২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ , ১০:৩৭:৪৮
‘ভয়ঙ্কর’ শীত এবং শীতকালীন তীব্র ঝড়ে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ১১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে শুধু কেন্টাকিতেই মারা গেছেন ১০ জন। একজন পেনসিলভেনিয়ায়। এ ছাড়া প্রবল বর্ষণে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন।
কেন্টাকি রাজ্যের গভর্নর অ্যান্ডি বেসিয়ার বলেছেন, বন্যায় আটকে পড়া শত শত মানুষকে গত ৯ ফেব্রুয়ারি রোববার উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তার আগেই দুর্ভাগ্যজনকভাবে পানিতে আটকে যাওয়া একটি গাড়ির ভেতর সাত বছরের এক শিশু ও তার মায়ের মৃত্যু হয়েছে।
ঝড় ও বন্যাকবলিত মানুষদের সতর্ক করে অ্যান্ডি বেসিয়ার বলেন, ‘আপনারা এই মুহূর্তে রাস্তায় বের হওয়া থেকে বিরত থাকুন এবং নিজেদের নিরাপদ জায়গায় রাখুন।’
ঝড়ের কারণে প্রায় ৩৯ হাজার বাড়ীর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলেও জানান গভর্নর অ্যান্ডি বেসিয়ার। তিনি বলেন, ‘তীব্র ঝড়ের কারণে হাজার হাজার বাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। বাতাসের কারণে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।’
ঝড়ের তীব্রতা না কমায় জর্জিয়া ও ফ্লোরিডার কিছু অংশেও টর্নোডো সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে এই মুহূর্তে সবচেয়ে ঠান্ডা বইতে পারে। নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, কানেকটিকাট, রোড আইল্যান্ড, ম্যাসেচুসেট্স, ভার্জিনিয়া, পেনসিলভেনিয়া, ওয়াশিংটন ডিসিতেও শীতকালিন ঝড়ের সাথে তুষারপাতও ঘটছে।
এদিকে নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্য ‘ভয়ঙ্কর’ শীতের কবলে পড়েছে। ১৮ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্ক সিটিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা মাইনাস ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাতে তাপমাত্রা আরো কমে যাওয়ার কথা। ২০ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সপ্তাহের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হবে ১৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা মাইনাস ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এদিকে, তীব্র ঠাণ্ডার কারণে বিভিন্ন রাজ্যে ঠাণ্ডাজনিত রোগ বাড়ছে। নিউইয়র্ক সিটির হাসপাতালগুলোতে রোগী ভর্তির হার বাড়ছে। বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুরা অসুস্থ হচ্ছে বেশী। চিকিৎসকেরা বলছেন, যাদের শ্বাসকষ্টজনিত রোগ আছে, তাদের ব্যাপারে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য এই সময়টা বেশ জটিলতা তৈরি করে। সাধারণত শীতকালে ঠাণ্ডা, সর্দি-কাশিসহ অন্যান্য রোগের প্রাদুর্ভাব একটু বেশি দেখা যায়। ভাইরাসজনিত রোগ শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় অনেকগুণ। তাই শীতে শিশু ও বয়স্কদের যত্ন নিতে তাদের স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হয়। একটু অসাবধানতা ডেকে আনতে পারে অনেক বড় সমস্যা। শীতকালের অসুখের মূল কারণ বায়ুবাহিত বিভিন্ন রোগ-জীবাণু যা সহজেই ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশেষ করে শিশুদের সহজেই আক্রমণ করে।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেছেন, শীতের এই সময়টা ঠাণ্ডাজনিত সমস্যাগুলো বেশি দেখা যায়, যেমন কাশি, অ্যাজমা, সাময়িক জ্বর, কোল্ড অ্যালার্জি। এসময় অনেকের ঠাণ্ডজনিত অ্যালার্জি বা শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক মানুষের কাশি কোল্ড অ্যালার্জির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ঠিক সময় শনাক্ত করা না গেলে সেটা অনেক সময় নিউমোনিয়াতে রূপ নিতে পারে। অন্যদিকে বয়স্কদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায়, অল্প ঠাণ্ডায় তাদের নানা সমস্যা দেখা দেয়। বয়স্ক মানুষের কমন সমস্যা শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা বা শ্বাসনালীর প্রদাহ। যা ঠাণ্ডা আবহাওয়াতে বাড়তে পারে। এজন্য ঠাণ্ডা থেকে তাদের দূরে থাকতে হবে।