অর্থনীতি

সুখী দেশের তালিকায় টানা ৯ বার শীর্ষে ফিনল্যান্ড, বাংলাদেশের সূচকে উন্নতি

  একুশ প্রতিবেদন ২০ মার্চ ২০২৬ , ৮:০৫:৩৫

সুখী দেশের তালিকায় টানা ৯ বার শীর্ষে ফিনল্যান্ড, বাংলাদেশের সূচকে উন্নতি

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | ২০ মার্চ, ২০২৬
জাতিসংঘের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট ২০২৬’-এ আবারও বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশের মুকুট ধরে রেখেছে উত্তর ইউরোপের দেশ ফিনল্যান্ড। এ নিয়ে টানা নবমবারের মতো তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করল দেশটি। অন্যদিকে, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবারের সূচকে কিছুটা উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের। ১৪৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ এবার ১২৭তম অবস্থানে উঠে এসেছে।

শীর্ষ ১০ সুখী দেশ
এবারের তালিকায় প্রথম ১০টি দেশের বেশিরভাগই ইউরোপের। শীর্ষ দেশগুলো হলো:
১. ফিনল্যান্ড, ২. ডেনমার্ক, ৩. আইসল্যান্ড, ৪. সুইডেন, ৫. নেদারল্যান্ডস, ৬. নরওয়ে, ৭. লুক্সেমবার্গ, ৮. সুইজারল্যান্ড, ৯. ইসরায়েল ও ১০. অস্ট্রেলিয়া।

বাংলাদেশের অবস্থান ও দক্ষিণ এশীয় প্রেক্ষাপট
২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ গত বছরের ১৩৪তম অবস্থান থেকে ৭ ধাপ এগিয়ে ১২৭তম স্থানে উঠে এসেছে। তবে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান এখনও সন্তোষজনক নয়। এই অঞ্চলে সবচেয়ে সুখী দেশ হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে নেপাল।

দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর অবস্থান:
* নেপাল: ৯২তম
* পাকিস্তান: ১০৪তম
* ভারত: ১১৬তম
* বাংলাদেশ: ১২৭তম
* শ্রীলঙ্কা: ১৩৩তম
* আফগানিস্তান: ১৪৭তম (বিশ্বের সবচেয়ে অসুখী দেশ)

বাংলাদেশ কেন পিছিয়ে? (বিশ্লেষণ)
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকার পেছনে বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু কাঠামোগত ও সামাজিক কারণ চিহ্নিত করেছেন:
১. দুর্নীতি নিয়ে জনমনে ধারণা: সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশের জনগণের বড় একটি অংশ মনে করেন সরকারি ও বেসরকারি খাতে দুর্নীতি অত্যন্ত ব্যাপক। দুর্নীতির এই উচ্চ হার মানুষের জীবনযাত্রার মান ও মানসিক প্রশান্তিতে বড় বাধা।
২. সামাজিক নিরাপত্তার অভাব: বিপদে পড়লে আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুদের পাশে পাওয়ার নিশ্চয়তা (Social Support) পরিমাপে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে। অর্ধেকের বেশি বাংলাদেশি মনে করেন সংকটের সময় সাহায্য করার মতো কেউ তাদের পাশে নেই।
৩. উচ্চ মূল্যস্ফীতি: নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশচুম্বী দাম এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় মানুষের দৈনন্দিন সুখানুভূতি কমিয়ে দিচ্ছে।
৪. ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা: জীবন নিয়ে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের স্কোর তুলনামূলক কম।
৫. স্বাস্থ্যসেবা ও মানসিক স্বাস্থ্য: পর্যাপ্ত ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবার অভাব এবং মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিকে গুরুত্ব না দেওয়া মানুষকে দীর্ঘমেয়াদী হতাশায় ফেলছে।

সুখের সূচক যেভাবে নির্ধারিত হয়
গ্যালাপ ওয়ার্ল্ড পোলের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অক্সফোর্ড ওয়েলবিয়িং রিসার্চ সেন্টার মূলত ছয়টি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে এই তালিকা তৈরি করে: মাথাপিছু জিডিপি, সামাজিক সহযোগিতা, সুস্থ গড় আয়ু, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, পরোপকার বা উদারতা এবং দুর্নীতি নিয়ে ধারণা।

বিশ্লেষকদের মতে, কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (GDP) দিয়ে একটি জাতির সুখ পরিমাপ করা সম্ভব নয়। দুর্নীতি দমন, শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষা এবং সুশাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমেই বাংলাদেশ আগামীতে এই তালিকায় আরও সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে।

আরও খবর