রাজনীতি

ছাত্ররা ডিসি-এসপিকে নির্দেশ করলে আইন প্রয়োগ হবে কি করে

  দেশ রূপান্তর ১০ মার্চ ২০২৫ , ৯:২৬:৫৮

বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা যদি ডিসিকে নির্দেশ করে, এসপিকে নির্দেশ করে তাহলে দেশে আইন প্রয়োগ হবে কি করে এমন প্রশ্ন রেখেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, ‘আমরা শুনি ডিসি অফিসে, এসপি অফিসে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে গিয়ে নাকি ছাত্ররা বসে থাকে। যারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র তাদের প্রতি তো আমাদের কৃতজ্ঞতা রয়েছে তাদের অবদান তো আমরা ভুলি নাই কিন্তু তারা যদি ডিসিকে নির্দেশ করে, এসপিকে নির্দেশ করে; ডিসি এসপির ঘরে গিয়ে বসে থাকে তাহলে আইন প্রয়োগ হবে কি করে?’

সোমবার (১০ মার্চ) সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের উদ্যোগে সারাদেশে নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের উদ্দেশ্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, আপনার জায়গা ক্যাম্পাস। ডিসি-এসপি অন্যায় করলে ক্যাম্পাসে আপনারা তার প্রতিবাদ করুন। আপনার হাতে বই থাকবে আপনি শিক্ষাব্যবস্থাকে কীভাবে মজবুত করা যায়, কীভাবে শিক্ষার মেরুদণ্ডকে মজবুত করা যায় সেগুলো নিয়ে কাজ করুন। আপনাদের কাজ তো ডিসি অফিসে গিয়ে তদারকি করা নয়। আপনাদের কাজ তো বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে গিয়ে তদারকি করা নয়। একটা কথা আছে না ‘বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃ ক্রোড়ে’। ছাত্রদের কাজ ক্যাম্পাসে, ছাত্রদের কাজ ক্লাসরুমে, ছাত্রদের কাজ লাইব্রেরিতে; মন্ত্রণালয়ে নয়।

রিজভী বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারকে সবাই সমর্থন দিয়েছে কিন্তু এখনো কেন এই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে? প্রশাসনে কারা? প্রশাসন ঠিক থাকলে এসব ঘটনা ঘটতো না? তৃণমূলে এখনো প্রশাসনের প্রয়োগ হচ্ছে না। কেন এটা তো একটা বড় প্রশ্ন। আমরা যদি কোন অভিযোগ করি— এটাকে উনারা (অন্তর্বর্তীকালীন সরকার) ব্যক্তিগতভাবে নেয়। কোন কোন ক্ষেত্রে এখন আবার কৌশলে প্রতিশোধ গ্রহণ করার চেষ্টা করে। প্রকারন্তরে আজকে ধর্ষণের পরিমাণ বেড়ে গেছে। আজকে নারীরা নিরাপদ নয়। আজকে আপনার মেয়েকে স্কুলে পাঠিয়ে ফিরবে কীভাবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

যদি আইনের প্রয়োগ ঠিকঠাক মতো হতো তাহলে এই পরিস্থিতি হত না বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘শিশু নির্যাতনের এক মহাউৎসব চলেছে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে। সবচাইতে বেশি নারী নির্যাতিত হয়েছে শেখ হাসিনার শাসনমালে। তিনি কোনো কিছুই তোয়াক্কা করেনি।

রিজভী আরও বলেন, শেখ হাসিনা গত ১৫ বছর বাংলাদেশকে করেছিলেন শেখ তন্ত্র। তার কথাই শুনতে হবে তাদের কথায় চলতে হবে, তাদেরকেই পূজা করতে হবে এমন একটি ভয়ঙ্কর রাষ্ট্র গড়ে তুলেছিলেন। সেখানে নীতি-নৈতিকতা বড়দের কোনো শ্রদ্ধা ছোটদের প্রতি স্নেহ এবং সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলার কোনো বালাই রাখেননি। তার সরকারের মন্ত্রী লোটাস কামালের ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের কাহিনী আমরা পড়ছি। চট্টগ্রামের সাইফুজ্জামান চৌধুরীর শত শত কোটি টাকার লুটের কাহিনী আমরা শুনছি। অবৈধ টাকার সঙ্গে সমাজের অপরাধের সম্পর্ক রয়েছে। যখন ব্যাংক লুটেরা হবেন, এমপি যখন টাকা আত্মসাতকারীরা হবেন, সমাজের জনপ্রতিনিধি টাকা পাচারকারীরা যখন সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি হবেন। তখন সন্ত্রাস, রক্তপাত, অন্যের ত্রাণ কেড়ে নেওয়ার এক মহাযজ্ঞ শুরু হবে। সেটাই হয়েছে ১৫ বছর।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতান আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান প্রমুখ।

আরও খবর