জাহান হাসান ২১ মার্চ ২০২৫ , ৩:২২:৫৪
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রতিবেশী দেশ ভারতের ভূমিকা নিয়ে নানা বিতর্ক ও বিশ্লেষণ উঠে আসছে। বিশেষ করে, ব্যবসা-বাণিজ্যে অসহযোগিতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, ও কূটনৈতিক চাপে দেশের সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ব্যবসায়ীদের সম্পৃক্ততা নতুন কিছু নয়। বিগত কয়েক দশকে দেখা গেছে, রাজনৈতিক ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ীরা নিজেদের স্বার্থে নীতি নির্ধারণ করছেন। এতে একদিকে গুটি কয়েক ব্যক্তি লাভবান হলেও সাধারণ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যখন রাজনৈতিক কারণে প্রতিবেশী দেশের সাথে বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হয়, তখন এর নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি সাধারণ জনগণের উপর পড়ে। বর্তমান পরিস্থিতিতে, ভারতের সাথে বাণিজ্যিক ভারসাম্যহীনতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, যা আঞ্চলিক বাণিজ্যে আরও বিশৃঙ্খলা আনতে পারে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে গভীর, তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের কিছু নীতি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করা হচ্ছে। ভারত যদি বাংলাদেশকে নিজের প্রভাবাধীন অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করে এবং তার রাজনৈতিক অভিলাষ বাস্তবায়নের চেষ্টা করে, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে উভয় দেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবর্তন হলে দুই দেশের জনগণের অবস্থানের পরিবর্তন হওয়ার কথা নয়, অথচ বাস্তবতা ভিন্ন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্মীয় উগ্রবাদের উপস্থিতি ও এর পেছনে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে, জঙ্গিবাদের আতঙ্ক সৃষ্টি করে রাজনৈতিকভাবে সুবিধা নেওয়ার প্রচেষ্টা দীর্ঘমেয়াদে সফল হবে না। বাংলাদেশের জনগণ সচেতন এবং তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সক্ষম।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জনগণ ধীরে ধীরে বিকল্প নেতৃত্বের সন্ধান করছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পাশাপাশি একটি স্থায়ী পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। যদি ভারত কৌশলগতভাবে বাংলাদেশে নির্দিষ্ট কোনো দলকে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা করে, তবে জনগণের মতামত উপেক্ষা করা হবে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিবেশী দেশের প্রভাব অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে তা যদি অতিমাত্রায় হয়ে যায়, তাহলে তা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তন হোক বা না হোক, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য উভয় পক্ষকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। অন্যথায়, এই অস্থিতিশীলতা ভবিষ্যতে আরও বড় সংকট সৃষ্টি করতে পারে।