২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ , ১০:০২:৩৯
গতকাল সারাদিন ছিলাম ট্রাইব্যুনালে। আলেপ, মহিউদ্দিন ফারুকি, জিয়াউল আহসান, মামুন সহ অনেককেই উঠানো হয়েছে কোর্টে গতকাল। দেশি কোর্টে দেখা হলেও ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুনালে সামনাসামনি বসে বিচার প্রক্রিয়া দেখা এটাই প্রথম।
বেশ কিছু বিষয় মনে হল শেয়ার করা দরকার।
১/ ট্রাইব্যুনালের পরিবেশ অসাধারণ। এতো সুন্দর পরিবেশে এতো নিকৃষ্ট আসামীদের বিচার হচ্ছে, সেটা তাদের কপাল বলতে হবে।
২/ প্রসিকিউটরসরা অত্যন্ত আন্তরিক। বিশেষ করে চিফ প্র. তাজুল ভাই জাস্ট মাইন্ড ব্লয়ার। উনার কথা বলার স্টাইল, আসামীদের প্রতি ভেলিড আইনজীবী সুলভ এগ্রেসিভনেস ছিল দেখার মত। যদি উনি উনার স্পিডে কাজ করতে পারেন, ইনশাআল্লাহ্ অতি দ্রুত আমরা কয়েকটা ফাঁসির সুসংবাদ পাব।
এছাড়াও অনন্য সকল প্র. দের ব্যবহার ছিল দারুন ফ্রেন্ডলি। আমরা যে নির্যাতিত, সেটা তাদের মমত্ববোধ থেকে আমি ফিল করেছি। আমি যার কাছে স্টেটমেন্ট দিয়েছি, সেই সিনিয়র এবং বয়োজ্যেষ্ঠ প্র. শহীদুল ইসলাম সরদার সাহেব নিজের দুপুরের আনা একটা রুটি আর উস্তে ভাজি আমার সাথে ভাগ করে খেয়েছেন। ব্যাপারটা আমাকে মুগ্ধ করেছে।
৩/ আলেপ ফারুকি সহ প্রায় সবার অপরাধ ভিজিবলি প্রমানিত, শুধু আইনি প্রক্রিয়ার কারনে বিচার প্রক্রিয়া লেট হচ্ছে। আমাদের আইন এবং বিচার সিস্টেম কিছু অপ্রয়োজনীয় গলি ঘুপচি পাড়ি দিয়ে কাজ করে, যেটা মুল কাজে দেরি করায় আর অপরাধীকে সুযোগ করে দেয়। তবে প্র. এ ব্যাপারে ভাল সতর্ক মনে হয়েছে।
৪/ প্র. দের ঠিকমতো সরকারি ফাংশনগুলো হেল্প করছেনা। করলে বিচার আরও ফাস্ট হত। কেন করছেনা সেটা স্পষ্ট। হাসিনার লোকজন এখনও প্রশাসনে আছে। তারা তাদের জ্ঞাতি ভাইদের বিচার চাচ্ছে না।
৫/ আসামি পক্ষের উকিলদের আচরন অনেকটা চোরের মত। তারা এই নিকৃষ্ট আসামীদের পক্ষে দাঁড়িয়ে নিজেদের নীতি নৈতিকতা জলাঞ্জলি দিয়ে যে মানসিক চাপে আছেন কয়টা পয়সার জন্য, সেটা তাদের চেহারা দেখলে বোঝা যায়।
তবে ব্যতিক্রম সাইকো জিয়াউল আহসানের লয়েয়ার যিনি সম্পর্কে উনার বোন। ভাই এবং বোন, দুজনেই ঠাণ্ডা মাথার সাইকো মনে হয়েছে আমার কাছে। উনি উনার ভাইকে ডিফেন্ড করে বাঁচাতে চাইতে পারেন, কিন্তু যেভাবে উনি ভাইর সব কুকীর্তি জানার পরেও ন্যাক্কারজনক ভাবে ট্রাইব্যুনালের কাজে বাধা সৃষ্টি করেছেন গতকাল এবং রেগুলার করছেন, সেটা মানসিক বিকৃতির পরিচয়।
উনি গতকাল ফালতু একটা বিষয় নিয়ে ট্রাইব্যুনালের প্রায় ৪৫ মিনিট সময় নষ্ট করেন এবং সেটাই ছিল তার উদ্দেশ্য। অবস্থা এমন হয়, রুমে উপস্থিত তার নিজের লোক ছাড়া প্র. সহ আমরা রুমে উপস্থিত প্রায় সবাই তার উপর মেজাজ হারিয়ে ফেলতে শুরু করে। অ্যা রিয়েল ডিজগাস্তিং ফিমেল সি ইজ।
৬/ মহিউদ্দিন ফারুকিকে আমার কাছে থার্ড জেন্ডার মনে হয়েছে। ওর হাটা চলে মেয়েদের মত, নড়েচড়েও সেভাবে। ওর বউ ভাল বলতে পারবে ওর বিষয়ে। তদন্তের আহবান রইল।
এই মেয়েলি হাটা চলা টাইপ লোক, লোহার কাটার উপর বন্দিদের দাড়া করিয়ে কিভাবে উল্লাস করত, সেটা ওর চেহারা দেখে আমি বোঝার চেষ্টা করছিলাম। প্র. যখন ওর অমানুষিক অপরাধের ফিরিস্তি দিচ্ছিল, পুরো সময় ও ডান পাশে মাথা নামিয়ে চোখ পিটপিট করে যাচ্ছিল। ঢোক গেলার বিষয়টাও লক্ষণীয়। ভয় ঘিরে ধরেছে এদের।
৭/ আলেপ ছিল তার সহজাত ডোন্ট কেয়ার নাটকীয় মুডে। চেহারা বসে গেছে, সাইজ এমনিতেই ছোট আরও খাটো লাগছে। যখন এক ভিকটিম ওয়াইফকে রোজার মাসে তুলে নিয়ে রোজা ভাঙ্গিয়ে রেপের বর্ণনা দিচ্ছিলেন চিফ প্র., আমি এক দৃষ্টে তাকিয়ে ছিলাম ওর রিএকশন দেখতে। যেটা আশা করেছিলাম তাই। পাপ করতে করতে ওর চেহারাই হয়ে গেছে পাপের। সেখানে ভাব্লেশ নেই।
তবে তার ভাব্লেশহীন মুড ভেঙ্গে চোখের পানি গড়িয়ে পরে যখন ওর বোকা…দা আইনজীবী দাঁড়িয়ে বলে আলেপের বউ আর বাচ্চাদের নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একদল গোষ্ঠী নানা কথা বলছে। ব্যাপারটা তখন হয়ে যায় বেশ হাস্যরসাত্মক। একজন মুসলিম মেয়েকে রোজার মাসে রেপ করা অফিসার, ভরা আদালতে কাঁদছে তার বউর ছবি ফেবুতে দেয়ার জন্য। জোরে হাসার সুযোগ থাকলে আমরা সেখানে হো হো করে হাসতাম।
তবে পুরো সময়ে আমি যা মিস করেছি সেটা হল এক কাপ গাড়ো লিকারের ঘন দুধের ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ। দীর্ঘ ১৬ বছরের অবর্ণনীয় একটা সময় পার করে এসে যখন আলেপদের দেখি কোর্টে বসে কাঁদতে, তখন সেটা উপভোগ করার সময় চায়ের কাপ নামক আমার আরেক জীবনসঙ্গীকে মিস করাই স্বাভাবিক।