ওয়ারিশানদের তাদের উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের রেজিস্ট্রিকৃত বণ্টননামা নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। তিনি বলেন, কেবল মুখের কথার ভিত্তিতে আইনে কিছু হয় না। এর জন্য লিখিত ডকুমেন্ট থাকা জরুরি।

বুধবার (১৫ মার্চ) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনের কেন্দ্রীয় সেমিনার হলে ভূমি আপিল বোর্ড আয়োজিত ‘ভূমি রাজস্ব মামলা ব্যবস্থাপনা: সমস্যা ও প্রতিকার’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে অনেক ক্ষেত্রে তার উত্তরাধিকাররা প্রাপ্ত সম্পদের রেজিস্ট্রিকৃত বণ্টননামা দলিল করেন না। ফলশ্রুতিতে কিছুদিন পর তাদের মধ্যে বিরোধ শুরু হতে দেখা যায়, যার ফলে মামলার জন্ম হয়।

আবার, তাদের সময় না হলেও, তাদের পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও পূর্বপুরুষদের থেকে প্রাপ্ত সম্পদকে কেন্দ্র করে বিবাদ শুরু হতে দেখা যায়।  

সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বণ্টননামা করার পরও যাদের ইচ্ছে তারা যৌথভাবে বসবাস করতে পারেন।

এমনকি ইচ্ছে হলে প্রযোজ্য প্রক্রিয়ায় সম্পদ হস্তান্তর করতেও পারেন। কিন্তু বণ্টননামা না করা থাকলে, পরবর্তীতে উত্তরাধীকাররা কিংবা তাদের পরবর্তী প্রজন্ম কোনো কারণে আলাদাভাবে কিছু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে কিংবা তাদের নিজেদের মধ্যে মনোমালিন্য শুরু হলেই উদ্ভব হয় মামলার। এজন্য বিবাদ এবং মামলা কমাতে বণ্টননামা গুরুত্বপূর্ণ।

ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান এ কে এম শামিমুল হক ছিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি আচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবু বকর ছিদ্দিক এবং ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুল বারিক। অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয় ও ভূমি আপিল বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।  

বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকদের (রাজস্ব) নিয়ে এ কর্মশালা আয়োজন করা হয়। এ কর্মশালার উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে: মামলা সংখ্যা কমানোর উপায় চিহ্নিতকরণ, মামলা পরিচালনায় পদ্ধতিগত ব্যাপারগুলো উন্নয়ন, আদালত পরিচালনায় সক্ষমতা বাড়ানো ও মামলায় দীর্ঘসূত্রিতা কমানোর উপায় চিহ্নিত করা।