকার আইনে প্রথম মামলা, পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ

বৃহস্পতিবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৩

জাল দলিল তৈরি করে অন্যের সম্পত্তি নিজের বলে দাবি ও প্রচারণার অভিযোগে নতুন হওয়া ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে একটি মামলা হয়েছে। সম্প্রতি কার্যকর হওয়া ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’ এ দায়েরকৃত প্রথম মামলা এটি।

বুধবার (৪ অক্টোবর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে সালমা বেগম নামের এক নারী এ মামলা করেন। এতে মো. বশির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে আগামী ১৯ ডিসেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

নতুন হওয়া ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে এটি ঢাকায় প্রথম মামলা বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী জানিয়েছেন। সালমা বেগম ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বাঘৈর গৈস্তা এলাকার বাসীন্দা।

আদালতে বাদীপক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট নাদিম মাহমুদ। এছাড়া মামলাটির ড্রাফটিংয়ে ও ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ এর ধারা সমূহ ব্যাখ্যায় তাকে সহযোগিতা করেছেন অ্যাডভোকেট ইয়াছিন আলফাজ, অ্যাডভোকেট আরফান মিয়া, অ্যাডভোকেট ইমরান হোসেন এবং অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম।

এ বিষয়ে মামলার বাদী সালমা বেগমের আইনজীবী নাদিম মাহমুদ ও আরফান অ্যাডভোকেট ইয়াসিন আলফাজ মিডিয়াকে বলেন, জাল দলিল ব্যবহার করে মালিকানা দাবির অভিযোগে নতুন হওয়া ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে ভুক্তভোগী নারী একটি মামলা দায়ের করেছেন। এটা ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আমলি আদালতের প্রথম মামলা বলে তিনি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে শুনেছেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পিবিআইকে তদন্ত করে আগামী ১৯ ডিসেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, সালমা বেগম ও তার মেয়ে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বাঘৈর গৈস্তা এলাকার বাসীন্দা। আসামি বশির উদ্দিন তাদের দুই মা মেয়ের সম্পত্তির মিথ্যা জাল দলিল তৈরি করে নিজের নামে মালিকানা দাবি ও প্রচার করে নামজারি করেন। পরবর্তীতে গত রোববার বিকেলে ওই সম্পত্তি জোর করে দখলের চেষ্টা করলে তারা চিৎকার কান্না কাটি করেন। এ সময় আশপাশের লোকজন উপস্থিত হলে তিনি চলে যান। তবে যাওয়ার সময় তাদেরকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাদিম মাহমুদ আরও বলেন, আসামি বশির ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ এর ৪(১)(ক)/৫(১)(ক)/৫(১)(খ)/৫(১)(ঘ) ধারা এবং প্রাণ-নাশের হুমকিসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়ায় দণ্ড বিধির ৫০৬ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

জানা গেছে গত ১৮ সেপ্টেম্বর ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৩’ পাশ করে গেজেট জারি করে সরকার। এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন এ আইনটির বিস্তারিত তুলে ধরেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী।

ওই সময় তিনি বলেন নতুন আইনে ভূমি প্রতারণা, জালিয়াতি অবৈধ দখলের মামলা ১৮০ দিন বা ৬ মাসের মধ্যে বিচার শেষ করার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ভূমি প্রতারণা, জালিয়াতি, অবৈধ দখলের মতো ১২টি অপরাধ চিহ্নিত করে সর্বোচ্চ শাস্তি সাত বছরের বিধান রাখা হয়েছে। এ আইনের ফলে ভূমি সংক্রান্ত অপরাধ কমবে এবং জমিজমা সংক্রান্ত মামলাও অনেক কম যাবে বলে তিনি জানিয়েছিলেন।