ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন আগ্নেয়গিরি
বর্তমান ২০২৬ সালের ১০ মার্চ পরিস্থিতি অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য এক ভয়াবহ ও অনিশ্চিত যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত কেবল ইরান, ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি সমগ্র অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
১. যুদ্ধের সূত্রপাত ও ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে এক বিশাল সামরিক অভিযান শুরু করে, যার নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (Operation Epic Fury)। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা এবং দেশটিতে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন (regime change) আনা। যুদ্ধের প্রথম দিনেই এক ড্রোন হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ী নিহত হন, যা পুরো বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দেয়।
২. ইরানের পাল্টা আঘাত ও আঞ্চলিক অস্থিরতা
খামেনেয়ীর মৃত্যুর পর ইরান ব্যাপক পাল্টা হামলা শুরু করেছে। তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে ইসরায়েলের জনবহুল এলাকা এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো।
- আঞ্চলিক বিস্তার: কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন স্থাপনাগুলোতে ইরান নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে।
- হরমুজ প্রণালী বন্ধ: ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে।
৩. নতুন নেতৃত্ব ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতি
৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে ইরানের কর্তৃপক্ষ আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীর পুত্র মোস্তবা খামেনেয়ী-কে দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করেছে। ইসরায়েল ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে যে তারা ইরানের যেকোনো নতুন নেতৃত্বকেও লক্ষ্যবস্তু করবে। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে এবং যুদ্ধ খুব শীঘ্রই শেষ হবে, যদিও পরিস্থিতির ভয়াবহতা ভিন্ন কথা বলছে।
৪. মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়
এই ১০ দিনের যুদ্ধে ইতোমধ্যে ১,৩০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।
- জ্বালানি তেলের দাম: যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ১১৯ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি করেছে।
- স্থগিত বিমান চলাচল: যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ অনিরাপদ হয়ে পড়ায় হাজার হাজার পর্যটক বিভিন্ন বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন।
৫. বর্তমান অবস্থান (১০ মার্চ ২০২৬)
আজ যুদ্ধের দশম দিনেও তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে তারা ইরানের আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণ করছে, কিন্তু ইরানের প্রক্সি বাহিনীগুলোর মাধ্যমে পাল্টা প্রতিরোধ যুদ্ধকে দীর্ঘস্থায়ী ও অনিশ্চিত করে তুলছে।
এই যুদ্ধ কেবল মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনীতির সমীকরণকেও আমূল বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আরও বিস্তারিত তথ্যের জন্য আপনি
আল জাজিরা বা
এনওয়াই টাইমস-এর লাইভ আপডেট দেখতে পারেন।