আন্তর্জাতিক

কস্ট-ডিস্ট্রিবিউশন’ বা যুদ্ধব্যয় চাপিয়ে দেওয়ার কৌশল

  ৫ মার্চ ২০২৬ , ৫:২৫:৫৭

বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, এই যুদ্ধের গতিপথ তাৎক্ষণিক কোনো সামরিক সাফল্য দিয়ে নির্ধারিত হবে না, বরং তা নির্ধারিত হবে কার ওপর কতটা ক্ষয়ক্ষতির বোঝা জমছে, তার ভারসাম্যের ওপর। যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতকে একটি দীর্ঘমেয়াদি এবং প্রাণঘাতী লড়াই হিসেবে দেখছে। এর বিপরীতে ইরান সুপরিকল্পিতভাবে সময়ক্ষেপণ করছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বহুমুখী চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে পাল্টা জবাব দিচ্ছে।

উপসাগরীয় দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটিতে হামলা, কূটনৈতিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত, হরমুজ প্রণালিকেন্দ্রিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটানো—সবই একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ। ইরানের লক্ষ্য হলো এই আঞ্চলিক সামরিক সংঘাতকে এমন একটি সংকটে রূপান্তর করা, যা সরাসরি আন্তর্জাতিক মিত্রজোট, বিশ্ব অর্থনীতি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে সজোরে আঘাত করবে।

মূল প্রশ্নটি এখন আর কেবল ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এই সংঘাতের ফলে ওয়াশিংটনের যে সামরিক সক্ষমতা প্রকাশ পেয়েছে এবং যেসব দুর্বলতা উন্মোচিত হয়েছে, তা চীনের বিরুদ্ধে তাদের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সময়সূচিকে কতটা প্রভাবিত করবে? এর চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো—চীন যদি আরও বড় পরিসরে একই ধরনের ‘কস্ট-ডিস্ট্রিবিউশন’ বা যুদ্ধব্যয় চাপিয়ে দেওয়ার কৌশল গ্রহণ করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তার মোকাবিলা করবে কীভাবে?

এই অর্থে, ইরান সংকট কেবল একটি আঞ্চলিক পরীক্ষাই নয়, বরং তা যুক্তরাষ্ট্রের সহ্যক্ষমতার সীমারও একটি পরীক্ষা।

আরও খবর