আইন-আদালত

আ.লীগ সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবেদন জাতিসংঘে উপস্থাপন

  ৫ মার্চ ২০২৫ , ১১:০০:৪০

আ.লীগ সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবেদন জাতিসংঘে উপস্থাপন-

উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

বাংলাদেশে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের জুলুম, নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার তথ্য অনুসন্ধান প্রতিবেদনটি জেনেভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। বুধবার (৫ মার্চ) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টার পর জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ে এটি উপস্থাপন করেন সংস্থাটির হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক।

প্রতিবেদনটিতে মূলত ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বিক্ষোভের সঙ্গে সম্পর্কিত হত্যা ও নির্যাতনের চিত্রগুলো তুলে ধরা হয়েছে। অনুষ্ঠানটি জেনেভা থেকে সংস্থাটির ইউটিউব চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে।

এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের (ওএইচসিএইচআর) দপ্তর তাদের জেনেভা অফিস থেকে ‘বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টের আন্দোলন সম্পর্কিত মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতন’ শীর্ষক একটি অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা সরকারের নৃশংসতার বিস্তর তথ্য উঠে আসে।

জাতিসংঘের সত্যানুসন্ধান দলের ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ঘিরে জুলাই ও আগস্টে যেসব মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভ চলাকালে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই মিলিটারি রাইফেল এবং প্রাণঘাতী মেটাল প্যালেটস লোড করা শটগানে নিহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের শটগান সাধারণত বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী ব্যবহার করে। বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষ গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। কেউ কেউ আজীবনের জন্য কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন।

রোববার (২ মার্চ) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস জানান, মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনের প্রতিবেদনটি জেনেভায় উপস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশে জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের বিষয়ে সুপারিশ নিয়ে সদস্য রাষ্ট্র ও বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বিক্ষোভের সঙ্গে সম্পর্কিত মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতনের ওপর জাতিসংঘের মানবাধিকার তথ্য অনুসন্ধান প্রতিবেদনটি জেনেভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশ সময় বুধবার (৫ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টার পর জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

এ সময় সেখানে ভলকার তুর্কের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

প্রতিবেদনের বিষয়ে উপস্থাপনের পর বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা বেশ কিছু প্রশ্ন ও মতামত ব্যক্ত করেন। এর মধ্যে সম্প্রতি বাংলাদেশের সংখ্যালুঘ ইস্যু ও পার্বত্য চট্টগ্রামে নির্বাচন ইস্যুতে করা দুইটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন আসিফ নজরুল।

আসিফ নজরুল বলেন, বাংলাদেশে কিছু রাজনৈতিক সহিসংতার ঘটনা ঘটেছে আওয়ামী লীগ রিজিমের নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে। যারা বহু বছর ধরে মানুষকে নির্যাতন ও হত্যা করেছে। সুতরাং কিছু ঘটনা ঘটেছে। এ সব কারণে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত কিছু মানুষের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে আমরা সেটার নিন্দা জানাই।

তিনি আরও বলেন, তবে এ সব হামলার ঘটনা অধিকাংশই ঘটেছে মুসলিমদের ওপর। সামান্য কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে। তাই এটাকে যদি আপনি সংখ্যালুঘুদের ওপর হামলা হিসেবে ব্র্যান্ড করেন তাহলে আমি একমত পোষণ করবো না। আমাদের কাছে পরিসংখ্যান আছে। এ সম্পর্কে আমাদের কাছে ফ্যাক্ট চেকড তথ্য আছে।পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে নির্বাচন প্রসঙ্গে আইন উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষের ভোটের অধিকারের ব্যাপারে আমাদের সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেটা পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল হোকা বা যেকোনো স্থানই হোক। আমরা এরই মধ্যে একটি কমিশন গঠন করেছি, যারা স্থানীয় সরকার ইস্যু নিয়ে কাজ করছে।

আরও খবর