বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ৭ মার্চ ২০২৫ , ৪:৫৯:৩৯
”প্রতিটি সংস্কার কমিশনের সুনির্দিষ্ট সুপারিশে বহুমুখী নির্বাচনি প্রশ্নপত্রের (এমসিকিউ) মত টিক চিহ্ন দিতে বলা হয়েছে,” বলেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক।
রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে সংস্কার কমিশনগুলোর সুপারিশের বিষয়ে মতামত পাওয়ার পরই আলোচনা শুরু করবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
এজন্য ১৩ মার্চের মধ্যে দলগুলোকে সুনির্দিষ্ট মতামত পাঠাতে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করেছেন কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ।
এতে বলা হয়েছে, দলগুলোর মতামত পাওয়ার পর আলোচনা সূচনা করা হবে।
বিএনপি, জামায়াতসহ সংশ্লিষ্টদলগুলোর কাছে চিঠি পৌঁছেছে বলে সংবাদমাধ্যমে তথ্য এসেছে।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বৃহস্পতিবার কমিশনের চিঠিসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পাওয়ার তথ্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “আমার কাছে চিঠি এসেছে। প্রতিটি সংস্কার কমিশনের সুনির্দিষ্ট সুপারিশে এমসিকিউ প্রশ্নপত্রের মত টিক চিহ্ন দেওয়ার বিষয় রয়েছে। সার্বিক বিষয়ে আমরা দলীয় ফোরামে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।”
ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশের সারসংক্ষেপে প্রতিটি পয়েন্টে একমত, একমত নই, আংশিকভাবে একমত- এ ধরনের উত্তর দেখে উষ্মা প্রকাশ করেছেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক। বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, সংস্কার কমিশনের কয়েকশ’ সুপারিশে এমসিকিউ পদ্ধতির বিষয়টি একটা সময়ক্ষেপন করা। সংলাপের মাধ্যমে বিষয়গুলো হলে ভালো হত।
”আমরা আলোচনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। সংলাপের জন্য চিঠি আসবে ভেবেছিলাম। এরমধ্যে টিক চিহ্ন দিয়ে মতামত জানানোর জন্য চিঠি এল। এখন মতামতের বিষয়ে নিজেদের দলীয় ফোরামে ও বাম গণতান্ত্রিক জোটে আলোচনা করা হবে। “
গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ স্প্রেডশিটে, মতামত টিক চিহ্নে
সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, পুলিশ, দুর্নীতি দমন কমিশন ও বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন দলগুলোর কাছে পাঠানো হয়।
প্রতিবেদনগুলোর গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ স্প্রেডশিট আকারে দেওয়া হয়েছে।
এর বাইরে সংস্কার কমিশনের অন্যান্য সুপারিশের বিষয়ে দলের মতামত থাকলে কমিশন সেটিও গ্রহণ করবে বলে চিঠিতে তুলে ধরেছে।
আগামী ১৩ মার্চের মধ্যে সুপারিশের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মতামত চেয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে, “আপনার দলের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট মতামত প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরবর্তীতে কমিশন আলোচনার সূচনা করবে।”
>> চিঠির সঙ্গে ছয়টি সংস্কার কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলোর সারসংক্ষেপ স্প্রেডশিটে ছক আকারে দেওয়া হয়েছে।
>> দলের নাম ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম ও পদবি থাকবে।
>> প্রতিটি সুপারিশের ক্ষেত্রে মতামত (তিনটির মধ্যে যেকোনো একটিতে টিক চিহ্ন) চাওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো- ‘একমত’, ‘একমত নই’ এবং ‘আংশিকভাবে একমত’।
>> সংস্কারের সময়কাল ও বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে ছয়টির মধ্যে যে কোনো একটি টিক চিহ্ন দিতে হবে।
এগুলো হলো-‘নির্বাচনের আগে অধ্যাদেশের মাধ্যমে’, ‘নির্বাচনের আগে গণভোটের মাধ্যমে’, ‘নির্বাচনের সময় গণভোটের মাধ্যমে’, ‘গণপরিষদের মাধ্যমে’ ‘নির্বাচনের পরে সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে’ এবং ‘গণপরিষদ ও আইনসভা হিসেবে নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমে’।
এর বাইরে প্রতিটি সুপারিশের বিষয়ে ‘মন্তব্য’ করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি কমিশন কাজ শুরু করে।
কমিশনে সহসভাপতি হিসেবে রয়েছেন সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান আলী রীয়াজ। অন্য সদস্যরা হলেন-জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন প্রধান আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী, পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রধান সফর রাজ হোসেন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সদস্য বিচারপতি এমদাদুল হক এবং দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশনের প্রধান ইফতেখারুজ্জামান।