৯ জানুয়ারি ২০২৬ , ১২:৩৮:৩৭
বিদেশ থেকে পাঠানো প্রবাসীদের রেমিট্যান্স একইদিন বা পরবর্তী কর্মদিবসে গ্রাহকের হিসাবে জমা নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আন্তঃসীমান্ত অর্থ পরিশোধ প্রক্রিয়ায় দেরি কমানো এবং দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য ব্যাংকগুলোকে আগামী মার্চ পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে। নতুন নির্দেশনার আওতায় অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো রেমিট্যান্সের বার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপদ ইলেকট্রনিক মাধ্যমে গ্রাহককে জানাতে হবে। ব্যাংকিং সময়ের মধ্যে পাওয়া রেমিট্যান্স একই কর্মদিবসে এবং ব্যাংকিং সময়ের পর পাওয়া রেমিট্যান্স পরবর্তী কর্মদিবসে গ্রাহকের হিসাবে জমা করতে হবে।
ব্যাংকগুলোকে স্ট্রেইট-থ্রু প্রসেসিং (এসটিপি) বা ঝুঁকিভিত্তিক দ্রুততর প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া গেলে কিছু নথিপত্র বা যাচাই প্রক্রিয়া বাকি থাকলেও গ্রাহকের হিসাবে অর্থ জমা করা যাবে এবং পরবর্তী সময়ে বাকি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা যাবে। যেসব ক্ষেত্রে পোস্ট- ক্রেডিট রিভিউ সম্ভব নয়, সেসব ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকের হিসাবে অর্থ জমা করার আগে যাচাই সম্পন্ন করে ৩ কর্মদিবসের মধ্যে লেনদেন নিষ্পত্তি করতে হবে।
প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করতে ব্যাংকগুলোকে দিনের শেষে ‘নস্ট্রো’ হিসাবের বিবরণীর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইন্ট্রাডে ক্রেডিট কনফারমেশন ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি রিকনসিলিয়েশন ব্যবস্থার উন্নয়নেও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে, যা ৬০ মিনিটের মধ্যে সম্পাদন করতে হবে।
সার্কুলারে পেমেন্ট ট্র্যাকিং ও স্বচ্ছতার ওপর জোর দেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স গ্রহণ থেকে চূড়ান্তভাবে গ্রাহকের হিসাবে জমা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে ইউনিক অ্যান্ড-টু-অ্যান্ড ট্রানজ্যাকশন রেফারেন্স (ইউইটিআর) ব্যবহারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ডিজিটাল বৈদেশিক মুদ্রা প্ল্যাটফরম শক্তিশালী করতে হবে, যাতে ফরম সি (আইসিটি) প্রয়োজনীয়তা রহিত করা যায়।
ব্যবসায়িক মহল এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এতে গ্রাহকদের আস্থা বাড়বে এবং বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা বৈশ্বিক সেবা চর্চার সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। তবে রূপান্তরকালীন সময়ে কিছু কার্যক্রমগত চ্যালেঞ্জের কথাও উল্লেখ করেছেন ব্যাংকাররা।
শিল্পসংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকদের মতে, ইন্ট্রাডে কনফারমেশন ও ইউইটিআরভিত্তিক ট্র্যাকিং রেমিট্যান্স নিষ্পত্তিতে স্বচ্ছতা বাড়াবে এবং বিরোধ কমাতে সহায়তা করবে।
ঢাকায় কর্মরত একটি আন্তর্জাতিক ব্যাংকের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, এর ফলে করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকগুলোর মধ্যে আস্থা বাড়বে এবং বৈশ্বিক পেমেন্ট নেটওয়ার্কে বাংলাদেশের সুনাম আরও শক্তিশালী হবে।
















