দেশজুড়ে

ফরিদপুর-৪ আসনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা নিয়ে নানা জল্পনা

  ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ , ১০:৩০:০৫

বাবুল হঠাৎ আলোচনায়, বিএনপিতে নতুন মোড়

ফরিদপুর-৪ আসনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা নিয়ে নানা জল্পনা

আসছে সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৪ (সদরপুর-ভাঙ্গা-চরভদ্রাসন) আসনে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুলের প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। এতে ওই এলাকার বিএনপির রাজনীতি নিয়েছে নতুন মোড়। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি নগরকান্দার তালমা ইউনিয়নের কোনাগ্রামের নিজ বাড়িতে ফরিদপুর-২ আসন ছেড়ে ফরিদপুর-৪ আসনে  নির্বাচন করার ঘোষণা দেন কৃষক দলের এই নেতা।

ফরিদপুর-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আরও রয়েছেন দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহুরুল হক শাহজাদা মিয়া, জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি শাহারিয়ার রহমান শায়লা, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমান দুলাল ও জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক প্রবাসী মো. আলমগীর কবির।

গাজীপুর জেলা কাপাসিয়া উপজেলা কাপাসিয়া ইউনিয়ন কৃষক সমাবেশ:
প্রধান অতিথি ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত, সভাপতি বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক ফরিদপুর ২ (নগরকান্দা, সালথা) আসনের গণমানুষের নেতা জনাব শহিদুল ইসলাম খান বাবুল।

শহীদুল ইসলাম বাবুল দাবি করেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে তিনি ফরিদপুর-২ ছেড়ে ফরিদপুর-৪ সংসদীয় আসনের জন্য কাজ শুরু করেছেন।

এই আসনে বাবুলের আগমন ঘিরে বিএনপির এক পক্ষ আনন্দ-উৎসব করছে, অন্যপক্ষ দলীয় কোন্দল আরও দানা বাঁধার শঙ্কায় আছে। কয়েক বছর ধরে বিএনপির নেতাকর্মীরা শামা ওবায়েদ রিংকু ও শহীদুল ইসলাম বাবুলের নেতৃত্বে বিভক্ত ছিলেন। অনেকে ফরিদপুর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল হক শাহজাদা মিয়ার নির্দেশনা মেনে চলতেন। ২০০১ সালে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা জহুরুল হক শাহজাদা মিয়া এবারও দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী। শাহজাদা বলেন, ২০০১ সালে ধানের শীষ প্রতীক পেয়ে নির্বাচন করেছি। আশা করি, দল এবারও আমাকে মূল্যায়ন করবে। আমিই বৃহত্তর ফরিদপুরের সবচেয়ে সিনিয়র প্রার্থী। আমার অধিকার সবার আগে।

কাপাসিয়া গাজীপুরে কৃষক দলের সমাবেশ

জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি শাহারিয়ার রহমান শায়লা লন্ডন থেকে ফোনে বলেন, ভাঙ্গা বিএনপির সাবেক সভাপতি খন্দকার সেলিম আওয়ামী লীগ আমলে শেখ হাসিনা ও কাজী জাফরউল্লাহর সঙ্গে আঁতাত করে চলেছেন, যা কমবেশি সবার জানা। দলের দুর্দিনে আমি জীবন বাজি রেখে দলের জন্য কাজ করেছি। আমার কর্মীদের ওপর হামলা ও মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। আমি হয়েছি দেশছাড়া। শায়লা বলেন, শহীদুল ইসলাম বাবুল ও আমি দলের দুর্দিনে ছিলাম। তবে বাবুল ভাই আমার থেকে বেশি নির্যাতিত হয়নি। ২০১৮ সালে ফরিদপুর-৪ আসনে দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছিল। এবারও আমি দল থেকে মূল্যায়ন চাই।

সদরপুর বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম রব্বানী বলেন, তারেক রহমান শহীদুল ইসলাম বাবুলকে ফরিদপুর-৪ আসনে মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছেন। আমি তাঁকে বিজয়ী করতে কাজ করে যাব। সদরপুর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আহ্বায়ক কাজী বদরুজ্জামান বদু বলেন, আমরা বাবুলকে জয়ী করতে কাজ করে যাচ্ছি।

সদরপুর বিএনপির সদস্য সচিব তরিকুল ইসলাম কবির মোল্যা বলেন, আমরা তাঁকে ফুল দিয়ে বরণ করে নিয়েছি। দলের নির্দেশনা মেনে নেতার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

ভাঙ্গা বিএনপির নেতা খন্দকার সেলিম বলেন, ফরিদপুর-৪ আসনে শহীদুল ইসলাম বাবুল নির্বাচন করবেন। দলের শীর্ষ নেতা যে সিদ্ধান্ত দেবেন, আমি তা মেনেই কাজ করব।

উল্লেখ্য, ফরিদপুর-২ আসনে কে বিএনপির প্রার্থী হবেন, এ নিয়ে শহীদুল ইসলাম বাবুলের সঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) শামা ওবায়েদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। দু’জনের বাড়িই নগরকান্দায়। এলাকায় শক্তির পরীক্ষা দিতে গিয়ে গত ২১ আগস্ট দু’পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হন। এ ঘটনায় ওই রাতেই শহীদুল ইসলাম বাবুল ও শামা ওবায়েদের দলীয় সব পর্যায়ের পদ স্থগিত করা হয়। পরে গত ১০ নভেম্বর প্রত্যাহার হয় তাদের দু’জনের স্থগিতাদেশ।

আরও খবর