২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ , ৩:৪৯:২২
বর্তমান আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ে প্যানিক বা হিস্টেরিয়া তৈরি করা অর্থহীন। এতে সমস্যার কোনো সমাধান আসবে না। তারচেয়ে বড় কথা, এধরনের আচরণ শুধু বিরক্তিকর না, বরং বিপজ্জনকও।
সমাজের মধ্যে প্যানিক সৃষ্টি করে দমনমূলক পদক্ষেপ চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টার ইতিহাস বহু পুরনো। কার্ল শ্মিটের “State of Exception” নিয়ে আলোচনা আছে, আগ্রহীরা দেখে নিতে পারেন।
তত্ত্বতালাশ ভালো না লাগলে করোন।র সময় প্যানিক ছড়িয়ে কী ধরনের রেসট্রিকশান চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল ভেবে দেখুন। সমাজের মধ্যে এধরণের হিস্টেরিয়া গুম-খুনের সংস্কৃতি বা সেনা শাসন জারির গ্রাউন্ড তৈরি করে।
সেক্যুলার রাষ্ট্র এক অতিকায় দানব যা সব কিছুকে নিজের কুক্ষীগত করতে চায়। সিস্টেম্যাটিকালি কমিউনিটিকে দুর্বল করে। সমাজের কাছ থেকে সব ক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়ে, সবাইকে সে তার ওপর নির্ভরশীল করে তোলে। তারপর সেটাকে নিয়ন্ত্রনে পরিণত করে। সবার ওপর নজরদারি করতে চায়, নিয়ন্ত্রন করতে চায় সবাইকে। এগুলো এমন বৈশিষ্ট্য যা সরকার বদলালে দূর হয় না। কাজেই এধরণের পরিস্থিতির সবগুলো দিক বিবেচনা করা জরুরী।
রাষ্ট্র কী করবে বা না করবে এ নিয়ে এতো দেনদরবার করার দরকার নেই। এগুলো নিয়ে অনন্তকাল পর্যন্ত কথা বলার, জাবর কাটার অনেক লোক আছে। আমরা নিজের জায়গা থেকে কী কী করতে পারি, সেটাতে মনোযোগ দেয়া কার্যকরী। হাহুতাশ করার চেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা বেশি প্রয়োজন।
দেশের আইনশৃংখলা পরিস্থিতি খারাপ। ঠিক আছে। সমাধান করতে হবে। প্যানিক, হিস্টেরিয়া কিংবা হাহুতাশ করে লাভ নেই। যদি আদৌ ইমোশন এখানে প্রাসঙ্গিক হয় তাহলে সেই ইমোশনগুলো হল সংকল্প, ইস্তিকামাত আর রাইচাস অ্যাঙ্গার। আর কিছু না।
লোকাল পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকাভিত্তিক গণপ্রতিরোধ কমিটি গঠন করুন। কমিউনিটি পুলিসিং করুন। এগুলো আপনাদের কাছে অপরিচিত কিছু না। হাসিনা পালাবার পর এ দেশের মানুষ এই কাজটা করেছে। সফলভাবেই করেছে। কাজগুলো খুব কঠিন কিছুও না:
এলাকাবাসীকে নিয়ে গণপ্রতিরোধ কমিটি তৈরি করুন। গণপ্রতিরোধ কমিটির সদস্যদের নিয়ে এলাকাভিত্তিক টহল পরিচালনার ব্যবস্থা করুন। বিশেষ করে সন্ধ্যা থেকে ভোরের সময়টাতে।
অপরাধ বা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাহায্যের জন্য একটা অ্যালার্ম ব্যবস্থা (যেমন হুইসেল, সংকেত, মসজিদ) চালু করুন। এতে মানুষ দ্রুত সাড়া দিতে পারবে।
একটি ইমার্জেন্সি রেসপন্স টীম তৈরি করুন। যারা যে কোনো ধরনের বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে দ্রুত সক্রিয় হতে পারবে। এই টীম ফার্স্ট এইড থেকে শুরু করে, প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জাম (যেমন টর্চলাইট, হুইসেল, লাঠি) ইত্যাদি নিয়ে প্রস্তুত থাকবে। ইউস ইওর ইম্যাজিনেইশান।
গণপ্রতিরোধ কমিটির সদস্যদের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগের জন্য WhatsApp গ্রুপ বা অন্য কোন মাধ্যম ব্যবহার করুন।
একটা কমিউনিকেশন সেল রাখুন যেটা মিডিয়াসহ বিভিন্নসহ সমাজের বিভিন্ন সেগমেন্টের সাথে যোগাযোগ করতে পারবে। প্রয়োজনে সোশ্যাল মিডিয়াকে লেভারেজ করবে।
নিজেদের আত্মরক্ষা, প্রাথমিক চিকিৎসা, অগ্নি নির্বাপন, এবং জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয়- এরকম প্রাইমারি কিছু বিষয়ে এলাকার বাসিন্দাদের জন্য প্রশিক্ষণ আয়োজন করুন।
নারী ও শিশুদের নিরাপত্তায় বিশেষ নজর দিন। আবারও বলছি, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তায় বিশেষ নজর দিন।
প্রতি সপ্তাহে এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে মূল্যায়ন সভা আয়োজন করুন। ঝুঁকি চিহ্নিত করুন এবং সেই অনুযায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিন।
নিয়মিতভাবে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম চালু করুন, যাতে জরুরি মুহূর্তে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো উচিত তার কিছু বেইসিক আইডিয়া মানুষের থাকে।
মুরুব্বী, ৩০-৪৫ বছর বয়েসী এবং কিশোর-তরুণ, এই তিন গ্রুপকে ইনভলভ করুন। মুরুব্বীরা সার্বিক পরামর্শ দেবেন, ৩০-৪৫ বছর বয়েসীরা ম্যানেজমেন্ট করবেন, কিশোর-তরুণরা অন দা গ্রাউন্ড কাজের মূল শক্তি হিসেবে থাকবে। প্রথম দুই গ্রুপের মধ্যে অবশ্যই শুধু ডায়নামিক লোকজনকে নেবেন। খাওয়া, ঘুম, চাকরি, টিভি/নেটফ্লিক্স/গসিপের বাইরে যে কিছু বোঝে না ঐসব লোক বাদ রাখবেন।
অপরাধের মনস্তত্ত্ব বুঝুন। অপরাধী থামে ডেটারেন্সের কারণে। সে যখন বোঝে অপরাধ করার পরের লাভ আর অপরাধ করে ধরে পড়ার ক্ষতির মধ্যে ক্ষতির পাল্লা অনেক বেশী ভারী এবং ধরা পড়ার সম্ভাবনা সিগনিফিক্যান্ট তখন অপরাধীদের বড় একটা অংশ অপরাধ থেকে বিরত থাকে। এখানে কী ওয়ার্ড হলো *ডেটারেন্স*। ক্রিয়েট স্ট্রং ডেটারেন্স।
.
এগুলো একদম বেইসিক কথাবার্তা। ৩০ মিনিট চিন্তা করলে এমন অনেক কিছু আপনারা নিজেরাই বের করতে পারবেন। সেটাই করুন।
রাষ্ট্র কী করবে বা করবে না, সেটাকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে আপনার ক্ষমতা খুবই সামান্য। কিন্তু এলাকাভিত্তিক উদ্যোগ নেয়ার ক্ষেত্রে আমার-আপনার করার আছে অনেক কিছুই।
.
চিন্তা করুন, নিয়্যাত করুন, উদ্যোগ নিন, লেগে থাকুন। কমিউনিটিকে শক্তিশালী করার কাজটা একটা ধারাবাহিক প্রজেক্ট হিসেবে চালু রাখুন। গণশক্তিকে তুচ্ছ করবেন না। এই শক্তি হাসিনার রিজিমকে ফেলে দিয়েছে। খুচরা অপরাধ মোকাবেলা করা কঠিন কিছু হবে না, ইন শা আল্লাহ।