আইন-আদালত

আবার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

  ডি ডাব্লিউ ১৪ মার্চ ২০২৫ , ৭:২৬:৪৩

আবার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

হারুন উর রশীদ স্বপন

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অনেক ক্ষেত্রে পুলিশের অনুপস্থিতি বা ঘটনাস্থলে তাদের নীরব উপস্থিতি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে৷ তবে গত কয়েকদিনে কিছু ক্ষেত্রে বলপ্রয়োগ করলেও অন্য কিছু ক্ষেত্রে পুলিশ ছিল নীরব দর্শকের ভূমিকায়৷

শাহবাগে ধর্ষণের প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। অভিযোগে বলা হয়েছে, পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে প্রতিবাদকারীরা। পুলিশ সদর দপ্তরও বিবৃতি দিয়ে একই দাবি করেছে।

তবে পুলিশের এ আইনি পদক্ষেপের আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানো হয় যে, আান্দোলনকারীরাই আগে পুলিশের ওপর হামলা করেছে আর প্রচারকারীদের ভাষায় তা করেছে ‘শাহবাগীরা’। হামলার ঘটনাটিকে ‘শাহবাগীদের ষড়যন্ত্র’ হিসেবেও অভিহিত করেন তারা।

তবে দেশের শীর্ষ দৈনিকগুলোতে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের হামলার ছবি ছাপা হয়েছে।

রমনা থানায় পুলিশের মামলার পর সুপ্রিম কোর্টের আইনজবীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “ছাত্র ফেডারেশনের ছোট ভাই সৈকত আরিফ তাদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার কপি পাঠানোর পর আমার উত্তর–“Congratulations!! First case under fascist interim government!!??”

অন্তর্বর্তী সরকারকে কেন ফ্যাসিস্ট মনে করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “পুলিশ একটা বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে, শাহবাগ ও সচিবালয় এলাকাসহ আরো কয়েকটি এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ। আপনি নিরাপত্তা দিতে পারবেন না। মেয়েরা ধারাবাহিকভাবে ধর্ষণের শিকার হয়ে মারা যাচ্ছে। শিশু আছিয়া তো আজকে মারাই গেল। এখন মেয়েরা প্রতিবাদ করলেই আপনি নিষেধাজ্ঞা দেবেন, মামলা করবেন- এটা তো ফ্যাসিস্টেরই আচরণ। আপনাকে তো কমপেশনেট(সহানুভূতিশীল) হতে হবে আরো। সবার প্রতি সমআচরণ করতে হবে। কাউকে শত্রুর কাতারে রেখে, কাউকে বন্ধুর কাতারে রেখে আপনি তো বৈষম্য করতে পারবেন না।”

‘ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগ থেকে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে যাওয়ার পথে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে মঙ্গলবারের ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশের দায়ের করা মামলায় মোট ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামির কথাও বলা হয়েছে সেখানে। যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের মধ্যে আছেন: বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেঘমল্লার বসু ও সাধারণ সম্পাদক মাঈন আহম্মেদ , ছাত্র ফেডারেশন ঢাকা মহানগরের সভাপতি আল আমিন রহমান, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ইডেন মহিলা কলেজ শাখার সভাপতি সুমাইয়া শাহিনা, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফাহিম আহাম্মদ চৌধুরী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের নেত্রী আদ্রিতা রায়, ছাত্র ফেডারেশনের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আরমান, হাসান শিকদার ও সীমা আক্তার, বাম ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে জড়িত রিচার্ড এবং অং অং মারমা।

এটা তো ফ্যাসিস্টেরই আচরণ: জ্যোতির্ময়

এজাহারে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখে শুরু করা পদযাত্রাটি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে এলে বিক্ষোভকারীদের ব্যারিকেড দিয়ে বাধা দেয়া হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত রমনা জোনের সহকারি কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিক্ষোভকারীদের রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা না করার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা অনুরোধ না মেনে লাঠিসোঁটা নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করেন। বিক্ষোভকারীদের হামলায় রমনা জোনের সহকারি কমিশনার আবদুল্লাহ আল মামুন, পুলিশ সদস্য মো. রায়হান, কাউছার, রোহান, সাইফুল ইসলাম, আদিবা ও রুবিনা গুরুতর আহত হন।

অন্যদিকে বিক্ষোভকারীরা বলছেন, শান্তিপূর্ণ ওই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। ওই ঘটনার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ সদস্যরা আন্দোলনকারীদের মারধর করছেন। আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, আন্দোলনকারীরা পুলিশ সদস্যদের মারধর করছেন।

পুলিশ সদর দপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, “মঙ্গলবারের ওই ঘটনার ভিডিও চিত্র দেখলে পরিষ্কার হয় যে, উত্তেজিত মিছিলকারীরা পুলিশের ওপর আক্রমণ করার পর পুলিশ তাদের প্রতিহত করে। কিন্তু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে এই সত্য আড়াল করা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে এরূপ খণ্ডিত সংবাদ ও ছবি প্রকাশ কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। পুলিশ সদর দপ্তর গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করে।”

পুলিশের করা মামলার আসামি ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেঘমল্লার বসু ডয়চে ভেলেকে বলেন, ” যেখানে আমাদের পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা, সেখানে পুলিশ আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। আসলে আমরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দিতে চাইলে পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। সেই ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশই প্রথমে আমাদের ওপর ‘অ্যাকশন’ শুরু করে। এরপর আমরা প্রতিরোধ করি। হামলায় আমি নিজেও আহত হয়েছি। আর ‘সাদা পোশাক’ পরা যে পুলিশ কর্মকর্তার কথা বলা হচ্ছে, তিনিও ভিতরে ঢুকে মারপিট করছিলেন। তাকেও প্রতিহত করা হয়। আর তিনি ‘সাদা পোশাকে’ ওখানে কেন গিয়েছেন? তার কী উদ্দেশ্য ছিল?  তাকে চিনবো কীভাবে যে তিনি পুলিশ? ওখানে তো পোশাকধারী পুলিশ ছিল!”

তার কথা, “আসলে এই ধরনের প্রতিবাদে যা হয়- আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করে, এরপর পুলিশ কয়েকজন প্রতিনিধিকে বাছাই করে, তারা স্মারকলিপিসহ নিয়ে যায়। কিন্তু  পুলিশ আগে হামলা করে পরিস্থিতি খারাপ করেছে। তারা যে আগে হামলা করেছে তার ভিডিও আছে। কিন্তু উদ্দেশ্যমূলকভাবে সেই অংশ বাদ দিয়ে ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে। পুলিশ অসত্য তথ্য প্রচার করছে।”

আরেক আন্দোলনকারী আদ্রিতা রায় বলেন,”আমাদের সাথে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ হয়৷ আমরা স্মারকলিপি দিতে যাবো- ব্যাডিরকেডের কাছে পুলিশকে আমরা তা জানাইও। কিন্তু তা না শুনে পুলিশ আমাদের ওপর হামলা চালায়। আর সাদা পোশাকে ওই কর্মকর্তা ভিতরে ঢুকে আমাদের এক নারী আন্দোলকারীর ওপর হামলা চালায়।”

আদ্রিতা আরো বলেন, “আমাদের কাছে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভিডিও ফুটেজ আছে। এটা অনেক সংবাদমাধ্যম লাইভ প্রচার করেছে৷ সেটা দেখলেই বোঝা যাবে কারা বিনা উসকানিতে হামলা করেছে। আমরা তো বিচার চাইতে গিয়েছি। আমরা কেন হামলা করবো? এখন পুলিশ অপ্রপচার করছে। আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে৷”

পুলিশের মামলা সম্পর্কে ব্যরিস্টার জ্যেতির্ময় বড়ুয়া বলেন, “যে পুলিশ কর্মকর্তার শার্ট ছিড়ে ফেলার কথা বলা হচ্ছে, তিনি কিন্তু  এর আগে বিনা উসকানিতে মারধর শুরু করেন। পুলিশ মামলা করার ক্ষেত্রে সেই অংশ কিন্তু অমিট করেছে (বাদ দিয়েছে)। সেই ভিডিও তো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আছে। তারা ইনটেনশনালি জাস্টিফিকেশন তৈরির চেষ্টা করছে। এটা আগের আওয়ামী লীগ আমলেরই ফর্ম্যাট। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে ঘোষণা দেয়া হয়েছে. তাদের যেখানে পাওয়া যাবে সেখানে গ্রেপ্তার করা হবে। মেয়েরা তাদের নিরাপত্তার জন্য মিছিল করছে আর তাদেরকে আপনি অ্যাটাক করছেন!”

ঢাকা মোট্রেপলিটন পুলিশের উপকমিশনার(মিডিয়া) মো. তালেবুর রহমানের বক্তব্য অবশ্য একেবারে অন্যরকম৷ তার দাবি, ” আন্দোলকারীরাই আগে পুলিশের ওপর হামলা করেছে, পুলিশ করেনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ভিডিও এবং ছবি আছে। এই মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত হবে।” তবে মামলায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলেও জানান তিনি।

আমাদের পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা: মেঘমল্লার

পুলিশ কখন কতটা সক্রিয়?

সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশকে বেশ কিছু আন্দোলন দমনে মারমুখি হতে দেখা গেছে। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়করণের দাবিতে বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলন লঠিপেটা ও জলকামান ছুড়ে পণ্ড করে দেয় পুলিশ। একই দিনে আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ওপরও পুলিশ হামলা করে, তাদের লাঠিপেটা করে। পাঁচ দফা দাবি আদায়ে সচিবালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন তারা।

এর আগে গত ২৬ জানুয়ারি শাহবাগে অবস্থান নেয়া ইবতেদায়ী শিক্ষকদের লাঠিপেটা করে, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে সরিয়ে দেয়া হয়। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সুপারিশের আলোকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণের ঘোষণাসহ ছয় দফা দাবিতে সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন। পরে সেখান থেকে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের দিকে রওনা হয়েছিলেন তারা।

কিন্তু এসব ক্ষেত্রে সক্রিয়তা দেখা গেলেও ‘মব জাস্টিস’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া কিছু গণহামলার ঘটনায় পুলিশকে পুরোপুরি নিস্ত্রিয় দেখা যায়। পুলিশের সামনেই গুলশানে বাড়ি লুটপাট করা হয় ‘ছাত্র-জনতা’ পরিচয়ে। পরে ঘটনা্টির সমালোচনা হলে অবশ্য পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। মোহাম্মদপুরে সিগারেট খাওয়ার অজুহাতে দুই নারীর ওপর হামলার ঘটনাতেও পুলিশ প্রথমে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তখন উল্টো দুই নারীকেই আটক করা হয়। এছাড়া দুইবার ছাত্রদের ‘নামে’ দেশের সর্বোচ্চ আদালত ঘেরাও হলেও পুলিশ ছিল দর্শকের ভূমিকায়।‘ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ ব্যানারে মঙ্গলবারের কর্মসূচিকে ঘিরে পুলিশ যাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে, তাদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বুধবার কিছু তরুণ মিছিল ও রাস্তা অবরোধ করে৷ সেখানে আবার পুলিশ ছিল নির্বিকার।

আজ (বৃহস্পতিবার) ডিএমপি রাজধানীতে বাংলাদেশ সচিবালয়, প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা ও পাশের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, শাহবাগ মোড়, কাকরাইল মোড় ও মিন্টো রোডে সব ধরনের সভা-সমাবেশ, গণজমায়েত, মিছিল ও শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পুলিশের আইজি বাহারুল আলম গাজীপুরে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, “দাবি আদায়ের নামে কেউ রাস্তা অবরোধ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

পুুলিশের মধ্যে বৈষম্যমূলক আচরণ বাড়ছে: নূর

তিনি আরো বলেন, “আপনারা পুলিশকে সহায়তা করুন, পুলিশের কাজের পরিবেশ তৈরি করুন। পুলিশকে প্রতিপক্ষ ভাববেন না, পুলিশকে আক্রমণ করবেন না। আমাদেরকে দেশের সেবা করার সুযোগ দিন।”

মানবাধিকার কর্মী নূর খান বলেন, ” পুলিশের মধ্যে বৈষম্যমূলক আচরণ বাড়ছে। তারা ধর্ষণের প্রবিাদকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করে। আর যারা ‘মব জাস্টিস’ (গণহামলা) করে, তাদের ছাড় দেয়। এখন অসহিষ্ণু আচরণ দেখা যাচ্ছে। এতে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সভা-সমাবেশ, প্রতিবাদ বন্ধ করার প্রচেষ্টা কোনো ভালো লক্ষণ নয়। এটা অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থা।”

তিনি মনে করেন, “পুলিশ পিক অ্যান্ড চুজ করছে। কোথাও তারা গরম আবার কোথাও তারা নরম। প্রধান উপদেষ্টার যারা ‘নিয়োগকর্তা’, তারা কিছু করলে পুলিশ ব্যবস্থা নেয় না।”

পুলিশের সাম্প্রতিক ভূমিকা সম্পর্কে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, “পুলিশ আন্দোলন দমন করবে, না ইস্যুটাকে অ্যাড্রেস করবে-এটা হলো আসল কথা। এখন তারা ধর্ষণ থামানোয় গুরুত্ব না দিয়ে যারা ধর্ষক ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে, তাদের দমনে নেমেছে- তাদের বিরুদ্ধে মামলা করছে।”

“তারা এই আন্দোলনকে দমনের জন্য মাঠে নামলেও কখনো কখনো তাদের নির্বিকার বা কোনো কোনো আন্দোলনে সহায়তা করতে দেখি। কোনো কোনো ঘটনায় তো মনে হয় তারাই যেন প্ররোচণা দিয়ে আন্দোলন করায়,” বলেন তিনি।

তবে উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. তালেবুর রহমান দাবি করেন, “পুলিশ কোনো বৈষম্যমূলক আচরণ করছে না। পুলিশকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হয়। সেটা করতে গেলে অনেকের মনে হতে পারে, এটা কেন করল? জনগণের জন্য যেটা সর্বোত্তম হয়, আমরা সেটা করি। কেউ যাতে রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলনের নামে জনদুর্ভোগ করতে না পারে, আমরা সেটা নিয়ে কাজ করছি।”

আরও খবর