বিবিসি বাংলা ২২ মার্চ ২০২৫ , ৮:৫৭:৩০
একই ব্যক্তির হাতে একাধিক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের মালিকানা থাকতে পারবে না, টেলিভিশন কিংবা পত্রিকার মধ্যে বেছে নিতে হবে যে কোনো একটি। আর প্রতিষ্ঠান যদি বড় বা মধ্যম মানের হয় তাহলে তা করতে হবে পাবলিক লিস্টেড কোম্পানি।
শনিবার এসব সুপারিশসহ প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন।
পরে সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ বলেন, “আমরা ক্রস ওনারশিপ বন্ধেরও প্রস্তাব করেছি। এর বদলে ‘ওয়ান হাউজ, ওয়ান মিডিয়া’ করার প্রস্তাব জানিয়েছি আমাদের সুপারিশে।”
কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, গণমাধ্যমে কালো টাকা ঢুকেছে। মালিকানার কারণেই গণমাধ্যমে জবাবদিহি নেই। গণমাধ্যম শিল্পের সংকটের পেছনে মালিকদের ভূমিকাই বড়।
এছাড়াও সাংবাদিকতায় প্রবেশে নূন্যতম বেতন বিসিএস নবম গ্রেডের মতো এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক করার সুপারিশ করেছে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তায় সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, মিডিয়া কমিশন গঠন, অপতথ্য ও ভুয়া তথ্য বন্ধে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোতে ফ্যাক্ট চেকিং ডেস্ক চালুসহ ২০ দফা সুপারিশ জানানো হয়েছে।
দুপুরে কমিশন সদস্যরা রিপোর্ট জমা দেয়ার পর তাদের সাথে কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের কাছ থেকে পাওয়া সংস্কার প্রস্তাবগুলোর মধ্যে যেগুলো এখনি বাস্তবায়নযোগ্য সেগুলো অবিলম্বে কার্যকর করার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার উদ্যোগ নেবে বলেও জানান প্রধান উপদেষ্টা।
গণমাধ্যমকে স্বাধীন, শক্তিশালী ও বস্তুনিষ্ঠ করতে গত বছরের নভেম্বরে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়।
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশমালার শুরুতেই বলা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণমাধ্যমের মালিকানার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং একক মালিকানা ও একাধিক গণমাধ্যমের মালিকানা অর্জনের বিষয়গুলোতেও সংস্কার শুরু হয়েছে সারা বিশ্বে।
যে কারণে বাংলাদেশেও গণমাধ্যমেও মালিকানা বিষয়ে সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে।
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ বলেন, “বাংলাদেশের গণমাধ্যমে কালো টাকা ঢুকেছে। মালিকানা সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। বিগত সময়ে উম্মুক্তভাবে গণমাধ্যমের লাইসেন্স না দিয়ে দেয়া হয়েছে নেপথ্যে, যোগসাজশে, রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায়।”
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এক ব্যক্তির মালিকানায় টিভি ও পত্রিকা থাকা বা ক্রস ওনারশিপ দেয়া হয় না বলেও জানান তিনি।
মি. আহমেদ বলেন, “একক ওনারশিপ থাকলে সেটা ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা হয়, পরিবার ও গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা হয়। সেখান থেকে বেরিয়ে আসার একটা উপায় হচ্ছে পাবলিক লিস্টেড কোম্পানি করা।”
যে কারণে এই ‘ক্রস ওনারশিপ’-এর বদলে একজন ব্যক্তির নামে একটি মিডিয়ার লাইসেন্স দেয়ার কথা জানানো হয়েছে সুপারিশে।
বাংলাদেশে বর্তমানে কয়েকটি শিল্প গ্রুপের মালিকানায় একাধিক পত্রিকা, টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদ মাধ্যম রয়েছে। সেক্ষেত্রে নতুন এই সুপারিশ কার্যকর হলে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর কী হবে সেই প্রশ্নও উঠেছে।
এক্ষেত্রে কমিশনের প্রস্তাবনা হলো–– টেলিভিশন ও পত্রিকার মালিকরা যে কোনো একটির মালিকানা নিজ নিয়ন্ত্রণে রেখে অন্যগুলোর মালিকানা বিক্রির মাধ্যমে হস্তান্তর করে দিতে পারবেন।
কিংবা দুটি প্রতিষ্ঠান এক করে হয় টিভি অথবা পত্রিকা চালাতে হবে বলেও জানান কমিশন প্রধান মি. আহমেদ।
তিনি বলেন, “বৃহৎ ও মধ্যম আকারের যে কোম্পানি আছে তাদের উচিত হবে পাবলিক লিস্টেড কোম্পানি করা এবং সাংবাদিক-কর্মচারীদের তাদের অংশীজন বানানোর প্রস্তাব আমরা করেছি।”
প্রায় চার মাস ধরে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন ঢাকাসহ সারা দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সাথে বৈঠক করার পর এই সুপারিশমালা প্রস্তুত করেছে বলে জানিয়েছে।
এসব বৈঠকে সাংবাদিকদের যোগ্যতা নিয়ে অনেক সুপারিশ এসেছে কমিশনের কাছে।
প্রধান উপদেষ্টার কাছে কমিশন যে সুপারিশমালা তুলে ধরেছে তাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে জাতীয় পর্যায় কিংবা সারা দেশে রিপোর্টার বা প্রতিনিধি নিয়োগের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার সুপারিশ করা হয়েছে স্নাতক পাশ।
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ জানান, শুধু সাংবাদিক নয়, সম্পাদক ও প্রকাশকের যোগ্যতা কী হবে, সেই বিষয়েও বলেছেন।
কমিশন বলছে, সাংবাদিকদের ন্যূনতম যোগ্যতা স্নাতকের পাশাপাশি একটি শর্তও যুক্ত করা হয়েছে। সেটি হলো, এক বছর শিক্ষানবিশ থাকার পরে পূর্ণ সাংবাদিকের মর্যাদা পাবেন সকল সাংবাদিকরা।
এছাড়া সাংবাদিকদের প্রবেশপদের ন্যূনতম বেতন বিসিএস কর্মকর্তাদের মতো নবম গ্রেডে করার সুপারিশও করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বর্তমানে কার্যকর ২০১৫ সালের বেতন স্কেল অনুযায়ী ২০টি গ্রেড রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম থেকে নবম স্কেল প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের জন্য।
নবম স্কেলে চাকরি শুরুর সময় একজন কর্মকর্তা ২২ হাজার টাকা মূল বেতন, এর সঙ্গে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াত ভাতাসহ নানা রকম আর্থিক সুবিধা যুক্ত হয়।
সংস্কার কমিশন প্রধান মি. আহমেদ বলেন, “বিসিএস ক্যাডার সার্ভিসে প্রবেশ পদ, অর্থাৎ নবম গ্রেডের বেতন স্কেলের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সারা দেশের সাংবাদিকদের প্রবেশপদের বেতন হতে পারে। তবে ঢাকায় যেহেতু জীবনযাত্রার ব্যয় বেশি, সে ক্ষেত্রে ঢাকার সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে ‘ঢাকা ভাতা’ যোগ করা হতে পারে।”
এই ভাতা সরকার ও সংবাদ মাধ্যমের বিভিন্ন পক্ষ মিলে ঠিক করবে বলেও জানায় গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন।
বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেতার ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা নিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে বিভিন্ন সরকারের সময়।
কেননা অতীতে যে সরকারই ক্ষমতায় এসেছে তারাই এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষমতাসীন দল ও সরকার নিজ স্বার্থে ব্যবহার করেছে।
যে কারণে সংস্কার কমিশন তাদের সংস্কার প্রস্তাবনায় বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছে।
শনিবার সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন প্রধান কামাল আহমেদ বলেন, “বেতার ও বিটিভির স্বায়ত্তশাসনের ব্যাপারে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বলা হয়েছে। এই দুটিকে এক করে একটি জাতীয় সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান করার ব্যাপারেও বিভিন্ন সময়ে প্রস্তাব এসেছে, কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি।”
যে কারণে সংস্কার কমিশন সম্প্রচার মাধ্যম হিসেবে টেলিভিশন এবং বেতারকে এক ছাতার নিচে আনার জন্য সুপারিশ করেছে।
একই সাথে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে টিকিয়ে না রেখে বিটিভি ও বেতারের সাথে পরিচালনা করার সুপারিশও করা হয়েছে।
কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছে, সরকার বর্তমানে যেভাবে অর্থায়ন করছে ঠিক একইভাবে নতুন প্রতিষ্ঠানকে অর্থায়ন করবে। একইসঙ্গে বাংলাদেশ সম্প্রচার সংস্থা নিজস্ব আয়ের পথও বের করবে।
এটি পরিচালিত হবে একটি স্বতন্ত্র পরিচালনা পর্যদের মাধ্যমে। যার সম্ভাব্য নাম হতে পারে বাংলাদেশ সম্প্রচার সংস্থা বা জাতীয় সম্প্রচার সংস্থা নামে।
পর্ষদের চেয়ারম্যান সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োজিত থাকবেন এবং তার বেতনভাতা পর্ষদ ঠিক করবে। আর এর সদস্যরা সভায় অংশ নেওয়ার জন্য সম্মানি পাবেন।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তায় আইনের বিষয়গুলো নিয়েও সুপারিশ জমা দিয়েছে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন।
পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকদের হয়রানি বন্ধ ও নিরাপত্তার জন্য সাংবাদিকতা সুরক্ষা আইনের এই খসড়া করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন।
এই আইনের আওতায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, তথ্যপ্রযুক্তি কিংবা ডিজিটাল নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন আইনে দায়ের করা মামলাগুলো চিহ্নিত করে আগে থেকেই পর্যালোচনার সুপারিশ করা হয়েছে।
পর্যালোচনায় মিথ্যা মামলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ ও এতে ক্ষতিগ্রস্ত সাংবাদিকদের ক্ষতিপূরণের সুপারিশ করা হয়েছে।
সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, “সাংবাদিকদের নিরাপত্তায় আইনের বিষয়গুলো নিয়ে আমরা কাজ করে এই সুপারিশ প্রদান করেছি। এ জন্য খসড়া অধ্যাদেশও তৈরি করে প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমাও দিয়েছে সংস্কার কমিশন।”
সুরক্ষা আইনের সুপারিশে বলা হয়েছে শুধু সাংবাদিক নয়, এই আইনের আওতায় কোনো গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানও যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে তারও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের একজন সদস্য বিবিসি বাংলাকে জানান, সংস্কার কমিশন যখন তাদের এই সুপারিশের বিষয়গুলো তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টার কাছে, তখন তিনি জানতে চেয়েছিলেন ভুল তথ্য, মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ পরিবেশনের বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে কী ধরনের সুপারিশ রয়েছে।
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশে মিথ্যা কিংবা ভুয়া তথ্য রোধে প্রত্যেকটি সংবাদ মাধ্যমে একটি করে ফ্যাক্ট চেক ডেস্ক চালু করাসহ বেশ কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে।
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন প্রধান মি. আহমেদ বলেন, “ভুল তথ্য প্রকাশ করলে, ভুয়া খবর প্রচারিত হলে প্রতিকার পাওয়ার জায়গা নেই। আগেও প্রেস কাউন্সিল ছিল, কিন্তু তা খুব একটা কার্যকর না। ভুক্তভোগীকে সুরক্ষা দেয় না।”
তিনি জানান, প্রেস কাউন্সিলে শুধু সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থার বিষয়ে বলা আছে। টেলিভিশন মিডিয়া কিংবা অনলাইন সংবাদ মাধ্যম সেখান থেকে কোনো সুবিধা পায় না।
যে কারণে স্থায়ী ভিত্তিতে নতুন করে জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন চালুর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের পক্ষ থেকে, যার কাছ থেকে টিভি, পত্রিকা কিংবা অনলাইন মাধ্যমগুলো সুরক্ষা পেতে পারে।
১. প্রতিটি বার্তা কক্ষে অপ/ভুয়া তথ্য যাচাইয়ের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা/পদ্ধতি প্রবর্তন করা প্রয়োজন। দায়িত্বপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষিত সাংবাদিকরাই এ কাজটি করতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সহায়তার ব্যবস্থাও থাকা দরকার। সংবাদমাধ্যমের আর্থিক সংকটের কারণে সত্যতা যাচাইয়ের কার্যক্রমে পর্যাপ্ত বিনিয়োগের সংকট মোকাবিলায় সংবাদশিল্পে বৃহত্তর ও সম্মিলিত উদ্যোগের ব্যবস্থা করার কথাও ভাবা যেতে পারে। অবশ্যই এই উদ্যোগের স্বাধীনভাবে কাজ করার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
২. বৃহৎ প্রযুক্তিনির্ভর কোম্পানিগুলো, যেমন গুগল, ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, টিকটকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ, সমন্বয় ও দ্রুত সাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া। ফলে ওইসব প্ল্যাটফর্মে অপ/ভুয়া তথ্য চিহ্নিত হওয়ামাত্র তাদের সজাগ করা এবং তথ্য যাচাই ও অনুসন্ধানে সহায়তা দিয়ে দ্রুত সেগুলো অপসারণ ও প্রচারিত কৃতথ্য/ অপতথ্য/গুজব, বিভ্রান্তি নিরসন সম্ভব হবে। ভুয়া তথ্য, অপ বা কুতথ্য প্রচারের জন্য এসব বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান এবং নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতায়ন ও সামর্থ্য বৃদ্ধির নজির এক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
৩. ফ্যাক্ট চেকিংয়ের জন্য কিছু প্রতিষ্ঠান ও নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে, তাদের সহায়তা নেওয়া এবং তাদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়। তবে সম্প্রতি রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় কিছু ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান বা উদ্যোগ সক্রিয় হয়েছে, যাদের সম্পর্কে সাবধানতা প্রয়োজন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়া তথ্য প্রচারের জন্য নিষিদ্ধ ব্যক্তিও বাংলাদেশে ফ্যাক্ট চেকিংয়ে নিয়োজিত হওয়ার নজির রয়েছে। এ কারণে ফ্যাক্ট চেকিংয়ের ক্ষেত্রে সততা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
৪. ভূয়া/অপ তথ্য মোকাবিলায় জনগণকে সচেতন করা এবং বিভিন্ন কৌশল শেখানোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, যাতে করে তারা প্রতিটি তথ্য যাচাইয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন ও গুরুত্ব আরোপ করে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত গণমাধ্য সংস্কার কমিশন অনলাইন নীতিমালায় আইপিটিভি এবং অনলাইন পোর্টালে সংবাদ বুলেটিন প্রচারে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা বাতিলসহ অনলাইন গণমাধ্যমের জন্য সাতটি প্রস্তাব করেছে।
আজ শনিবার (২২ মার্চ) দুপুরে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে গণমাধ্যম সংস্কার প্রতিবেদন জমা দেন কমিশনের প্রধান জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কামাল আহমেদ। এ সময় কমিশনের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
কমিশনের সাত দফা সুপারিশ হলো—
১. অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিবন্ধনের নীতিমালা হালনাগাদ করা এবং এর আলোকে নিবন্ধন দেওয়ার দায়িত্ব ও ক্ষমতা গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন প্রস্তাবিত স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশনের ওপর অর্পণ করা। বর্তমানে এই দায়িত্ব ন্যস্ত ছিল বিগত সরকারের প্রস্তাবিত সম্প্রচার কমিশনের ওপর।
২. গত দশকে যেসব অনলাইনে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে, তা যেহেতু সরকারের স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়েছে, তাই সেগুলো পর্যালোচনার দায়িত্ব স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশনের ওপর ন্যস্ত করা যায়।
৩. অনলাইন পোর্টাল নিবন্ধনের জন্য একাধিক নিরাপত্তা সংস্থার যে তদন্ত ব্যবস্থা রয়েছে, তার অবসান ঘটিয়ে সংবাদপত্রের ডিক্লারেশনের জন্য বিদ্যমান পুলিশের তদন্ত ব্যবস্থাই যথেষ্ট গণ্য করা যায়।
৪. অনলাইন পোর্টালগুলো নিবন্ধন পাওয়ার পর তার বার্ষিক নবায়ন পদ্ধতি বাতিল করা হোক।
৫. অনলাইন নীতিমালায় আইপিটিভি এবং অনলাইন পোর্টালে সংবাদ বুলেটিন প্রচার করা যাবে না—এমন নিষেধাজ্ঞা বাতিল করা উচিত।
৬. অনলাইন পোর্টালে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার আলোকে সরকারি বিজ্ঞাপনের ব্যবস্থা করতে হবে।
৭. অনলাইন পোর্টালের জন্য ট্রেড লাইসেন্সের ফি সাধারণ ট্রেড লাইসেন্সের ফির কয়েক গুণ। এটি সংবাদমাধ্যমকে নিরুৎসাহিত করার নীতি। এর অবসান হওয়া উচিত।