আইন-আদালত

‘মব’ নিয়ে বিশ্লেষণ

  ফেসবুক ৮ জুলাই ২০২৫ , ১২:২১:৩৯

অপরাধ বিশেষজ্ঞ না হলেও সবাই যেহেতু দিচ্ছে তাই ‘মব’ নিয়ে আমিও একটু জ্ঞান দানের প্রয়োজন অনুভব করছি।

https://www.facebook.com/share/16bPTQ5825/

‘মব’ বলে আমরা এখন যা বুঝি বা বুঝাই সেটিকে ‘একরকম’ করে দেখলে সমস্যা তৈরি হবেই। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এই টার্মটাকে সিম্পল একক অর্থে ব্যবহারের সুযোগ নেই। আপনি ‘আইডিয়াল’ ওয়ার্ল্ডের বা আইডিয়াল সিচুয়েশনের হিসাব করে বাংলাদেশের বর্তমান সময়ের বাস্তবতাকে ডিনাই করে ‘মব’কে ডিফাইন ও ডিল করতে গেলে সমাধান পাবেন না, উল্টো হিতে বিপরীত ঘটবে।

মনে রাখতে হবে, জুলাই আগস্টের মাইর খাওয়া এবং মাইর দেয়া ছাত্র জনতা– যাদের রক্ত ও সাহসের ওপর ভর করে আপনি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছেন এসি রুমে বসে– আজ এক বছর পর খুব নিশ্চিন্ত, নিরাপদ, আইডিয়াল ও শান্তির জীবন যাপন করছে না। বরং অনেক ক্ষেত্রেই উল্টো ঘটছে। এদের বেশিরভাগই অশান্তিতে আছে এবং জুলাইয়ের পারপিট্রেটরদের বেশিরভাগই শান্তিতে আছে (আমি জেনারালইজড করেই বললাম)।

ফলে এই লোকগুলোর ন্যায্য অনেক ক্ষোভ মাঠে অনেকটা ভায়োলেন্টভাবে গড়ানোটা অস্বাভাবিক না (আপনার আমার কাছে এটা কাম্য না হলেও এটা বাস্তবতা)।

আমি বর্তমান বাংলাদেশে ‘মব’কে ৩টি ভাগে ভাগ করে দেখতে চাই।

১ –পিউর ক্রিমিনাল মব:

এরা হলো বর্তমান অস্থির পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে নিজের অপরাধ প্রবণতাকে আশকারা দিয়ে খুন, গণধর্ষণ, জমি দখল, সংখ্যালঘুদের নিপীড়ন, কাউকে হয়রানি এরকম আরো নানান অপরাধ করছে। যেমন কোথাও অনেক লোক জড়ো হয়ে কাউকে চোর সন্দেহ করে পিটিয়ে মেরে ফেলছে। এদেরকে যথাযথ আইন প্রয়োগ করে ফোর্সফুলি দমন করতে হবে।

২ –উগ্রপন্থীদের স্পন্সরড মব:

উগ্রপন্থার সাথে জড়িত চিহ্নিত কিছু ব্যাক্তির মদদে কিছু ক্ষেত্রে ন্যায্য কিছু ক্ষেত্রে অন্যায্য দাবিতে লোক জড়ো করে ভায়োলেন্ট পরিস্থিতি তৈরি করা। যেমন ধরেন ঢাবিতে ছাত্রীকে যৌন হয়রানিকারী ছেলেকে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনার চেষ্টা করা মব। আমি এই ধরণের মবকে একটা ইনভেস্টিগেশনে এক্সপোজ করার পর এদের ভিজিবল একটিভিটি কমেছে কিন্তু ইনভিজিবলি অনেক কিছু হয়তো করছে। এরা মূলত এসব কাজ করে নিজেদের সোশাল ক্যাপিটাল বাড়াতে চায় । এদেরকে গোড়ায় দমন করতে হবে।

৩ –ক্ষুব্দ জনতার প্রতিবাদ:

আগেই বলেছি জুলাই আগস্টের আন্দোলনে অংশ নেয়া লাখো কোটি জনতার অনেক ন্যায্য ক্ষোভ আছে (যারা অংশ নেয়নি তাদেরও আছে), এদের অনেকে যৌক্তিক দাবি আদায় করতে গিয়ে অনেক সময় রাস্তাঘাট অবরোধ করছে, কারো পদত্যাগ দাবি করতে জড়ো হচ্ছে। এই ক্ষেত্রে অনেকে ভায়োলেন্ট হয়ে যাচ্ছে। আবার অনেকে অযৌক্তিক দাবি নিয়েও মাঠ দখল করছে। এসবই নৈরাজ্য, কিন্তু এটি প্রথম দুই প্রকার মবের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এদেরকে ফোর্সফুলি দমন করতে পারা যাবে না, এবং উচিতও। এদের ক্ষোভ প্রশমিত করার ব্যবস্থা নিতে হবে। অযৌক্তিক দাবি হলে সেটা তুলে ধরে বুঝিয়ে শুনিয়ে না হলে তারপর কঠোর হতে হবে। শুরুতেই এদেরকে জবরদস্তি করে দমানোর চেষ্টা ভালো ফল আনবে না।

কিন্তু এদেরকে হরেদরে আগের দুই প্রকারের সাথে মিলিয়ে দেখে ‘মব মব’ বলে চিৎকার করতে চাইলে সেইটাকে বুঝে না বুঝে ‘আওয়ামী বয়ান’ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা বলে অভিযুক্ত হওয়াটা অস্বাভাবিক না।

মব অবশ্যই দমাতে হবে, কিন্তু মাঠের বাস্তব পরিস্থিতিও আমলে নিতে হবে। এসি রুমে বসে আমাদের আইডিয়াল গণতান্ত্রিক রোমান্টিক অনূভব দিয়ে যে করো একটু চিৎকার করে কথা বলাকে ‘অসভ্য বর্বর মব’ বলে নাক সিটকনো কমাতে হবে।

সূত্র:

https://www.facebook.com/share/1DuPXD2ose/

“মব” শব্দটি সাধারণত “উত্তেজিত জনতা” বা “উচ্ছৃঙ্খল জনতা” অর্থে ব্যবহৃত হয়। এটি এমন একটি ভিড়কে বোঝায় যারা আইন নিজের হাতে তুলে নেয় এবং সহিংস কার্যকলাপ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। মব শব্দটি ইংরেজি শব্দ “mob” থেকে এসেছে। এটিকে “মব জাস্টিস” বা “উচ্ছৃঙ্খল জনতার বিচার” হিসেবেও উল্লেখ করা হয়, যেখানে জনতা বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে নিজেরাই শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করে। 

আরও বিস্তারিতভাবে, মব শব্দটি দিয়ে বোঝায়: 

  • উত্তেজিত জনতা:
    যখন কোনো বিষয়ে উত্তেজিত বা ক্ষুব্ধ জনতা একত্রিত হয় এবং আইন বা কর্তৃপক্ষের তোয়াক্কা না করে নিজেরাই কোনো কাজের চেষ্টা করে, তখন তাদের “মব” বলা হয়। 

  • উচ্ছৃঙ্খল জনতা:
    যখন এই জনতা বিশৃঙ্খল ও সহিংস আচরণ করে, তখন তাদের “উচ্ছৃঙ্খল মব” বলা হয়। 

  • মব জাস্টিস:
    যখন এই মব কোনো বিচার বা শাস্তি দেওয়ার জন্য আইন নিজের হাতে তুলে নেয়, তখন তাকে “মব জাস্টিস” বা “উচ্ছৃঙ্খল জনতার বিচার” বলা হয়। 

সংক্ষেপে, মব শব্দটি একটি নেতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয় এবং এটি সাধারণত বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সাথে সম্পর্কিত। 

আরও খবর