২২ মার্চ ২০২৫ , ১২:১৫:৫৪
পটুয়াখালী থেকে ফিরছি। মন ভার হয়ে আছে। মনে হলো লিখে একটু হালকা হই।
আজ ভোর ৬টায় রওনা হয়েছিলাম পটুয়াখালীর উদ্দেশে। উদ্দেশ্য ছিলো জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া এক ভাইয়ের মেয়ের সাথে দেখা করা, যে কিছুদিন আগে ধর্ষণের শিকার হয়েছে।
ছোট একটা মেয়ে। শহীদ বাবার কবর জিয়ারত শেষে নানুবাড়ি থেকে ফিরছিল। পথেই ওর জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে।
মেয়েটা নিজেই একা থানায় গেছে বিচার চাইতে। পাশে কেউ ছিল না। মা তখন ঢাকায়, শহীদ বাবার মামলা নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করছে।
ও ঘটনাটা বলছিল আর আমি মুখোমুখি বসে শুনছিলাম। প্রতিটা শব্দ বুকের মধ্যে এসে আঘাত করছিল। মনে হচ্ছিল, আমরা কতটা ভঙ্গুর একটা সমাজ তৈরি করেছি, যেখানে এমন ঘটনা ঘটে। আর এতটুকু একটা মেয়েকে একা থানায় এসে দাঁড়াতে হয়।
ঘটনাটা বলতে বলতে সে এমন একটা কথা বলল, যা হয়তো জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ভুলতে পারবো না।
“আমি বিচার চাই, কারণ আমি এই দেশের নাগরিক। শহীদের মেয়ে বলে আলাদা করে বিচার চাই না। আমি চাই, এই দেশটা এমন হোক যেখানে সব মেয়েরা নিরাপদ থাকবে।”
কী স্পষ্ট চিন্তা! কী দুর্দান্ত সাহস এই ছোট্ট মেয়েটার! এতটুকু বয়সে, এত বড় সহিংসতার শিকার হয়েও এরকমভাবে সবাইকে নিয়ে ভাবছে। মনে হচ্ছিলো ও শুধু নিজের নয়, দেশের প্রতিটা মেয়ে, প্রতিটা নারীর হয়ে কথা বলছে।
ওর কথাগুলো এখনো বুকের ভেতর পাথরের মতো জমে আছে।
ভাবছিলাম এমন দেশ আমরা কিভাবে গড়তে পারবো যেখানে কোনও মেয়েকে আর এভাবে একা থানায় এসে দাঁড়াতে হবে না। যেখানে বিচার ভিক্ষা করতে হবে না, হবে জন্মসূত্রে পাওয়া অধিকার।
আর আমরা যখন এই মেয়ের জন্য ন্যায়বিচার চাইছি, তখন আমাদের চোখ রাখতে হবে শহীদ পরিবারগুলোর দিকেও। এদের অনেকেই বাবা-ভাই-স্বামী হারিয়েছে। আমাদের সমাজ-সংস্কৃতির বাস্তবতায় এই পরিবারগুলোর মেয়েরা আরও বেশি অনিরাপদ হয়ে পড়ছে। তাই সরকারের কাছে আমাদের দাবি। করুণা থেকে নয়, বরং দায়িত্ব থেকে, শহীদ পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।