বাংলাদেশে চীন-রাশিয়ার সম্মিলিত অনুদান ১ শতাংশেরও কম

ইসমাইল আলী: বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় অংশীদার বলা হয় চীন ও রাশিয়াকে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অঙ্গনেও সরব দেশ দুটি। বাংলাদেশের বর্তমান আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এ দেশ দুটি ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে। তবে বাংলাদেশকে সহায়তার ক্ষেত্রে চীন ও রাশিয়া খুব একটা বড় ভূমিকা রাখেনি। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশকে নামমাত্র অনুদান দিয়েছে দেশ দুটি। এক্ষেত্রে শীর্ষ তিনটি স্থানে রয়েছে জাতিসংঘ ও এর অঙ্গ সংগঠন, জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্র।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে দেখা যায়, ১৯৭১-৭২ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত ৫২ বছরে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ অনুদান পেয়েছে ৩০ দশমিক ১০৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে চীন-রাশিয়ার সম্মিলিত অনুদান এক শতাংশেরও কম। যদিও শীর্ষ ১১ দেশ ও সংস্থা থেকেই অনুদান এসেছে ৮৫ শতাংশ। এছাড়া প্রতিবেশী ভারতের অনুদানও তুলনামূলক অনেক কম।

ইআরডির তথ্যমতে, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ অনুদান পেয়েছে জাতিসংঘ ও এর অঙ্গ সংগঠন থেকে। সংস্থাটি এ পর্যন্ত ৪ দশমিক ৭৯৬ বিলিয়ন অনুদান দিয়েছে, যা মোট অনুদানের ১৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা জাপান গত জুন পর্যন্ত বাংলাদেশকে অনুদান দিয়েছে ৩ দশমিক ৬০৯ বিলিয়ন ডলার, যা মোট অনুদানের ১১ দশমিক ৯৯ শতাংশ। আর যুক্তরাষ্ট্র গত জুন পর্যন্ত ৩ দশমিক ০৯২ বিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছে বাংলাদেশকে, যা মোট অনুদানের ১০ দশমিক ২৭ শতাংশ।

চতুর্থ স্থানে থাকা যুক্তরাজ্য গত জুন পর্যন্ত বাংলাদেশকে অনুদান দিয়েছে ২ দশমিক ৬৩৮ বিলিয়ন ডলার, যা মোট অনুদানের ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্র মূলত ইউএসএইড এবং যুক্তরাজ্য ইউকেএইডের মাধ্যমে অনুদানের বড় অংশ দিয়ে থাকে। এছাড়া সরকারিভাবেও সরাসরি অনুদান দেয়া হয়। করোনাকালীন সময়ে কোভেক্সের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ কভিড-১৯ টিকা ‘ফাইজার’ অনুদান হিসেবে দিয়েছে বাংলাদেশকে।

অনুদান দেয়ায় পঞ্চম স্থানে থাকা কানাডা দিয়েছে ২ দশমিক ১৯৮ বিলিয়ন ডলার; যা মোট অনুদানের ৭ দশমিক ৩০ শতাংশ। আর ২ দশমিক ০৫৭ বিলিয়ন ডলার বা ৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ অনুদান ইইউ থেকে পেয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া জার্মানি থেকে বাংলাদেশ অনুদান পেয়েছে ১ দশমিক ৮৪৯ বিলিয়ন ডলার বা ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং ইউনিসেফ থেকে পেয়েছে ১ দশমিক ৬৫৪ বিলিয়ন ডলার বা ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

এর বাইরে বিশ্বব্যাংক বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশকে ১ দশমিক ৬২৩ বিলিয়ন ডলার বা ৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ, নেদারল্যান্ডস ১ দশমিক ১১৭ বিলিয়ন ডলার বা ৩ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং ডেনমার্ক ১ দশমিক ০১৪ বিলিয়ন বা ৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ অনুদান দিয়েছে। অন্যান্য দেশ ও সংস্থার অনুদান এক বিলিয়ন ডলারের কম। এর মধ্যে প্রতিবেশী দেশ ভারতের অনুদান ৪১৯ মিলিয়ন ডলার, চীনের অনুদান ১০৪ মিলিয়ন ডলার এবং রাশিয়ার ৩৫ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ চীন ও রাশিয়ার সম্মিলিত অনুদান মাত্র ১৩৮ মিলিয়ন ডলার; যা মোট অনুদানের শূন্য দশমিক ৪৬ শতাংশ।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ খাদ্য সহায়তা বাবদ অনুদান পেয়েছে প্রায় ৬ দশমিক ২৬৮ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ২১ শতাংশ। আর পণ্য সহায়তা হিসেবে পেয়েছে ৫ দশমিক ৬৫১ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১৯ শতাংশ অনুদান। তবে প্রকল্প সহায়তা হিসেবেই পেয়েছে সর্বোচ্চ ১৮ দশমিক ১৮৬ বিলিয়ন ডলার বা ৬০ শতাংশ অনুদান।

এক্ষেত্রে জাতিসংঘ ও তার অঙ্গ সংগঠন অনুদানের প্রায় ৫২ শতাংশ প্রকল্প সহায়তা, ৪৫ শতাংশ খাদ্য সহায়তা ও তিন শতাংশ পণ্য সহায়তা হিসেবে দিয়েছে। জাপান তার অনুদানের ৬৩ শতাংশ পণ্য সহায়তা, ৩০ শতাংশ প্রকল্প সহায়তা ও সাত শতাংশ খাদ্য সহায়তা হিসেবে দিয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্র তার অনুদানের ৪৩ শতাংশ খাদ্য সহায়তা, ৪২ শতাংশ প্রকল্প সহায়তা ও ১৫ শতাংশ পণ্য সহায়তা বাবদ দিয়েছে।

এদিকে যুক্তরাজ্য তার অনুদানের ৮৩ শতাংশই দিয়েছে প্রকল্প সহায়তার আওতায়। এছাড়া ১৪ শতাংশ পণ্য সহায়তা ও তিন শতাংশ খাদ্য সহায়তা আকারে বাংলাদেশকে দিয়েছে দেশটি। কানাডা তার অনুদানের ৪৩ শতাংশ খাদ্য সহায়তা, ৪০ শতাংশ পণ্য সহায়তা ও ১৭ শতাংশ প্রকল্প সহায়তা আকারে বাংলাদেশকে দিয়েছে। ইইউ তার অনুদানের ৬১ শতাংশই দিয়েছে প্রকল্প সহায়তার আওতায়। এছাড়া ৩৪ শতাংশ খাদ্য সহায়তা ও পাঁচ শতাংশ পণ্য সহায়তা আকারে বাংলাদেশকে দিয়েছে সংস্থাটি।
সূত্র: শেয়ার বিজ অনলাইন