২০ মার্চ ২০২৫ , ৪:৪৮:৪৪
রিপাবলিকান পার্টি এবং ট্রাম্পিজম এক বিষয় নয়, ঠিক তেমনই আওয়ামী লীগ এবং হাসিনাইজমও এক বিষয় নয়। মূলত “ইজম”-এর কারণে আজ আওয়ামী লীগ এই পরিণতির মুখোমুখি।
বঙ্গবন্ধু ছিলেন অবিসংবাদিত নেতা। তবে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগের প্রথম ভুল ছিল একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন। এর ফলে দলকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করতে ২১ বছর লেগে যায়, যা সম্ভব হয়েছিল জিয়াউর রহমানের সুযোগ দেওয়ার কারণে—যদিও আওয়ামী লীগ তা স্বীকার করতে চায় না।
এরপর ধীরে ধীরে শেখ হাসিনা স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে একনায়কতন্ত্র কায়েম করেন এবং দুর্নীতির আখড়া গড়ে তোলেন। ক্ষমতায় স্থায়ী বন্দোবস্তের জন্য দেশকে ভারতের হাতে ইজারা দেন এবং দলীয় শাসনের ব্যবস্থা করেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ব্যবহার করে প্রতিহিংসার রাজনীতি কায়েম করেন, যা জাতিকে বিভক্ত করেছে। গুম-খুন-হত্যার রাজনীতি আওয়ামী লীগ আমলেই সবচেয়ে বেশি হয়েছে—তারা এটা স্বীকার করুক বা না করুক।
আজ আওয়ামী লীগ অস্তিত্বের সংকটে। এটি তাদের বহু ভুল সিদ্ধান্তের ফল। ভুলের তালিকা দীর্ঘ, তবে এখান থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হলো—
১. আত্মঅহংকার ও প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করা।
২. নতুন নেতৃত্বের উত্থান ঘটানো। বঙ্গবন্ধু ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা, কিন্তু আওয়ামী লীগ যদি দেশকে নিজেদের সম্পত্তি ভাবে, তাহলে তারা টিকে থাকতে পারবে না।
৩. পরিবারতন্ত্র পরিহার করা। শতকরা ৩৫% মানুষ এখনও আওয়ামী লীগের সমর্থক, কিন্তু তাদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে হলে নতুন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হবে।
৪. প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরে আসা। এটিকে ব্যবসার হাতিয়ার না বানিয়ে নতুন প্রজন্মের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিতে হবে।
৫. প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে ঐক্যের পথে হাঁটা। ভারতের রাজনীতিতে বহু মতাদর্শ থাকলেও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাই ঐক্যবদ্ধ। কিন্তু আমরা ক্ষমতার জন্য বিদেশি শক্তির কাছে আত্মসমর্পণ করতে পিছপা হই না।
বর্তমানে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতারা বার্ধক্যে উপনীত। তারা নতুন প্রজন্মের মনস্তত্ত্ব বুঝতে অক্ষম এবং প্রতিশোধের রাজনীতিতে নিমজ্জিত। “উন্নয়ন” নামে দল দুর্নীতির পাহাড় গড়েছে, যা জনগণের কাছে অজানা নয়।
বঙ্গবন্ধু পরিবার আওয়ামী লীগের জন্য অভিশাপ কিনা, তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বাস্তবতা হলো—দলকে সঠিক নেতৃত্ব দেওয়া হয়নি। আওয়ামী লীগ দলকে এগিয়ে নেয়নি, বরং “বঙ্গবন্ধু”র নাম ভাঙিয়ে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে। পরিবারতন্ত্রের অবসান ঘটানো এখন সময়ের দাবি।
১. যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা: দলে অনেক সৎ নেতা রয়েছেন, যারা তোষামোদকারীদের কারণে নেতৃত্বের সুযোগ পাননি। তাদের সামনে আনতে হবে।
২. গুজব ও দমননীতির রাজনীতি বন্ধ করা: আওয়ামী লীগ এখন রাজনৈতিক কৌশলের চেয়ে গুজব ছড়ানো ও বিরোধীদের দমন করায় ব্যস্ত। এটি বন্ধ করতে হবে।
৩. গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা: বাকস্বাধীনতা ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
আওয়ামী লীগের বর্তমান অবস্থা শেখ হাসিনার একনায়কতান্ত্রিক নেতৃত্বের ফল। দলকে বাঁচাতে হলে তার বিকল্প ভাবতে হবে। ক্ষমতার উৎস বন্দুক নয়, জনগণের হৃদয়। জনগণের সমর্থন ছাড়া টিকে থাকা অসম্ভব।
শান্তি শান্তি শান্তি।