আন্তর্জাতিক

ট্রাম্প-জেলেনস্কির উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়

  ১ মার্চ ২০২৫ , ৮:৩৩:১৫

‘লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন নিয়ে জুয়া…’, ওভাল অফিসে নজিরবিহীন ছবি, ট্রাম্প-জেলেনস্কির উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়

ওয়াশিংটন: হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে এক নজিরবিহীন দৃশ্য। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মুখোমুখি। উপস্থিত আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্স-সহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। আলোচনার মাঝেই উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় শুরু করেন দুই রাষ্ট্রনেতা, যা ওভাল অফিসে এক বিরল ঘটনা।

শুক্রবারের বৈঠকে কোনও সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়নি, বরং ট্রাম্প স্পষ্ট জানান— “কোনো চুক্তি না হলে ইউক্রেনের পাশে দাঁড়াবে না আমেরিকা।” জেলেনস্কিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “শান্তিচুক্তি কর, নাহলে আমরা সঙ্গে থাকব না।”

ট্রাম্প আরও বলেন, “তোমরা খুব বিপদে আছ। আর এই যুদ্ধে তোমরা জিতবে না।” জেলেনস্কি সঙ্গে সঙ্গেই উত্তর দেন, “আমরা এখনও আমাদের দেশেই আছি। দুর্বল হয়ে পড়িনি, তার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানিয়েছি।” তবে ট্রাম্পের সন্দেহ, এই আলোচনা কোনও সমাধান আনতে পারবে কি না।

ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন, “তুমি লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন নিয়ে জুয়া খেলছ। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে জুয়া খেলছ।” তিনি মনে করিয়ে দেন, আমেরিকা কীভাবে ইউক্রেনকে সাহায্য করেছে। তাঁর দাবি, “আমরা ৩৫০ বিলিয়ন ডলার দিয়েছি। যদি আমাদের সহায়তা না থাকত, তাহলে যুদ্ধ দু’সপ্তাহেই শেষ হয়ে যেত।”

ট্রাম্পের কথার পর জেলেনস্কি বলেন, “পুতিনের মুখেও আমি এ কথা শুনেছি।” তাঁর এই মন্তব্যে উপস্থিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অবাক হয়ে যান।

হস্তক্ষেপ ভাইস প্রেসিডেন্টের, কিন্তু থামেননি ট্রাম্প

আলোচনা উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্স হস্তক্ষেপ করেন। তিনি বলেন, “মতের অমিল হচ্ছে, তবে মিডিয়ার সামনে আর বিষয়টি এগোনোর দরকার নেই।” কিন্তু এখানেই শেষ হয়নি বিতর্ক।

প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রসঙ্গ উঠতেই ট্রাম্প বলেন, “উনি খুব একটা স্মার্ট ছিলেন না।” জেলেনস্কি কিছুটা অবাক হলেও ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, বাইডেন বা ওবামার আমলে ইউক্রেন যথেষ্ট সহায়তা পায়নি। বরং আমেরিকার প্রকৃত সাহায্য এসেছে ট্রাম্প প্রশাসন থেকেই।

ওভাল অফিসের বৈঠকের পর ট্রাম্পের টুইট

বৈঠকের পর ট্রাম্প এক্স (Twitter)-এ লেখেন, “ওভাল অফিসে বসে জেলেনস্কি আমেরিকাকে অপমান করেছেন। শান্তিচুক্তির জন্য প্রস্তুত হলে তবেই ফিরে আসবেন।” তাঁর এই মন্তব্য নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

এই উত্তপ্ত বৈঠকের পর ইউক্রেন-আমেরিকা সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন গোটা বিশ্ব দেখছে।

আরও খবর