১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ , ৯:১২:৩৮
উবারের অর্থনৈতিক প্রভাব: বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ৫,৫০০ কোটি টাকার অবদান
বহুজাতিক রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান উবার ২০২৪ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ৫,৫০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ অবদান রেখেছে। আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাবলিক ফার্স্টের ‘উবার ইকোনমিক ইমপ্যাক্ট রিপোর্ট বাংলাদেশ-২০২৪’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, উবারের মটো ও অটো সার্ভিসের অবদান ৯২০ কোটি টাকার সমপরিমাণ। এছাড়া, উবার ২১ লাখ ৪০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে, যা দেশের মোট গাড়িচালকদের অর্ধেকের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি করেছে। যাত্রীরা উবার ব্যবহার করে ৬৬,৯০০ কোটি টাকার সুবিধা পেয়েছেন, যা যাতায়াত সহজ হওয়া, সময় বাঁচানো এবং ভাড়ার সুবিধার মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে।
গতকাল ঢাকার ওয়েস্টিন হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পাবলিক ফার্স্টের টেক, মিডিয়া ও টেলিকমপ্রধান এমি প্রাইস আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক এবং বিআরটিএ চেয়ারম্যান মো. ইয়াসীন উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদন প্রকাশের পর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকদের অংশগ্রহণে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন অনুষ্ঠানে বলেন, “নারীরা উবার ব্যবহারে সাধারণত নিরাপদ বোধ করলেও রাতে পুরুষ ও নারী উভয়ই সমানভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে থাকেন। নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সহযোগিতা প্রয়োজন।”
তিনি আরও পরামর্শ দেন, উবারের সেবা যেন সব শ্রেণির মানুষের জন্য সাশ্রয়ী হয়, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
অনুষ্ঠানে পিক টাইমে উবারের ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে অভিযোগ উঠলে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মো. ইয়াসীন উবার কর্তৃপক্ষকে ভাড়া নির্ধারণের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, “রাইড শেয়ারিং খাতে উবারের ভূমিকা প্রশংসনীয়। তবে কিছু চালক অ্যাপস বন্ধ রেখে চুক্তিভিত্তিক সেবা দিচ্ছেন, যা নিয়মবহির্ভূত। ইতিমধ্যে কিছু রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।”
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৪ সাল পর্যন্ত উবার বাংলাদেশে ৭.২ মিলিয়নেরও বেশি যাত্রীকে সেবা দিয়েছে এবং ৩ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি চালকের জন্য জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ৮২% যাত্রী অফিসে যাতায়াতের জন্য উবার ব্যবহার করেছেন, ফলে বছরে আনুমানিক ১১ লাখ কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হয়েছে, যা ৯৪ কোটি টাকার সমপরিমাণ। ৮৭% যাত্রী মনে করেন উবারের মাধ্যমে শহরে যাতায়াত সহজ হয়েছে। ৭৬% চালক জানিয়েছেন, উবার তাঁদের প্রথম আয়ের প্ল্যাটফর্ম। ৯৫% নারী যাত্রী বলেছেন, নিরাপত্তাই তাঁদের উবার ব্যবহারের অন্যতম প্রধান কারণ। ৮৯% যাত্রী মনে করেন রাতে বাড়ি ফেরার সবচেয়ে নিরাপদ মাধ্যম উবার।
উবার বাংলাদেশের কান্ট্রি হেড নাশিদ ফেরদৌস কামাল বলেন, “ভবিষ্যতে আরও উন্নত সেবা দেওয়ার জন্য উবার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা যে সেবা দিচ্ছি, তার আর্থিক মূল্য যদি ১,০০০ টাকা হয়, তবে অর্থনীতিতে তার প্রভাব আরও কয়েক গুণ বেশি।”
এমি প্রাইস গবেষণার পদ্ধতি সম্পর্কে বলেন, “২০২৪ সালের মে থেকে জুলাই মাসে এই গবেষণা পরিচালিত হয়। এতে ১,০৭৩ জন উবার যাত্রী এবং ২৬২ জন উবার চালকের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।”
উবারের এই অর্থনৈতিক প্রভাব বাংলাদেশের পরিবহন খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নত সেবা প্রদানে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।