১২ মার্চ ২০২৫ , ১১:৪৮:১২
নুক, গ্রিনল্যান্ড: মধ্য-ডানপন্থী বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি গ্রিনল্যান্ডের সাধারণ নির্বাচনে চমকপ্রদ জয় পেয়েছে। দলটি ধীরে ধীরে ডেনমার্ক থেকে স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেয়, যা প্রায় ৩০% ভোট পেয়ে জয়লাভের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ডেমোক্র্যাট নেতা জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন বলেন, “বাইরের এই আগ্রহের সময়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন। তাই আমরা সকল দলের সঙ্গে আলোচনা করবো।” দলটি এখন জোট গঠনের জন্য অন্যান্য দলের সঙ্গে আলোচনায় বসবে।
বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড ৩০০ বছর ধরে ডেনমার্কের অধীনে থাকলেও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে স্বায়ত্তশাসন ভোগ করে। তবে পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতির নিয়ন্ত্রণ এখনও কোপেনহেগেনের হাতে।
নির্বাচনে অংশ নেওয়া ছয়টি প্রধান দলের মধ্যে পাঁচটি স্বাধীনতার পক্ষে থাকলেও, তারা এই প্রক্রিয়ার গতি নিয়ে ভিন্ন মত পোষণ করে। নালেরাক, একটি আরও কট্টর স্বাধীনতাপন্থী দল, প্রায় ২৫% ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। দলটি অবিলম্বে স্বাধীনতা প্রক্রিয়া শুরু এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়তে চায়।
গ্রিনল্যান্ডের অন্যতম জনপ্রিয় তরুণ রাজনীতিবিদ আকি-মাতিলদা হোয়েগ-ড্যাম ক্ষমতাসীন দল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ফলে নালেরাকের প্রতি সমর্থন বেড়েছে।
বর্তমান ক্ষমতাসীন দুটি দল, ইনুইট আতাকাতিগিট (আইএ) ও সিউমুট, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রী মুট বি এগেদের জন্য বড় ধাক্কা।
নির্বাচনে ৫৭,০০০ জনসংখ্যার মধ্যে ৪০,০০০-এর বেশি ভোটার ৩১ সদস্যের সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেন। বিশাল দ্বীপজুড়ে ৭২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
গ্রিনল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মারিয়া অ্যাক্রেন বলেন, “ডেমোক্র্যাটদের সরকার গঠন করতে হলে জোটসঙ্গী প্রয়োজন। এটি নালেরাক বা ইনুইট আতাকাতিগিট হতে পারে।”
ট্রাম্পের নজর ও গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ
গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান ও বিশাল খনিজ সম্পদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। ২০১৯ সালে তিনি দ্বীপটি কেনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। জানুয়ারিতে পুনরায় ক্ষমতা গ্রহণের পর, তিনি বলেছেন, “জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের গ্রিনল্যান্ড দরকার। যে কোনো উপায়ে এটি আমরা অর্জন করবো।”
তবে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের নেতারা বারবার এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। ডেমোক্র্যাট নেতা নিলসেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে। তিনি বলেন, “বিশ্বে বড় বড় পরিবর্তন আসছে, আমাদের এক কণ্ঠে কথা বলা উচিত।”
গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন রাজনৈতিক সমঝোতার দিকেই নজর থাকবে সবার।