জাতীয়

বাংলাদেশি পণ্যে ৩৭% শুল্ক বসাল যুক্তরাষ্ট্র

  ৩ এপ্রিল ২০২৫ , ৯:০৮:২৬

বাংলাদেশি পণ্যে ৩৭% শুল্ক বসাল যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন ‘রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ নীতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৩৭% করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এতদিন দেশটিতে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড়ে ১৫% শুল্ক কার্যকর ছিল।

আজ বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজ প্রকাশিত একটি চার্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশ কার্যত মার্কিন পণ্যের ওপর ৭৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। তাই, বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ ‘ডিসকাউন্টেড রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ ধার্য করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন। খবর রয়টার্স।

এই নীতির আলোকে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হয়েছে ২৬ শতাংশ। মার্কিন চার্ট অনুযায়ী, ভারত মার্কিন পণ্যের ওপর ৫২ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে রেখেছে।

পাকিস্তানি পণ্য আমদানির ওপরও ২৯ শতাংশ ‘রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ আরোপ করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের মতে, পাকিস্তান মার্কিন পণ্যে ৫৮ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে।

হোয়াইট হাউজ নতুন এই শুল্ক কাঠামোকে ব্যাখ্যা করছে, দীর্ঘদিনের একতরফা বাণিজ্য সম্পর্কের সংশোধনমূলক ব্যবস্থা হিসেবে। তবে অর্থনীতিবিদ ও বাণিজ্য সংস্থাগুলোর একাংশ সতর্ক করে বলছে, এই নীতি প্রতিশোধমূলক শুল্কের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং এতে করে মার্কিন ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের ব্যয় বেড়ে যাবে।

৩৭ শতাংশ ‘রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ নিয়ে বাংলাদেশ এই নীতির আওতায় সবচেয়ে বেশি শাস্তিপ্রাপ্ত দেশগুলোর মধ্যে পড়েছে। এই তালিকায় বাংলাদেশের উপরে রয়েছে কম্বোডিয়া (৪৯ শতাংশ শুল্ক) ও শ্রীলঙ্কা (৪৪ শতাংশ শুল্ক)।

এ ছাড়া, মার্কিন বাণিজ্য নীতির দীর্ঘদিনের লক্ষ্যবস্তু চীন ৩৪ শতাংশ ‘রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ’র সম্মুখীন হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য এই হার ২০ শতাংশ এবং বিশ্ব বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ দেশ ভিয়েতনামের পণ্যের ওপর ৪৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

নতুন এ শুল্ক বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে বছরে প্রায় ৮.৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়, যার বড় অংশই তৈরি পোশাক। নতুন শুল্ক বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানি ব্যাহত হতে পারে, যা অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, আমরা আমাদের শিল্পকে রক্ষা করছি, এটা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পুনর্জন্মের দিন।

নতুন এই শুল্ক নীতির ফলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আরও খবর